ঢাকা - আগস্ট ২১, ২০১৯ : ৫ ভাদ্র, ১৪২৬

ছোট্ট কিশোরীর তিক্ত অভিজ্ঞতা

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১২, ২০১৯ ২২:৪৫
৫৩ বার পঠিত

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বাসিন্দা ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ কিশোরী মুনসিমর কউর প্রতিদিনের মতো স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবারও বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিল পার্কে। অন্যদিনের মতোই বন্ধুদের সে ডাকে খেলার জন্য। কিন্তু এ দিন তার একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা হলো। মুনসিমরের চেয়ে বয়সে বড় দু’জন ছেলে এবং দু’মেয়ে এসে তাকে জানায়, ‘আমরা তোকে খেলতে নেব না। তুই আপাতভাবে খুবই বিপজ্জনক। শুনেছি, তুই সন্ত্রাসবাদী।’ একথা শুনে আর স্থির থাকতে পারেনি মুনসিমর।

এদিকে পরের দিন খেলা করতে আবারো মাঠে যায় মুনসিমর। বয়সে ছোট একটি মেয়ের সঙ্গে খেলাও করে। কিন্তু সেখানেও হয় আরেক অভিজ্ঞতা। মেয়েটির মা তাকে ফোন করে বলে, মুনসিমরের সঙ্গে খেলার দরকার নেই। সে যেন বাড়ি ফিরে যায়।

মুনসিমরের সম্প্রদায়কে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে দেগে দেওয়ায় অনেক কষ্ট পায়। বন্ধুদের মুখের ওপর কিছু বলতে না পারলেও, বাড়ি ফিরে দশ বছরের মেয়েটি সিদ্ধান্ত নেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে এর প্রতিবাদ জানাবে।

টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তার বাবা। যেখানে মুনসিমর তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়, অবহেলার কথা তুলে ধরেছে। সে বলেছে, সেদিন বন্ধুদের কথাগুলো কীভাবে তার হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও সে মাথা উঁচু করে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরেছিল।

মুনসিমর আরো বলেছে, শিখদের সম্পর্কে সকলের সঠিক ধারণা নেই। তবে তারা যে স্বভাবজাত বেশ যত্নবান এবং সকলকে আপন করে নিতে জানে, এই বার্তা দিতেও ভুলেনি দশ বছরের মেয়েটি।

প্রতিবাদ করলেও উদ্বেগের বিষয় থেকেই যাচ্ছে। বিদেশে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বিদ্বেষের বিষ, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। এমনিতেই নাইন-এলিভেন হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন ‘সন্ত্রাসবাদী’ বনে গিয়েছিলেন প্রশাসনের কাছে। লাদেনের চেহারার সঙ্গে শিখদের দাঁড়ি এবং পাগড়ির মিল থাকায় এই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। পরে তা মিটলেও, লন্ডনবাসীর মধ্যে সেই ভ্রান্ত ধারণা রয়ে গিয়েছে।



মন্তব্য