ঢাকা - ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ : ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬

কাদা ছোড়াছুড়ি উৎসব

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১২, ২০১৯ ০৮:২৮
৭৩ বার পঠিত

বর্ষায় যখন সবাই ব্যস্ত কাদামাটি থেকে গা বাঁচাতে, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার চিত্র পুরাই উল্টো। উপকূলীয় বোরিইয়ং শহরে হয়ে গেল ২২ তম বার্ষিক কাদামাটি ছোড়াছুড়ি উৎসব। যেখানে মনের আনন্দে কাদা মাখামাখি করেন লাখো মানুষ। গোলাকৃতির কাদাময় মঞ্চ। সবাই ব্যস্ত একে অপরের দিকে কাদা ও পানি ছোঁড়াছুড়িতে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় কাদা ছোড়াছুড়ি উৎসবে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।

প্রতি বছরের মত এবারও রাজধানী সিউলের প্রায় ১শ' ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমের উপকূলীয় শহর বোরিইয়ং-এ ঘটা কোরে কাঁদা মাখতে জড়ো হন লাখ লাখ মানুষ।

উৎসবে আসা একজন বলেন, আমি এখানে আমার বন্ধুদের সাথে এসেছি। কাদামাটি ছোঁড়ার খেলা যেমন মনে প্রশান্তি এনে দেয় তেমনি মাটিও ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তাই এ উৎসব আমরা দারুণ উপভোগ করছি।

কেবল দক্ষিণ কোরীয়দের কাছে নয় ব্যতিক্রমী এ উৎসবের আবেদন দিন দিন বাড়ছে পর্যটকদের কাছেও।

এক পর্যটক বলেন, সমুদ্র উপকূলের এ এলাকাটি খুবই সুন্দর। আমি অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রথমবার এখানে এসেছি। এটা আমার দেখা সেরা উৎসব।

উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা কাদা পুল, কর্দমাক্ত স্লাইড ও স্কিং -এর মতো বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ইভেন্টে অংশ নেন। এছাড়া এ উপলক্ষে বডি পেইন্টিং-এর জন্য বানানো হয় রং-বেরং এর কাদা।

আয়োজকরা জানান, কেবল আনন্দ নয় শরীর ও আত্মার শুদ্ধতার জন্যই এ উৎসব উদযাপন করা হয়।

আয়োজক একজন বলেন, এ উৎসব আমাদের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। মাটি ত্বকের জন্যও খুব উপকারী। এখানে আসার জন্য কেউ কাউকে জোর করেনা। সময়টা উপভোগ করতেই সবাই জড়ো হন।

কাদামাটি ছোড়া উৎসবের শুরুর গল্পটা বেশ মজার। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার কাদা দিয়ে তৈরি রূপচর্চার সামগ্রীর গুণাবলি প্রসঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে শুরু হয়েছিল মাড ফেস্টিভ্যালের। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় বার্ষিক উৎসবে। বর্তমানে শুধু কোরিয়া নয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব উদযাপন করা হয়।



মন্তব্য