ঢাকা - অক্টোবর ২২, ২০১৯ : ৬ কার্তিক, ১৪২৬

‘ভেবেছিলাম অন্য সব পুরুষের তুলনায় সে আলাদা'

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১১, ২০১৯ ২০:৪০
৬৯ বার পঠিত

অভিনেত্রী অ্যানা (ছদ্মনাম) নামের এক তরুণী তার থেকে বয়সে বড় এবং সফল আরেকজন অভিনেতার প্রেমে পড়েন। এরপর তার মনে হলো যে জীবনে ‘মিস্টার পারফেক্ট’কে খুঁজে পেয়েছেন। তাই দ্রুতই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তারা। কিন্তু তারপর থেকেই বদলে যেতে শুরু করলো তার বাগদত্তা।

রূপকথার গল্পের মতো তার প্রেম কাহিনি যে অত্যাচারে পরিণত হতে শুরু করেছে সেটা বুঝতে অবশ্য তার কিছু সময় লেগেছিল। এ বিষয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

‘মানুষ মনে করে যে মানসিক নির্যাতন আসলে শারীরিক নির্যাতনের মতো মারাত্মক নয়। কিন্তু আমি বলতে পারি যে এটি জীবনে দাগ কেটে যায়। থমের সাথে আমার প্রেম কাহিনি ছিলো রূপকথার মতো। যা শুধু সিনেমাতেই দেখা যায় ঠিক তেমন।’

আমার ৩০তম জন্মদিনের কয়েক দিন আগে তার সাথে দেখা হয়েছিল। আমি হঠাৎ করেই বুঝতে পেরেছিলাম জীবনের এই পর্যায়েও আমি একা ছিলাম, কোনো বাচ্চা ছিলো না, আর আমার নিজের একটা বাড়িও ছিল না, বলছিলেন অ্যানা।

আমি একটি নাটকে কাজ করতাম। আমার এক সহকর্মী আমাকে বলেছিল যে, সেই রাতের শো দেখতে থম আসবে। থম'কে ১৪ বছর ধরে চিনতো আমার ওই সহকর্মী। এরআগে আরেক জায়গায় একসাথে কাজ করেছে তারা। আর আমার সবেমাত্র একটি সম্পর্ক ভেঙেছে। আমি ভাবলাম যে, থম দেখতে বেশ সুন্দর। তাছাড়া আমার সহকর্মী আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, স্থায়ী সম্পর্কের জন্য থম ভালো ছেলে।

সেদিনই আমরা ফোন নম্বর বদল করি। আমি দেখলাম যে, ওই রাতে শো দেখার পর থেকেই টুইটারে সে আমাকে ফলো করছে। পরে অবশ্য বুঝতে পেরেছিলাম যে, কাউকে ভালো লাগলে শুরুতেই এই কাজটি করতো থম। যাই হোক কিছুদিন পর আমরা কফি খেতে গিয়ে দেখা করলাম। সে বেশ ভালোই ছিলো। আমি ভাবলাম, "বাহ, বেশ ভালোতে।"

এরপর শুরু হলো মেসেজ আদান-প্রদান। এখন মনে হয় যে, সেটা আসলে আমার জন্য একটা বড় সতর্ক বার্তা ছিল। আমি দিনে কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০টি মেসেজ পেতাম। যার মধ্যে বড় বড় মেসেজও ছিল। সে আমাকে একবার বলেই বসলো যে, ‘আমি তোমাকে অনেক লম্বা মেসেজ পাঠাই আর তুমি তার জবাব মাত্র এক লাইনে দাও কেন?’ আমি আসলে আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। আর আমার মনে হয় যে, এতো মেসেজের জবাব দিতে প্রায় সবাই হাঁপিয়েই উঠবে।

