ঢাকা - ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯ : ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড পাবেন না দরিদ্ররা

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১৪, ২০১৯ ১৬:০২
৪৭৪ বার পঠিত

নতুন আইন চালুর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় আঘাতটি হানলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে যেসব বৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করতে চাচ্ছেন, কিন্তু অর্থনৈতিক উৎসের অভাব রয়েছে, তাদেরকে করদাতাদের বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে গরিব বৈধ অভিবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করা হচ্ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এই অভিবাসন আইন প্রণয়ন করলেন।

যেসব অতিশয় গরিব অভিবাসী খাবার, আবাসন এবং মেডিকেইডের মত সরকারি সাহায্য নিয়ে একবছরের বেশি সময় ধরে দেশটিতে টিকে আছেন, তাদের ওপর আরোপ হচ্ছে এ নতুন বিধি।

সোমবারই এমন ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। এর আওতায় যে অভিবাসীরা পর্যাপ্ত আয় দেখাতে পারবেন না কিংবা সরকারি সাহায্যর ওপর নির্ভর করবেন; তাদের সাময়িক কিংবা স্থায়ী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।

এমনকী যে অভিবাসীরা ভবিষ্যতে সরকারি সাহায্যের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে সরকার মনে করবে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকাও বন্ধ করা হবে। আর যারা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন; তারা গ্রিন কার্ড কিংবা মার্কিন নাগরিকত্ব পাবেন না।

তবে যে অভিবাসীরা ইতোমধ্যেই গ্রিনকার্ড পেয়ে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না।

প্রতিবছর হাজার হাজার অভিবাসী বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, পরবর্তী সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করেন, নতুন আইনে তাদের টার্গেট বানানো হয়েছে।

অভিবাসীরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের চালিয়ে নিতে পারবেন কিনা, অক্টোবর থেকে চালু হওয়া আইনে সেই পরীক্ষা নেয়া হবে। কাজেই দরিদ্র অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বৈধ হওয়ার মর্যাদা দেয়া হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে কঠোর পরিকল্পনা হচ্ছে এটি।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির দেখভালো করার দায়িত্বে থাকা স্টিফেন মিলার নতুন এই আইনের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের অবশ্যই সামর্থ্যবান হতে হবে।

সন্তানের লাশ নিয়ে অপেক্ষায় কাশ্মীরি বাবা

হাসপাতালের মেঝেতে শুকনো মুখে বসেছিলেন বিলাল মাণ্ডু। ডান হাতে আঁকড়ে রেখেছেন ছোট্ট একটি বাক্স। দুঃখ করে বললেন, ‘আমাদের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা। তবে এমনটা হবে ভাবিনি।’

বাক্সের গায়ে সস্নেহে হাত বুলিয়ে বিড়বিড় করে উঠলেন এই কাশ্মীরি যুবক। জানালেন এখানেই রয়েছে তাদের আদরের সন্তানের দেহ। চারদিন আগে শ্রীনগরের লাল দেদ হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করেন তার স্ত্রী। কার্ফুর কবলে থাকা কাশ্মীরে সেই দুঃসংবাদ পৌঁছায়নি বিলালের বাড়িতে। যেখানে প্রথম নাতি-নাতনির মুখ দেখতে অধীর আগ্রহে বসে আছেন বৃদ্ধ দাদা-দাদি।

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ এবং রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে থেকে উপত্যকার বিভিন্ন জয়গায় দফায় দফায় চলছে কার্ফু। মোবাইল, ল্যান্ড ফোন, ইন্টারনেটসহ যোগাযোগের যাবতীয় মাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই অবস্থায় ৮ আগস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বিলালের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রাজিয়ার। স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে কুপওয়ারার একটি হাসপাতালে যান বিলাল। অর্ধেকের বেশি রাস্তাই পায়ে হেঁটে যেতে হয়েছে। সেখান থেকে রাজিয়াকে শ্রীনগরে নেয়া হয়। সন্তানহারা বিলাল বলেন, ‘এখানে আসতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ততক্ষণে সব শেষ।’

