ঢাকা - সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ : ৪ আশ্বিন, ১৪২৬

ছাত্রীদের স্নানের ভিডিও করতেন নেতা

নিউজ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ ২২:১২
২১৬ বার পঠিত

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি'র বর্ষীয়াণ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এক কলেজ ছাত্রী। ওই ছাত্রী পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছেন, টানা প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম ১৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে ওই ছাত্রীকে।

পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রী তাঁর ১২ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে পুলিশকে জানিয়েছেন, গত বছর জুন মাসে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ৭৩ বছর বয়সী চিন্ময়ানন্দের। সাহারানপুরের কলেজে ভর্তির আর্জি নিয়ে তিনি চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যেদিন তিনি চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে দেখা করেন, সে দিন 'স্বামীজি' তাঁর কাছ থেকে ফোন নম্বর চেয়ে নেন। তারপর কয়েকেদিনের মধ্যে কলেজে তাঁর ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। যেহেতু তাঁদের পারিবারিক অবস্থা ভাল নয়, তাই কলেজের লাইব্রেরিতে মাসিক পাঁচ হাজার টাকার বেতনের একটা কাজের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন চিন্ময়ানন্দ।

উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে বহুদিনের পোড় খাওয়া নেতা হলেন চিন্ময়ানন্দ। বাজপেয়ী জমানায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন। উত্তরপ্রদেশে তাঁর বেশ কিছু আশ্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

পুলিশের কাছে ছাত্রীটি অভিযোগ করেছেন, গত অক্টোবর মাসে তাঁকে ডেকে চিন্ময়ানন্দ বলেন, বাড়ি থেকে কেন যাতায়াত করবে? হোস্টেলে এসে থাকো। তারপর তিনি কলেজ হোস্টেলে চলে আসেন। কিন্তু এর কয়েক দিন পর আশ্রমে ডেকে তাঁকে একটি ভিডিও দেখান চিন্ময়ানন্দ। তা হলো, হোস্টেলের বাথরুমে ওই ছাত্রীর স্নানের ভিডিও। ছাত্রীটির অভিযোগ, এরপর চিন্ময়ানন্দ তাঁকে বলেন তাঁর সঙ্গে সহবাস করতে, তা না করলে ওই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে ধর্ষণ করার সময় তা ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ছাত্রীটি।

পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, এসব গত জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে থাকে। এক টানা এই যৌন অত্যাচারে বিধ্বস্ত হয়ে তিনি আগস্ট মাসে একটি ফেসবুক ভিডিও পোস্ট করে চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলি করেন এবং হোস্টেল থেকে পালিয়ে যান।

ওই ছাত্রী বলেন, পুলিশের সমস্ত রকম জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তাঁর কাছে হোস্টেলের যত ভিডিও রয়েছে তাও পুলিশের হাতে তুলে দিতে রাজি। কিন্তু অভিযুক্তকে যেন আগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। কেননা সাহারানপুরের জেলা প্রশাসকও তাঁর বাবাকে হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে, ছাত্রীটির এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিন্ময়ানন্দ। তাঁর আইনজীবী ওম সিংহ বলেছেন, গত ২৪ আগস্ট ফেসবুক পোস্টে যখন ওই ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন তখন এই সব কিছু বলেননি। এখন এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।

সূত্র : দ্য ওয়াল



মন্তব্য