ঢাকা - আগস্ট ২১, ২০১৯ : ৫ ভাদ্র, ১৪২৬

‘এটি কোনো ঈদ নয়, এটি এবার শোক’

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১২, ২০১৯ ২২:৪৫
২৬ বার পঠিত

উত্তাল কাশ্মীরে শনিবার কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। সোমবার থেকে টানা পাঁচদিন অবরুদ্ধ থাকার ভারত শাসিত কাশ্মীরের মানুষজন গতকাল বিকেলে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলেন। বেশ কিছু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন ঈদের উপহারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। এ সময় তারা বিবিসিকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নান তথ্য জানান।

কোরবানির পশু বেচতে শ্রীনগরের একটি রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক কাশ্মীরি যুবক। কণ্ঠে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে নিয়ে ওই যুবক বলেন, ‘এটি কোনো ঈদ নয়, এটি এবার শোক। গত দুই দিন আমরা তেমন কিছু করিনি। ঈদের পর আমরা ৩৭০ ফিরিয়ে আনবো। এটা কাশ্মীর। এটা আমাদের ভূমি।’

ওই যুবক আরো বলেন, ‘যখনই মুসলমানদের কোনো উৎসব আসে, তখনই কোনো না কোনো গণ্ডগোল তৈরি হয়। ভারতকে বুঝতে হবে, এটা আমাদের জন্য একটি বড় দিন ...এটি আত্মত্যাগের দিন, সুতরাং আত্মত্যাগ করবো। দুদিন পর দেখবেন, এখানে কী হয়।’

ঈদের আগে কাশ্মীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গ্রামের বহু খামারি এবার শহরে গিয়ে কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারছেন না। তারা বিরাট সঙ্কটে পড়েছেন। শ্রীনগরের রাস্তায় একজন খামারি বললেন, ‘এবার কোনো ব্যবসা নেই। আমার মনে হয়না এবার কোনো পশু বিক্রি করতে পারবো। সকাল থেকে না খেয়ে আছি।’

কারফিউ শিথিল করার পর শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকের পাশে বসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলেন কয়েকজন যুবক। ওই যুবকদের একজন বলেন, ‘দুজন মানুষ (নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ) কাশ্মীরকে একটি কারাগার বানানোর সিদ্ধান্ত নিল। কেউই কাশ্মীরিদের সাথে কথা বললো না। এখনও বলছে না...এমনকি নির্বাচিত নেতাদেরও আটকে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মোদি বলছেন তিনি আমাদের উৎসবকে মর্যাদা দেন। কিন্তু তিনি তো মানুষদের ঘরের ভেতর আটকে রেখে তাদের সম্মান করছেন। আমাদের ঘরের ভেতর বসে ঈদ উদযাপন করতে বলা হচ্ছে। বন্ধু-স্বজনদের সাথে দেখা না করতে পারলে সেটা কেমন ঈদ।’

রাগে হতাশায় আরেকজন যুবক বলেন, ‘কাশ্মীরিদের বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের আর কোনো রাস্তা নেই। ছোটো থেকেই এটা দেখছি। কারফিউ, বন্ধ, সেনা অভিযান, কোনো শান্তি নেই। সরকার বন্দুকের নল ধরে সবকিছু করতে পারে। আমাদের জমি নিয়ে নিতে পারে। যা কিছু হচ্ছে সব বন্দুকের জোরে...আমাদের জমি তারা কিনতে পারবে না, ছিনিয়ে নিতে হবে।

পরিস্থিতি কি তাহলে শান্ত হয়ে যাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তরে এক যুবক বলেন, এই শান্তি ঝড়ের আগে তৈরি হওয়া থমথমে পরিস্থিতির মতো। কাশ্মীরে ঝড় আসছে। কী হবে কেউ জানে না। আমরা দীর্ঘ অবরোধের জন্য প্রস্তুত। এটা আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু আমরা কাউকে এই কাশ্মীর নিতে দেব না। এটা আমাদের কাছে বেহেশত এবং এর জন্য আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত।’



মন্তব্য