দ্বিতীয় দিন একসাথে দুপুরের খাবারের পর সে আমাকে বলল যে, সে বুঝতে পেরেছে যে সে আমাকে ভালবাসে। সে আমার সাথে দেখা করতে আসতো, রাতের খাবারের জন্য বাইরে নিয়ে যেতো এবং আমার ব্যক্তিগত জীবন বিশেষ করে আমার ছোটবেলা ও পরিবার নিয়ে বেশ আগ্রহ দেখাতো। আমার মনে হতে লাগলো যে, অন্য সব পুরুষের তুলনায় সে আসলেই আলাদা। আমাদের দেখা হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় আমার জন্মদিন ছিলো। আমি তাকে নিমন্ত্রণ করলাম। কিন্তু সে আমাকে বলল যে, সে আসবে না। কারণ সে চায় যে আমি আমার বন্ধুদের সাথে সময় কাটাই।

আমার মনে হল যে, সে আমার ব্যক্তিগত সময় কাটানোর বিষয়ে শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে তার। তার সাথে দেখা হওয়ার পর আমার মনে হল যে, আমি একজন পুরুষের মধ্যে যে গুণগুলো খুঁজতাম সেসবই তার মধ্যে রয়েছে। সে ছিল দয়ালু এবং কোনো ধরনের তাড়না ছাড়াই সেই কাজগুলো আমার জন্য করতো যা আমি আমার আগের ছেলে বন্ধুদের জন্য করতাম অথচ তারা তাতে কোনো পাত্তাই দিতো না।

তার এসব গুণ আমাকে তার দিকে টানছিল, এমন একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখিয়েছিল যা থেকে আমি কখনো বের হতে চাইতাম না। এটা অনেকটা প্রথমবার মাদক নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা। মাদক নিলে প্রথম দিন যে অনুভূতি হয়, সেই অনুভূতির খোঁজে মাদকে আসক্ত হয়ে যাওয়ার পরও যা কখনো মেলে না। সে ছিলো এমনই একজন। শেষমেশ নিজেকে আসক্ত একজন হিসেবে আবিষ্কার করলাম আমি। আমার সবসময় মনে হতো যে, আমাদের সম্পর্ক আবার আগের মতো হয়ে যাবে যখন আমরা খুব মজা করতাম। আমার জন্মদিনের দুই দিন পর, আমি তার বাসায় রাত কাটাই আর প্রথমবারের মতো আমরা একসাথে ঘুমাই।

সে রাতে সে আমার সাথে চাইলেই অনেক কিছু করতে পারতো, কিন্তু সে আমাকে জোর করেনি। আমি ভাবলাম যে সে আসলেই একজন মহান মানুষ। পরের দিন সকালে সে আমাকে তার বান্ধবী হওয়ার প্রস্তাব করলো। আমি রাজি হয়ে গেলাম।

সেদিনই সে আমাকে অনেক কথা বলল যে, তার সাথে আমি কীভাবে থাকবো, গণমাধ্যম আমার বিষয়ে এখন অনেক আগ্রহ দেখাবে এবং তার অবস্থানের কারণে মানুষ আমার কাছে তার সম্পর্কে অনেক বাজে কথা বলবে-এমন আরো অনেক কিছু।

তারপর সে জানতে চাইলো যে, উইকিপিডিয়ায় তার সম্পর্কে আমি পড়েছি কিনা, কারণ তার কাজ সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানতাম না এবং সে চাইতো যে, আমার সেগুলো জানা উচিত। আমি বললাম, ‘তুমি তো আমার সামনেই বসে আছে। তাই তোমার কাছ থেকেই আমি তোমার সম্পর্কে জানবো।’

কিছুদিন পর সে আমাকে বলল যে, সে আমাকে নিয়ে অনেক ভেবেছে এবং আমার সাবেক ছেলে বন্ধু এবং আমার অতীত নিয়ে সে ঈর্ষা বোধ করছে। সে আমাকে বলল যে, তার নিজেকে নিয়ে কাজ করতে চায় এবং এ সময়ে তার সাথে যাতে আমি আমার সাবেক ছেলে বন্ধুদের নিয়ে কথা না বলি।

