ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতেই শুদ্ধি অভিযান

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ০৬, ২০১৯ ০৯:১৯
৪৯ বার পঠিত

দেশের উন্নয়নের জন্য নেয়া অনেক বড় বড় প্রকল্পে বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে। বালিশ ক্রয়, বালিশের কভার, বালিশ নিচতলা থেকে কক্ষে ওঠাতে খরচের নামে দুর্নীতি হয়েছে। দেশের নিচেরতলা থেকে শুরু করে উপরতলা পর্যন্ত শুধু লুট, লুট আর হরিলুট হয়েছে। টিআরের গম লুট, রাস্তার ইট লুট, প্রকল্পের টাকা লুট, জিডিপির টাকা লুট, বড় বড় প্রকল্পে লুটপাট হয়েছে। আর এই ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে সরকার।

রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সারাদেশে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে,তা কোন দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে নয়। বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতির চক্র ভেঙ্গে দিতেই সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। যত বড় প্রভাবশালী হোক, যারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিতে চায়, তারা কেউই ছাড় পাবে না। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন এবং মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফয়েল আহমেদ শনিবার সন্ধ্যার আগে ভোলা সদরের ভেলুমিয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, চলমান অভিযানের মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। কেউ যদি অন্যায় করে তাহলে পার পাবে না। অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকা শহরে যারা ক্যাসিনো চালিয়ে ব্যবসা করত, যারা দুর্নীতিবাজ তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযান শুরু করেছেন।

হাসপাতালের রোগীর বেড আড়ালের জন্য ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম- ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর একটি স্টেথোসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গড়েছে দুর্নীতির নতুন নজির।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পে একটি বালিশের মূল্য ৫৯৫৭ টাকা আর প্রতিটি বালিশ কর্মরতদের ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয় ৭৬০ টাকা। একেকটি বিছানা কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা আর বিছানা উপরে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী প্রকল্পের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি মাসে পান প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার বেতন পান প্রায় ৭৪ হাজার টাকা। রাঁধুনী আর মালীর বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা।

সার্জারি শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিস অব সার্জারি বই গোপালগঞ্জের সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১০ কপি কেনা হয়েছে। এ জন্য পরিশোধ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ৫ হাজার ৫০০ টাকার বই স্বাস্থ্য অধিদফতর কিনেছে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকায়।

এমতাবস্থায় সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে এগুলো হলো একদম দিনে-দুপুরে ডাকাতি কিংবা সিঁদ কেটে চুরি করা ছাড়া কিছুই না। একজন সরকারি কর্মকর্তার এতো বড় সাহস কোথা থেকে আসে! এসব দুর্নীতির কারণে ক্ষমতাসীন দলের জন্য 'রাজনৈতিক মূল্য' অনেক বেশি হতে পারে।



মন্তব্য