সন্তানের মরদেহ নিয়ে এবার বাড়ি ফিরতে চান বিলাল। তিনি বলেন, ‘বাবা-মা সদ্যোজাত নাতিকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছেন। ওদের হাতে এই মৃতদেহ তুলে দেব কীভাবে? হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া বাড়ি ফেরার উপায় নেই। তাও পাওয়ার জন্য রীতিমতো লড়াই করছি।

একটি নির্দিষ্ট জেলা থেকে রোগী নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স এলে ঘোষণা করা হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ওই জেলার রোগীরা লাইন দেন ওই অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য। শুক্র শনিবার ঈদের তোড়জোড়ের জন্য শ্রীনগরের রাস্তায় হাতেগোনা গাড়ির দেখা মিললেও গ্রামাঞ্চলে এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্তব্ধ। কবে নাগাদ সন্তানের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরা হবে তাও জানেন না বিলাল আর তার স্ত্রী।

২০২৮ সাল থেকে অলিম্পিকে ক্রিকেট!

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ- অলিম্পিক গেমস। ক্রীড়াক্ষেত্রে সারা বিশ্বকে সম্প্রীতির বন্ধনে বেঁধে রাখার এক অনন্য পন্থা। সারা বিশ্ব থেকে কয়েক ডজন ডিসিপ্লিনে কয়েক হাজার বাছাইকৃত অ্যাথলেট নিয়ে চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় অলিম্পিক গেমস। অথচ, বৈশ্বিক এই ক্রীড়া আয়োজনে নেই ক্রিকেট। বছরের পর বছর চেষ্টা করেও অলিম্পিকে ক্রিকেটকে অন্তর্ভূক্ত করা যায়নি।

কেউ বলে আইসিসির কারণেই অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভূক্ত নয়, কেউ বলে অলিম্পিক কমিটিই চায় না সময়সাপেক্ষ এই খেলাটিকে অন্তর্ভূক্ত করতে। কিন্তু টি-টোয়েন্টির এই যুগে ক্রিকেটের সময়টাও অনেক কমে এসেছে। সে কারণেই বেশ কয়েক বছর ধরে জোরালো দাবি উঠছে, অলিম্পিকে ক্রিকেটকে অন্তর্ভূক্ত করার।

শেষ পর্যন্ত সেই দাবিটা সম্ভবত বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসেই অন্তর্ভূক্ত হতে পারে ক্রিকেট। আইসিসিই তেমনটা আশা করছে। এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সভাপতি মাইক গ্যাটিং জানিয়েছেন এ তথ্য।

আইসিসির নতুন প্রধান নির্বাহী মানু সাওনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসে এ ঘোষণা দেন। তিনি নিজেই (মাইক গ্যাটিং) জানিয়েছেন, আইসিসি প্রধান নির্বাহী’ই তাকে জানিয়েছেন এ তথ্য। এমসিসি ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটিকে মানু সাওনিই নিশ্চিত করেছেন, আইসিসি ২০২৮ সালের অলিম্পিকে ক্রিকেটকে অন্তর্ভূক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক দুর এগিয়ে গেছে।

মাইক গ্যাটিং বলেন, ‘আমরা আইসিসি প্রধান নির্বাহী মানু সাওনির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি খুবই আশাবাদী যে, আমরা আগামী ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেটকে অন্তর্ভূক্ত করতে পারবো। এ নিয়েই তারা এখন কাজ করে যাচ্ছেন। এটা সম্ভব হলে, বিশ্বব্যাপি ক্রিকেটের জন্য তা হবে অনেক বড় এক অর্জন এবং ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়ার অনেক বড় এক মাধ্যম এবং এটা হবে দুর্দান্ত একটি বিষয়।’

অলিম্পিকে কিভাবে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি আসর সম্পন্ন করবে আইসিসি? এমন প্রশ্ন উত্থাপন কলে মানু সাওনি জানিয়ে দেন, বিষয়টা খুব বেশি কঠিন হবে না। অলিম্পিক গেমস আয়োজন করতে দুই সপ্তাহের মত সময় লাগে। প্রতি চার বছর পরপর আয়োজিত এই গেমসে ক্রিকেটের আসরটাকেও সম্পন্ন করে নেয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ। খুবই ভালো সময় এবং এটা যথেষ্ট। আমরা সেভাবেই সূচি তৈরি করবো। প্রথমবার করে ফেলতে পারলে প্রতি চার বছর পরপর এমন আয়োজন করা অসম্ভব কিছু হবে না। অলিম্পিক কমিটি একবার খেলাটাকে গ্রহণ করে নিক! এরপর আমরা এই দুই সপ্তাহের মধ্যেই আসরটা শেষ করার সব ব্যবস্থা করবো।’

