ঢাকা - জুলাই ২৩, ২০১৯ : ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬

ক্রিস্টাল মেথ বা আইস আসলে কতটা বিপজ্জনক?

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ০৯, ২০১৯ ১৬:২৬
৮৪ বার পঠিত

বাংলাদেশের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের হিসেবে দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ এবং সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী আছে ঢাকা বিভাগে।

যদিও বেসরকারি হিসেবে, মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ লাখের কাছাকাছি বলে দাবি করে বিভিন্ন সংস্থা।

মাদকসেবীর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাই একমত যে দেশটিতে এ মুহূর্তে যে মাদকটি ব্যবহারের শীর্ষে আছে তা হল - ইয়াবা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসেবে, ২০০৮ সালে যে পরিমাণ ইয়াবা ব্যবহার হতো ২০১৬ সালে এর ব্যবহার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছিল।

এর বাইরে হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিল বহুকাল ধরেই এদেশে অনেক মাদকসেবী ব্যবহার করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যে মাদকের নাম শোনা যাচ্ছে তা হলো- ক্রিস্টাল মেথ বা আইস।

ক্রিস্টাল মেথ বা আইস আসলে কী?

ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ আর ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিন।

"তাই এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক। ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মানবদেহে।"

মাদকাসক্তি বিষয়ক গবেষক ও ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমদাদুল হক বলছেন, ইয়াবা বা হেরোইন হল ওপিয়ামের বাইপ্রডাক্ট।

"এগুলো থেকেই প্রসেস করে এখন নতুন নতুন মাদক তৈরি হচ্ছে। আইসও এমন একটি নতুন মাদক।"

তিনি বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের বাইরে থেকেও কিছু লোক এর বিস্তারে কাজ করছে। আফ্রিকান অঞ্চলে এর নেটওয়ার্ক আছে।

বাংলাদেশে কিভাবে পাওয়া গেলো?

গত ২৭শে জুন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ক্রিস্টাল মেথ বা মেথামফেটামাইন সহ নাইজেরীয় একজন নাগরিককে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

তার কাছে এ ধরণের ৫২২ গ্রাম মাদক পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য, নিষিদ্ধ ডার্ক নেটের সদস্য হয়ে তিনি মাদক ব্যবসা শুরু করেছেন এবং আফ্রিকা থেকে এনে তিনি এদেশে বিক্রির চেষ্টা করতেন।

যদিও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশীদ আলম বলছেন, ক্রিস্টাল মেথের কথা প্রথমে তারা জানতে পারেন গত ফেব্রুয়ারিতে।

"২৬শে ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থেকে তিনজনকে মাদকসহ আটকের পর আমরা তার কাছে ৮ গ্রাম আইস পাই। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান ও আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়।"

মিস্টার আলম বলেন, পরে জড়িতরা বিষয়টি স্বীকার করে ও এর মূল হোতা এখন জেলে।

"আমরা সে সময় তাদের ধরতে না পারলে এটি এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারতো।"

শরীরে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে?

গবেষক এমদাদুল হক বলছেন, এটা ইয়াবার মতোই সহজে বহনযোগ্য, তবে ইয়াবার চেয়ে বেশিগুণ ক্ষতিকর শরীরের জন্য।

আর খুরশীদ আলম বলছেন, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস সেবন করলে কারও স্ট্রোক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। আরও অন্যান্য ঝুঁকি তো আছেই।

তবে আইস সেবন করে পরে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন ব্যক্তির খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

ফলে শুধুমাত্র আইস সেবনে বাংলাদেশে কারও শরীরে ঠিক কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার না।

তবে মিস্টার আলম ও এমদাদুল হক দুজনেই বলছেন যে, যেহেতু ইয়াবার মূল উপাদান দিয়েই পূর্ণাঙ্গ আইস তৈরি হয়, সে কারণে ইয়াবায় যেসব লক্ষণ বা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় সেগুলোই অনেক বেশি আকারে দেখা দেয় আইস সেবনের কারণে।

তারা বলেন, মূলত মানসিক ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রভাব ফেলে। কেউ আসক্ত হলে এটি ছাড়া তিনি আর ঘুমাতে পারেন না।

এই মাদক কেউ সেবন করছে এটা কিভাবে বোঝা যাবে?

খুরশীদ আলম বলছেন, একটু লক্ষ্য করলেই আইস সেবনকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

"যেমন ধরুন দ্রুত উত্তেজিত হওয়া। এটি ইয়াবার চেয়ে ৫০/১০০গুন বেশি উত্তেজনা তৈরি করে।"

তিনি জানান, মাদক বিষয়ে যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা এর লক্ষ্মণগুলো সম্পর্কে ধারণা করতে পারেন সহজেই।

নতুন মাদক আসার কারণ কী?

খুরশীদ আলম বলছেন, এটি তরুণদের মধ্যে ছড়াতে পারলে বেশি অর্থ আয় করা সম্ভব হবে - এ কারণেই হয়তো মাদক ব্যবসায়ীরা এটি বাজারে আনার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, যাদের ধরা হয়েছে তারা স্বীকার করেছে যে প্রতি গ্রাম আইস তারা পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করতো।

বিবিসি



মন্তব্য