আমার মনে হচ্ছিলো যে, সে আসলে সৎ এবং সবকিছু সরাসরি বলতে পছন্দ করে। তাই আমি রাজি হয়ে যাই। পরের দিন সকালে কাজে যাওয়ার আগে পার্কে দেখা করি আমরা। সে আমাকে বলে যে, আমার সাথে কাটানো সেই রাতের কথা খুব মনে পড়ে তার। আমি বললাম যে আমারও খুব মনে পড়ে। তখন সে আমাকে বলল যে, আমি যেন তার সাথে বাস করতে শুরু করি। এটা ছিলো তার সাথে পরিচয়ের পর তৃতীয় সপ্তাহ। আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে।’

শুরুর দিকে, সকাল বেলা উঠেই আমার জন্য বিছানতেই কফি, কেক আর ফুল নিয়ে আসতো। আগেই কাজে বের হয়ে গেলে ছোট চিঠি দিয়ে যেতো। আর যদি রাস্তায় দেখা হয়ে যেতো তাহলে আমার সাথে এসে কথা বলতো সেটা যত কম সময়ে জন্যই হোক না কেন। সে আমাকে দেখাচ্ছিল যে, সে আসলে কতটা 'পারফেক্ট'।

কয়েক দিন পর আমার এক বন্ধু আমাকে বলল যে, কয়েক বছর আগে থম তার এক বন্ধুকে আপত্তিকর ইমেইল পাঠাতো। সে আমাকে হুঁশিয়ার থাকতে বলেছিল, কারণ সে জানতো যে থম আসলে ভালো কেউ নয়। আমার মনে হল, আমি যে থমকে জানি তার সাথে এসব অভিযোগ যায় না।

আমি যখন তাকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম তখন সে কসম কেটে সেগুলো অস্বীকার করলো এবং খুব দ্রুত কথা বলার বিষয় বদলে ফেললো। তার পরিবারকে অবহেলা করার জন্য সে আমার ওপর দোষ চাপাতে শুরু করলো। সে অভিযোগ করলো যে, আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেয়ার কারণে তার পরিবারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারছে না সে।

আমার খারাপ লাগলো আর আমি ক্ষমা চাইলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারি যে, এসব করা হয়েছিল যাতে ওই আপত্তিকর ইমেইলের বিষয়টি আর মনে না পরে আমার। থম আমাকে প্রায়ই উপহার দিতো। তবে সেগুলো সবই হতো তার পছন্দের জিনিস এবং বেশ দামি। মনে হতো যে, সে আমার মধ্যে তার নিজের মাথায় থাকা বান্ধবীর চিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাইতো।

আমার জন্য অনেকগুলো সতর্ক সংকেত ছিলো কিন্তু আমি সেগুলো এড়িয়ে গেছি। সে শুধু আমার সাবেক বন্ধুদের বিষয়েই ঈর্ষান্বিত ছিলো না, এমনকি আমি যদি তাকে আমার কোনো ভালো অভিজ্ঞতার কথা যা আমাকে আনন্দ দিয়েছিল তাহলে, সে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেনি বলে সেগুলো নিয়েও ঈর্ষা হতো তার। আমি যে বিষয়ে কথা বলতে চাইতাম না কেন সে সবসময় সেগুলোর ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ পেতে চাইতো।

আমরা যখন এক সাথে থাকতাম না তখনও তার পাঠানো মেসেজের খুব দ্রুত উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতাম আমি। তবে মনে হতো যে, তাকে ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে ভাবার মতো সময়ও সে আমাকে দিতে চায় না। আমাদের সম্পর্কের দুই মাস পার হওয়ার পর আমাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলো। তবে সে সময় সব কিছু এতো বেশি নিখুঁত ছিলো যে, ঝগড়া হওয়াটা ছিলো খুবই অপ্রত্যাশিত। বিষটি এমন হয়ে দাঁড়ালো যে, আমাদের মধ্যে সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলেও সে কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে সপ্তাহে অন্তত তিন চার বার ঝগড়া বাঁধিয়ে দিতো।

