ঢাকা - আগস্ট ২০, ২০১৯ : ৫ ভাদ্র, ১৪২৬

ডিমসহ পাখির বাসা ইঞ্জিনে!

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ২০, ২০১৯ ১৭:২৭
৬৪ বার পঠিত

ইঞ্জিনে ডিমসহ পাখির বাসা দেখে ট্রাক চালু করতে পারেননি তুরস্কের ট্রাকচালক বাহাতিন গুরসি। ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো উড়ে যাওয়া পর্যন্ত ট্রাক নড়বে না, নিয়ে নেন সিদ্ধান্ত। হোক না তা এক মাত্র আয়ের উত্স।

জানা গেছে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছেই একটি ছোট্ট শহরে বাহাতিন গুরসির বাড়ি। ট্রাক চালিয়ে সংসার চলে বাহাতিনের। আশপাশের বড় বড় শহরগুলোতে মাল পরিবহনের কাজ করেন তিনি। এ বছর ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরেন বাহাতিন। বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় রেখে দেন তাঁর ট্রাক। তখনই ট্রাকের ইঞ্জিনে বাসা বাঁধে একটি ছোট্ট মা পাখি। সেই বাসায় পাড়ে ডিমও। অবশ্য পুরো বিষয়টাই অজানা ছিল ট্রাকচালকের। ছুটি শেষে ট্রাক নিয়ে বের হতে গিয়েই প্রথম তিনি বিষয়টি লক্ষ্য করেন। ট্রাকের ইঞ্জিনে দেখেন আস্ত একটি পাখির বাসা। আর তাতে বেশ কয়েকটি ডিম। আশে পাশে মা পাখিটিকেও দেখতে পাননি তিনি। ট্রাক চালু করলেই ইঞ্জিনের ঝাঁকুনিতে ভেঙে যাবে বাসা। নষ্ট হবে ডিম। তখনই মনস্থির করে ফেলেন বাহাতিন। যত দিন না ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উড়ে না যাবে, তিনিও ট্রাক চালাবেন না। তার এই সিদ্ধান্তে সহমত হলো তার পরিবারও।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুরু হলো অপেক্ষা। এলাকার বাচ্চারা যাতে বাসাটির কাছে না যায়, সেই দিকে ছিল তাঁর কড়া নজর। একসময়ে ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। ৪৫ দিন বাদে বাচ্চাগুলো উড়তে শিখলে তাদের নিয়ে বাসা ছেড়ে উড়ে যায় মা পাখি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বাহাতিন। এতদিন ট্রাক না চলায় আয় বন্ধ ছিল তাঁর। ফিরিয়ে দিয়েছেন মোটা টাকার ভাড়ার বায়নাও। তাই এবার ট্রাক নিয়ে আবার বের হতে উত্সাহী তিনি। পাশাপাশি ছোট্ট পাখিগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে পেরেও খুশি তিনি।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে বাহাতিনের এই মানবিকতার কাহিনী প্রকাশ্যে আসে। তার পরেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন বাহতিন। অবশ্য এই নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ তিনি। অনেকদিন পর আবার কাজে ফিরতে পেরে খুশি তিনি। তিনি বলছেন, সোমবার পাখিটা (১৫ জুলাই) বাচ্চাদের নিয়ে উড়ে গেছে। এবার আমি আবার আয় করতে পারব। আমি খুব খুশি।

খুশি তাঁর ছোট মেয়ে আয়সিমাও। পাখিগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে সে বলল, ওরা বাসা বানালো বলেই একসঙ্গে এতদিন বাবাকে কাছে পেলাম। আমি খুব খুশি। বাবাকে আমি ভালবাসি।

সূত্র : জি-নিউজ



মন্তব্য