ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ০৬, ২০১৯ ১১:১০
২১০ বার পঠিত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে রবিবার ভোর ৫টার দিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর মধ্য দিয়ে স্পোর্টস ক্লাবের খেলাধুলাকে ধ্বংস করে দিয়ে গড়ে তোলা ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন নিশ্চিত হলো।

এদিকে চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ওই এলাকায় একটি বাড়ি র‌্যাব ঘিরে রাখে। পরে সম্রাটকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাট।

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে যুবলীগ নেতা সম্রাটের নাম আলোচনায় আসে। অভিযানে কয়েকজন নেতা র‍্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন তিনি দৃশ্যমান ছিলেন। ফোনও ধরতেন। কয়েক দিন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়েও অবস্থান করেন। ভূঁইয়া ম্যানশনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সম্রাটের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাঁকে পাহারা দিয়ে রাখছিলেন। সেখানেই সবার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পর অন্য স্থানে যান সম্রাট। এরপর তাঁর অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। গ্রেফতারের মাধ্যমে সেই রহস্যের অবসান ঘটলো।

গত ২২ সেপ্টেম্বর সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে পাঠানো হয়। তাঁর ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, সম্রাটের ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে, তার হিসাব দিতে। এরপর সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিল।

রমরমা ক্যাসিনো ব্যবসার জন্য ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লাব ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। ক্লাবের হলরুম ভর্তি জুয়াড়িরা থাকেন জুয়ায় মত্ত। ক্যাসিনোর নিয়ম অনুযায়ী জুয়া খেলতে গেলে খাবার ফ্রি। প্রায় প্রতিটি ক্লাবে উন্নতমানের খাবার ও মদ-বিয়ার পরিবেশন করা হয়। রাত গভীর হলে ক্যাসিনোতে উঠতি মডেল ও শোবিজ জগতের গ্লামার গার্লরা আসতে শুরু করেন। আকর্ষণীয় মেকআপ আর পাশ্চাত্য পোশাকে হলরুমে এসে আড্ডায় মেতে ওঠেন তারা। গ্লামার গার্লদের উপস্থিতি জুয়াড়িদের মাথা ঘুরিয়ে দেয়। এ সময় তারা মদের নেশায় মাতাল হয়ে আরও বড় বড় টাকার বাজি ধরেন। একপর্যায়ে একরাতেই নিঃস্ব হয়ে যান অনেকে।

জুয়া খেলার জন্য সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে এসব মেশিন ব্যবহৃত হয়। চীন থেকে জুয়া খেলার এসব মেশিন আমদানি করা হচ্ছে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে। একেকটি মেশিনের দাম ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা। মেশিনে প্লাস্টিকের চিপস ব্যবহার করে জুয়া খেলতে হয়। মূলত দ্রুত সময়ে ‘বড় ডিল’ খেলার জন্য ব্যবহৃত হয় এসব মেশিন। প্রতিটি ডিলে বেটিং ধরা হয় ২০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত।



মন্তব্য