ক্রিকেটে সালমান খান ও শাহরুখ খান

ভারতের সিনেমার ইন্ড্রাস্ট্রিতে অন্যতম জনপ্রিয় দুই নাম হলো শাহরুখ খান এবং সালমান খান। তবে দেশের আনাচে কানাচে এ দুইজনের নামের সাথে হুবহু মিল থাকা ক্রিকেটারেরও কমতি। সেসব ক্রিকেটাররা হয়তো দুই বলিউড তারকার মতো অত জনপ্রিয় নয়। তবে তাদের মেধা ও প্রতিভার কোনো কমতি নেই।

তেমনই দুই ক্রিকেটার হলেন তামিল নাড়ুর ২৪ বছর বয়সী শাহরুখ খান ও রাজস্থানের ২০ বছর বয়সী সালমান খান। দুজনের মধ্যে মিল হলো তারা দুজনই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং ডানহাতি অফস্পিনার। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনই নিজেদের মেলে ধরার পথে রয়েছেন।

শাহরুখ ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম নাম লেখান ২০১৪ সালে। তবে মূল দলে সুযোগ পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় ২০১৮ সাল পর্যন্ত। চেন্নাইয়ের চিপাক স্টেডিয়ামে অভিষেক হয় তার। সেদিন স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দেন কেরালার সঙ্গে। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৯২ এবং পরের ইনিংসে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১৫১ রানের জয় পেতে সাহায্য করেন তিনি।

মূলত বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে মিলিয়েই রাখা হয়েছে এ ক্রিকেটার শাহরুখের নাম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে শাহরুখ বলেন, ‘আমার মাসি (খালা) শাহরুখ খানের অনেক বড় ভক্ত। উনি সবসময়ই আমার মাকে বলতেন যে, যদি ছেলে হয় তাহলে যেন শাহরুখ খান নাম রাখেন।’

নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার সম্পর্কে শাহরুখ বলেন, ‘আমি যখন দলে আসি তখন বয়স ছিলো ১৯। তবে মূল দলে খেলতে চার বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। চিপাক স্টেডিয়ামে খেলা সবসময়ই স্বপ্নের মতো ছিলো আমার জন্য। প্রথম ম্যাচটা আমার জন্য স্মরণীয় একটা সময় ছিলো। আমার অভিষেকটাও ছিলো দারুণ। ব্যাট হাতে রান করেছিলাম এবং দলকে জয় পেতে সাহায্য করতে পেরেছিলাম।’

এদিকে শাহরুখের মতো সালমানও ডানহাতি অফস্পিনার এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান হলেও, তার নাম বলিউড তারকার সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়নি। মূলত তার বাবার এ নামটি পছন্দ করতেন বলেই রাখা হয়েছে। ২০ বছর বয়সী সালমান ২০১৬ ও ২০১৭ সালের অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০১৬ সালের নভেম্বরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় সালমানের। ওড়িষ্যার বিপক্ষে অভিষেকেই ২০৩ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্যের কথা জানান দেন এ তরুণ।

ক্রিকেটে আসার গল্প জানিয়ে সালমান বলেন, ‘আট বছর বয়সে আমি ক্রিকেট খেলা শুরু করি। মাঠে গিয়ে দেখতাম আমার চেয়ে বড়রা খেলছেন। আমি সেই সময়টা খুবই উপভোগ করতাম। তখনের উত্তেজনা, স্পৃহা আমাকে ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। এ খেলার প্রতি আমার ভালোবাসা দেখে বাবাও অনেক খুশি হয়েছিলেন। একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ক্রিকেট খেলবো নাকি। আমি এক বাক্যে হ্যাঁ বলে দেই। এরপর থেকে তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।’



মন্তব্য