এটা ছিলো ভয়ংকর অভিজ্ঞতা আর আমার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। এসবের মধ্যেও, আমাদের সাক্ষাতের তিন মাস পর সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলো। আমি খুবই আনন্দের সাথে তা গ্রহণ করলাম।

আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সংসার এবং সন্তান নিয়ে কথা বললাম এবং মনে হচ্ছিল যে সব কিছু সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কিন্তু যখন আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি হলাম এবং তার বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করলাম তখন থেকেই আমাদের 'নিখুঁত' পৃথিবীতে সমস্যা শুরু হতে লাগলো।

সে আমাকে ৫ বছর আগের একটি বিয়ের আংটি দিয়েছিল যা আমার পছন্দ ছিলো না। তার পছন্দের পাথর দিয়েই ওই আংটিটি তৈরি করা হয়েছিল। এবং যথারীতি আমার কথা চিন্তা না করে বরং তার মাথায় থাকা তার বান্ধবীর জন্যই সেটি তৈরি করা হয়েছিল।

আমার পেশা তেমন একটা ভালো যাচ্ছিল না এবং আমি দেখলাম যে, সে আসলে চায়ই না যে আমি আমার পেশাটা এগিয়ে নিয়ে যাই। সে আমার সাথে এমনভাবে কথা বলতো যে, যেন আমি জানতামই না যে আমি কি করছি। কিন্তু আসলে অভিনয় শিল্পের সাথে বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্ত ছিলাম আমি আর ভালোও করছিলাম। আমার শুধু তার মতো বাণিজ্যিক সফলতা ছিল না।

আমাদের বাগদানের অনুষ্ঠানের রাতে, সে আমার বন্ধুদের সাথে তেমন মেশেনি। অনুষ্ঠান শেষে তাদের চলে যাওয়ার পর যখন আমরা কার্ডগুলো খুলছিলাম তখন আমি তাকে বললাম, ‘রবির সাথে শান্ত ব্যবহার করার জন্য ধন্যবাদ’-জানিয়ে রাখি এর আগে রবির সাথে আমার সম্পর্ক ছিল।

এর আগে, থম আমার সাথে দু'একবার হয়তো শ্যাম্পেন পান করেছে, কিন্তু ওই দিন সে প্রথমবারের মতো মাতাল না হওয়া পর্যন্ত অ্যালকোহল পান করে। তারপর এক সময় উল্টে পড়ে যায় সে। ঈর্ষা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত যে বই সে কিনেছিল সে সেটা আমার দিকে ছুড়ে মারলো। বারান্দা থেকে মার্বেলের একটা পাত্র তুলে ফেলে দিলো চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলো। সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে শুরু করলো এবং আংটি খুলে ফেলে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলল।

আমার হয়তো বের হয়ে যাওয়া উচিত ছিলো কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল না যে আমি সেটা করতে পারবো। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, এটি সে। ভাবলাম, হয়তো অ্যালকোহলের কারণে এমন করছে। যখন আমরা একসাথে থাকার সিদ্ধান্তকে উদযাপন করছি ঠিক সেসময় তাকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়াটা হয়তো ঠিক হবে না।

পরের সপ্তাহে একদিন বাসায় ফিরে, সে আমাকে বলল যে, আমি তাকে আত্মহত্যা প্রবণ করে তুলছি। সে হাসপাতালে যাওয়ার কথা বললেও পরের দিন কাজের অজুহাতে আর যায়নি। তবে ততদিনে এটা আর অপ্রত্যাশিত ছিল না। যখনই তার সাথে ঝগড়া হতো সে সব সময় আগ্রাসী এবং অপমানজনক কথা বলতো। যা আমাকে অনেক বেশি কষ্ট দিতো। তবে এক সময় সে কান্নাকাটি শুরু করতো। আর তার চোখে আমি ছিলাম দোষী আর সে ছিলো ভুক্তভোগী।

