ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে আওয়ামী লীগ

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ০৩, ২০১৯ ০৯:৫২
৮৫ বার পঠিত

তৃণমূলে নেতৃত্ব নির্বাচনে অপকর্মে জড়িতদের বাদ দেয়া হবে। দলের যারা অপকর্মে জড়িত তাদের বাদ দিয়েই নেতৃত্ব নির্বাচন করব। এটাও আমাদের একটি উদ্দেশ্য। তৃণমূলের সম্মেলনে অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দলের নেতৃত্বে বসাব না।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এর আগেও তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানকে ‘শেখ হাসিনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জুয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে এই অভিযান সারা দেশে চালানো হবে।‘গুটিকয়েক’ অপরাধীর কারণে পুরো দলের বদনাম মেনে নেওয়া হবে না।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভায় চলমান অভিযানকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানান দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যাতে কেউ ‘কালিমা লেপন’ করতে না পারে সেজন্য অবৈধ ক্যাসিনোর অর্থের সন্ধানসহ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানো জানানো হয়।

ঐ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, অপকর্মকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাদের জন্য এত উন্নয়ন, অর্জন ম্লান হতে পারে না। আমাদের নেত্রী কষ্ট করে, পরিশ্রম করে যে অর্জন করেছেন তা আমাদের গুটিকয়েকের জন্য ম্লান হতে দিতে পারি না। শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করেছেন। দিস ইজ আ ক্রুসেড এগেনস্ট করাপশন।অপকর্মের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এই অ্যাকশন শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা বাংলায় হবে। আজকে গুটিকয়েক অপকর্মকারী, দুর্নামকারী, দুর্নীতিবাজের জন্য গোটা পার্টির বদনাম হতে পারে না। আমরা কি গুটিকয়েকের জন্য গোটা পার্টি এই বদনামের ভাগিদার হব?

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে- তা সারা দেশেই চলবে। যেখানেই দুর্নীতি-অনিয়ম হবে, শুধু যুবলীগ বা ছাত্রলীগের প্রশ্ন নয়; আওয়ামী লীগেরও যারা অনিয়ম দুর্নীতি করবে, তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।উই আর হ্যাপি ইন অ্যাকশন। অন্যায়, অপকর্ম, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে। যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর আগেও হয়েছে। এখনো হবে। অন্যায়-অনিয়ম ও দুর্নীতিতে প্রশাসন বা রাজনীতির কেউ যদি মদদ দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো গডফাদারই ছাড় পাবে না। আগামীতে যারা এসব অপকর্ম করবেন, তাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা। শুধু ছাত্রলীগ বা যুবলীগের নেতারাই নজরদারিতে আছেন তা নয়,মূল দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) ৭৫০ টাকার বালিশ ক্রয়ে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭২০ টাকা। আর বালিশের কভারের দাম ধরা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সম্প্রতি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে দেশকে যে অবস্থানে নিয়ে গেছেন, তা ধরে রাখতে আমাদেরকে অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যায়কারী জনপ্রতিনিধি বা কর্মচারী হোক তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। চলমান অভিযান শুধুমাত্র ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে নয়। যারা দেশের আইন অমান্য করে, আইনের বিরুদ্ধে কাজ করে তাদের সকলের বিরুদ্ধে এই অভিযান। যারা অনৈতিক ব্যবসা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা সবাইকে ধরছি, যাদের বিরুদ্ধে তথ্য পাচ্ছি তাদেরকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইনের চোখে সবাই সমান।

প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা অনেক কষ্টে দেশের জন্য খাটলেও দুর্নীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।



মন্তব্য