ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

স্বপ্ন দেখে দেহের রং পরিবর্তন করে ঘুমন্ত অক্টোপাস!

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ০৭, ২০১৯ ০৯:৫৪
৬১ বার পঠিত

অক্টোপাস অনেক বুদ্ধিমান প্রাণী। তাদের একাধিক মস্তিষ্ক, তিনটি হৃদপিণ্ড থাকে এবং তারা মানুষকে চিনতে পারে। সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ডেভিড শেল দেখেছেন কীভাবে অক্টোপাস ঘুমের মধ্যে তার দেহের রং পরিবর্তন করে।

ডেভিড শেল একটি ভিডিও দেখিয়ে বলেন, ভিডিওটি দেখলে তার দৈহিক পরিবর্তন আপনি বর্ণনা করতে পারবেন এবং তার স্বপ্নের বর্ণনা দিতে পারবেন। এখানে সে ঘুমাচ্ছে, সে একটি কাঁকড়া দেখেছে এবং তার রং একটু পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। এরপর সে পুরোপুরি কালো হয়ে গেলো।

এরপর থেকে একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে যে অক্টোপাস আসলে স্বপ্ন দেখতে পারে কি-না। বিজ্ঞানীরা এনিয়ে বিতর্ক করছেন।

পৃথিবীর বিষ্ময়কর সব প্রাণীর মধ্যে অক্টোপাস অন্যতম। এর আটটি পা থাকলেও শরীরে নেই কোনো হাড়। অক্টোপাসের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তারা যেকোনো সময় শরীরের রং পরিবর্তন করতে পারে।

তারা নিজেকে শিকারির হাত থেকে লুকানোর চেষ্টা করতে রং পরিবর্তন করে যা ডুবুরিদের ক্যামেরাতেও সহজে ধরা পড়ে না। সমুদ্রে থাকা সম্ভাব্য শিকারীদের কাছ থেকে বাঁচার জন্য এরা রং পরিবর্তনের মাধ্যমে আশেপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। অক্টোপাসের বৈশিষ্ট্য হলো এদের রক্তের রং নীল।

রং পরিবর্তনের ফলে অক্টোপাস সমুদ্রতলের বালি, পাথর, উদ্ভিদ ইত্যাদির সাথে এমনভাবে মিশে যেতে পারে যে হাঙ্গর, ইল, ফিন (অক্টোপাসের প্রধান শত্রু) খুব কাছ থেকেও একে সনাক্ত করতে পারে না।

এছাড়া, অক্টোপাসের দেহে কালির থলে থাকে যার সাহায্যে অক্টোপাস নিজের দেহ থেকে ঘন কালো কালি ছুঁড়ে দিতে পারে যা শত্রুকে কিছুক্ষণের জন্য অন্ধ করে দেয়। এ কালির আরেকটি গুণ হচ্ছে এটি শত্রুর ঘ্রাণশক্তিও কিছুক্ষণের জন্য নষ্ট করে দেয়। ফলে অক্টোপাসটি পালিয়ে যেতে পারে।

হাওয়াইয়ের হনোলুলুতে ৫২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বলেন, সমুদ্র তলদেশে অক্টোপাস ছদ্মবেশ ধরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। এদের দেহে ক্রোমোফারস নামে এক ধরনের কোষ থাকে যা এদের দেহের রং এবং গঠন বদলাতে সাহায্য করে।

সমুদ্র তলদেশের জগৎ নিয়ে এই বৃদ্ধের অন্যরকমের একটি অনুভূতি আছে। তিনি বলেন, এটি সত্যি অবিশ্বাস্য দেখায়, যখন এরা চোখের সামনে ঘুরাঘুরি করে। সমুদ্র তলদেশের সকল প্রাণীই অনেক সুন্দর।

বিবিসি



মন্তব্য