আমি সেসময় তাকে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু তাকে আমি ভয় পেতাম। এটা শারীরিকভাবে আমাকে ভোগাতে শুরু করলো। আমি খেতে পারতাম না। আমি আমার এক বন্ধুকে বলেছিলাম এ বিষয়ে। কিন্তু লজ্জায় আর কাউকে কিছু বলতে পারিনি। কারণ সে আমার বাগদত্তা ছিলো আর আমি চাইতাম না যে, তার সম্পর্কে কেউ খারাপ কিছু ভাবুক।

যাইহোক তার মদ্যপান বাড়তে লাগলো। সেই সাথে বাড়লো তার ঝগড়া, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আর নির্যাতনের মাত্রা। সে খুব চতুরভাবে আমার পরিবারের খুঁটিনাটি বিষয় আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতো। সে বলতো যে, আমার ভাই মাদকাসক্ত, আমার বাবা আমাকে ত্যাগ করেছে এবং আমার মা একজন ভালো মা ছিলেন না ইত্যাদি। তবে পরে সে বলতো যে, এসব কিছুই সে মনে করতে পারছে না।

আমি নিজেকে বোঝাতাম এই বলে যে, সব দম্পতির মধ্যেই ঝগড়া হয়। কোন কিছুই নিখুঁত নয়। তবে মনে হতো যে, সবাই নিজের সঙ্গীকে খারাপ এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলবে না। যদি আমার কোনো বন্ধু আমার বাসায় আসতো আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়তাম যে থম কখন বাসায় ফিরে। আমি জানতাম না যে, কি হবে? আমি চাইতাম না যে, থমের রাগারাগি মানুষ দেখুক।

আর কোনো বন্ধুকে ডেকে এনে আমি থমকেও বিরক্ত করতে চাইতাম না। এটা আমার কাছে নিত্য দিনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, সে আজ কি করবে? আজ আমাকে কি এড়িয়ে চলতে হবে?

দুশ্চিন্তার কারণে সব সময় আমার পেটের ভেতর এক ধরনের অস্বস্তি হতো। সে আমাকে আমার বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইতো। আর এ বিষয়ে সে সফলও হচ্ছিল।

এক সময় আমি চাইতাম যে, আমাদের বিয়েতে যাতে আমার পরিবারের কেউ না থাকে। আমি এখনো জানি না যে, সে কীভাবে আমাকে দিয়ে এটা ভাবাতে পেরেছিল। আমি আমার পেশাটাকে তার সুবিধা মতো সময়ে ঠিক করার চেষ্টা করতাম। যাতে কাজে থাকার সময়ও আমি তার সাথে গিয়ে দেখা করতে পারি।

বাগদানের পর সে আমাকে আমার অতিরিক্ত কাজটি ছেড়ে দিতে বলে যেটি করতে আমি খুব পছন্দ করতাম। সে বলে যে, এর বিনিময়ে সে আমার ব্যাংক হিসাবে দুই হাজার পাউন্ড করে জমা করবে। আমি আমার এক বন্ধুকে এ নিয়ে বলার পর সে আমাকে কাজ ছাড়তে না করে। কারণ আমার নিজেরও কিছু স্বাধীনতা দরকার ছিল।

প্রথমে আমি কাজ না ছাড়লেও সে আমাকে বোঝানোর পর দুই মাস পর ছেড়ে দেই। এখন সে কথা মনে পড়লে পাগল হয়ে যাই আমি। একদিন বড় ধরনের ঝগড়ার পর আমি তাকে বলি যে, আমার মনে হয় আমি কারাগারে আছি আর নিজে নিজে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি আমি। সে আমাকে বলল যে, এটি কাটিয়ে উঠতে আমি কি করতে পারি। আমি তাকে বললাম যে, আমি কিছুদিন আমার বন্ধুদের সাথে থাকতে চাই। সে রেগে গেলো। সে বলল, ‘আমি ভাবতে পারছি না যে তুমি এই সম্পর্কটি ভেঙে দিচ্ছো।’

এখনও থম ভাবে যে, তার নির্যাতনের কারণে আমি তার কাছ থেকে সরে আসিনি বরং তাকে আমি ছেড়ে দিয়েছি। কয়েক সপ্তাহ পর আমি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারি যে, থম তার সাবেক এক প্রেমিকাকে আপত্তিজনক ইমেইল পাঠিয়েছে।

আমি তাকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাই। সে আমাকে বলে যে, ‘সে আসলে বাজে মেয়ে ছিলো যাকে এগুলো বলা যায়।’

আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, সে ওই মেয়েটির কাছে এর জন্য ক্ষমা চেয়েছে কিনা? সে আমাকে বলে যে, তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। অন্য নারীদের প্রতিও তাকে নির্যাতক হিসেবে আবিষ্কার করার পর আমার মনে হল যে, সে আমার সাথে যা করেছে তা সঠিক ছিল না। আর ঠিক তখন আমি তাকে বলেছিলাম যে, ‘তুমি আমাকে হারিয়ে ফেলেছ। আমি তোমার সাথে আর সম্পর্ক রাখতে চাই না। তোমার চিকিৎসা দরকার।’ আমার মনে হয় প্রথমবারের মতো আমি নিজের জন্য কিছু করেছিলাম এবং তাকে জবাব দিয়েছিলাম।

আমি জানতাম যে, তার বাসায় ফেরার আগে আমাকে চলে যেতে হবে, কারণ তার সাথে দেখা হয়ে গেলে সে আমাকে যেকোনোভাবেই হোক থাকতে রাজি করিয়ে ফেলবে। সে আমাকে বলবে যে, আমার এগুলো ঠিক করে ফেলতে পারবো।

আমি জানতাম যে সে ভাবতে পারেনি যে আমি চলে যাবো। তার সাথে দেখা হওয়া থেকে শুরু করে তাকে ছেড়ে আসা পর্যন্ত ছয় মাসও হয়নি। কিন্তু সৌভাগ্যবশত, আমার আশেপাশে ভালো মানুষ ছিলো যারা জানতো যে আমার সাথে কি হচ্ছে এবং কঠিন হলেও তারা আমাকে এসব থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছিল।

আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিলো, আসল আর নকল থমের মধ্যে পার্থক্যের রহস্য খুঁজে বের করা। আমার মনে প্রশ্ন ছিলো যে, প্রথমে যে থমের সাথে আমার দেখা হয়েছিল সে কি শুধু আমাকে আকর্ষণ করার জন্যই ভালো ব্যবহারের অভিনয় করে যাচ্ছিল?

তবে আমাকে মেনে নিতে হয়েছিল যে, নির্যাতিত হয়েও একটি সম্পর্ক চালিয়ে নিচ্ছিলাম আমি। সবশেষে, আমার মনে হতো যে কিছুই আমার নয়, এমনকি আমার চিন্তাও আমার না। থমের সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে শুধু তাকে নিয়েই ভেবেছি আমি। এমনকি এখনো আমি তাকে নিয়েই অনেক সময় ভাবি। আমার খারাপ লাগে যে, আমার ওপর তার এমন নিয়ন্ত্রণ ছিল।

অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করবে না যে, কেউ এ ধরনের ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে এমন কেউ যাকে তারা জানে বলে বিশ্বাস করে। এমনকি আমার ভাইও আমাকে বলতো, "সে তোমার সাথে যেমন ব্যবহার করে সেটাই স্বাভাবিক। তোমাকে শুধু তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে-এটা সব সম্পর্কেই হয়।"

কিন্তু এ নিয়ে কথা বলতে হবে। আমার মনে পড়ে যে আমি গুগলে খুঁজে দেখতাম, "আমি কি একটি খারাপ সম্পর্কে আছি?" আর সব কিছু পড়ে মনে হতো যে, "হ্যাঁ, আমি খারাপ সম্পর্কে আছি।" তবে অনেকে মনে করে যে, নির্যাতন শুধু শারীরিকই হয়।

ওই সম্পর্কটিতে থাকার সময়, আমি বেশ কয়েকবার ওমেন্স এইডের সাথে কথা বলতে চেষ্টা করেছি যে আমি আসলেই আমার সাথে কি হচ্ছে? তবে নির্যাতন 'খুব বেশি খারাপ পর্যায়ে' ছিল না কারণ সে আমাকে মারধর করতো না। কিন্তু ঠিক এ কারণেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এমন কিংবা দমনমূলক আচরণ বিষয়ে আইন তৈরি করা হয়েছে কারণ মানসিক নির্যাতনও এক ধরনের নির্যাতন।

রাগের বশবর্তী হয়ে হয়তো আমি তার নাম প্রকাশ করার কথা ভাবতে পারি, লোক সম্মুখে প্রকাশ করতে পারি যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে নিজেকে যেভাবে জাহির করে সে আসলে সেরকম নয়, কিন্তু আমার মনে হয় যে আমি সেটা পারবো না।

কারণ আমাকে আমার পেশা নিয়ে ভাবতে হবে। এটা করলে মানুষ আমাকে চিরতরে তার সাথে আমাকে জড়িয়ে ফেলবে। আমারও কিছু দোষ আছে কারণ তার আর আমার সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ খোলামেলা ছিলাম আমি।

ভাবতে গেলে তার জন্য আমার খারাপই লাগে। আমি ভাবতে পারি না, যে চিন্তা নিয়ে সে বেঁচে আছে সেটা কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে। তবে এটা অবশ্যই কোন নারীর প্রতি সেটা বর্তমান হোক কিংবা ভবিষ্যৎ- নির্যাতন চালানোকে বৈধতা দিতে পারে না।

মানসিক নির্যাতনের চিহ্ন

মানসিক নির্যাতন বেশিরভাগ সময় ঘরেই ঘটে থাকে। তাই একে চিহ্নিত করা এবং সাথে সাথে এ ধরনের ব্যবহার সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এ ধরনের নির্যাতনের সাধারণত যেসব লক্ষণ বা চিহ্ন দেখা যা তা হল, অতিরিক্ত ভালোবাসা (যখন আপনার সঙ্গী আপনার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহী এবং সম্পর্কের শুরুতেই অনেক বেশি তাড়ার মধ্যে থাকে।), চরম পর্যায়ের ঈর্ষা, অবমাননাকর নামে ডাকা, জিনিসপত্র ভাঙচুর, আপনি করেননি এমন কাজের জন্যও দোষারোপ করা, আপনার অর্জনকে ছোট করে দেখা, নিজের দোষ ঢাকতে আপনার খুঁতকে দায়ী করা।

আপনার যদি মনে হয় যে, আপনি এমন একটি সম্পর্কে রয়েছেন যেখানে আপনার সঙ্গীকে খুশি করতে গিয়ে পরিবার ও অন্যদের অবহেলা করতে হচ্ছে তাহলে আপনি হয়তো একটি খারাপ সম্পর্কে রয়েছেন যেখানে আপনাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, ক্ষমতা কিংবা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে নয়, বলছিলেন ওমেন্স এইডের কো-চিফ এক্সিকিউটিভ অ্যাডিনা ক্লেয়ার।

বিবিসি বাংলা



মন্তব্য