ঢাকা - সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ : ২ আশ্বিন, ১৪২৬

শিশুকে পকেট খরচ কত দেওয়া উচিত?

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ০৬, ২০১৯ ০৮:১৮
৪১ বার পঠিত

এক গবেষণা বলছে, ৮৪ ভাগ ব্রিটিশ বাবা-মায়েরা সন্তানদের পকেট খরচ হিসেবে নোট এবং কয়েন দিয়ে থাকেন। হাত খরচ হিসেবে যার পরিমাণ অনেক সময় সপ্তাহে ৭ পাউন্ডও হয়।

যাইহোক, ২০২৮ সাল নাগাদ ব্রিটিশ বাবা-মায়েরা সন্তানের জন্য কোন উপহার কেনার ক্ষেত্রে প্রতি ১০টি উৎসবের মাত্র একটিতে নগদ অর্থ ব্যবহার করবেন। বাকিগুলো কেনা হবে কার্ড কিংবা ডিজিটাল দাম পরিশোধের মাধ্যমে।

তাহলে ব্রিটিশ শিশুদের উপর এই অবস্থা কতটা প্রভাব ফেলবে? আজকের প্রজন্মের শিশুরা কি বিলুপ্তির পথে থাকা নগদ অর্থ ব্যবহার শিখবে? নাকি পকেট খরচ দেয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদেরকে নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে? নাকি তাদেরকে আসলে পকেট খরচ দেয়া নিয়েই চিন্তা করতে হবে না?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হাতে মাঝে মাঝে নগদ অর্থ দেয়ার অভ্যাস করলে তাদের মধ্যে অর্থ এবং বাজেট করার শিক্ষা বাড়ে।

এমনকি শিশুরা বলেছে যে, বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে যদি তাদেরকে অর্থ দেয়া হয় তাহলে সেই শিক্ষা আরও ভালো হয়।

নয় বছর বয়সী ইউসুফ জানায়, "কাজের বিনিময়ে টাকা পেলে মনে হয় যে, বড় হলে চাকরি বা কাজ করার বিনিময়ে উপার্জন করতে পারবো আমরা।"

"এখন যেমন দিনে মাত্র ৫০ পেন্স পাই, তখন অবশ্যই আরো বেশি পাবো," সে বলে।

পকেট খরচ নিয়ে করা বিভিন্ন পরিসংখ্যান কখনোই শিশুদের দেয়া পকেট খরচের পরিমাণের বিষয়ে একমত হয় না।

লিয়ডস ব্যাংকিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান দ্য হ্যালিফ্যাক্স ১৯৮৭ সাল থেকে এ ধরণের একটা গবেষণা পরিচালনা করছে। যা এরইমধ্যে বেশ ভালো ভাবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

এই গবেষণাটির সর্বশেষ উপাত্ত বলছে, ব্রিটেনের বিভিন্ন অংশে পকেট খরচ দেয়ার হারে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

অন্যরা মনে করে যে, হ্যালিফ্যাক্সের গবেষণায় পাওয়া সাপ্তাহিক পকেট খরচের হারটা একটু বেশি। তবে সবাই একমত যে, পকেট খরচ হিসেবে এখনো নগদ অর্থই দিতেই বেশি পছন্দ করেন বেশিরভাগ বাবা-মা।

গবেষকরা বলেন যে, অর্থ জমানোর অভ্যাস সাত বছর বয়স থেকেই শুরু হয়ে যায়। শিক্ষক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের করা এক বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকেই শিশুদের বাণিজ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা আহ্বান জানিয়েছেন।

যাই হোক, স্কুলে শিশুদের যাই শিক্ষা দেয়া হোক না কেন, বাসায় কম পরিমাণে নগদ অর্থ দেয়ার অভ্যাস অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। একথা বলেছেন সরকার সমর্থিত কিন্তু স্ব-পরিচালিত মানি এন্ড পেনশন সার্ভিসের কর্মকর্তা সারাহ পোরেটা।

বাবা-মায়ের প্রতি তার উপদেশ:

•যত কম বয়সে সম্ভব শিশুদের নগদ অর্থ দেয়া শুরু করা উচিত

•কত সময় পর পর কিংবা কী পরিমাণ অর্থ দিতে হবে তা নিয়ে চিন্তিত না হওয়া

•যেসব বাবা-মায়ের অর্থ দেয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের উচিত সপ্তাহ শেষে অর্থনৈতিক কাজ সম্পর্কে শিশুদের সাথে আলোচনা করা

আর যেসব বাবা-মায়েরা আর নগদ অর্থ বহন বা ব্যবহার করেন না, বরং অর্থ পরিশোধের কাজে কার্ড বা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন তাদের উদ্দেশ্যে দুই পরামর্শ হল- শুধু শিশুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য হলেও কিছু নগদ অর্থ রাখা উচিত।

"অর্থ দিয়ে আপনি আসলে কি করেন সে বিষয়ে সন্তানদের সাথে কথা বলুন। আপনি যদি কার্ড কিংবা ফোনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন তাহলে সেটি নিয়েও শিশুর সাথে আলোচনা করুন এবং এর সাথে টাকার সম্পর্কটা তাদের কাছে পরিষ্কার করে তুলে ধরুন," দুই সন্তানের একজন মা বলেন।

তবে পকেট খরচ জমানোর একটি জনপ্রিয় স্মার্ট ফোন অ্যাপস অবশ্য আলাদা পরামর্শ দিয়েছে।

"আমরা অর্থ যেভাবে ব্যবহার করি তা আগের তুলনায় বদলে গেছে। পকেট খরচের ধরণও বদলে যাচ্ছে। এখন আমরা একটা বোতাম টিপেই দ্রব্যাদির দাম পরিশোধ করতে পারি," স্মার্ট ফোন অ্যাপস রুস্টার মানির প্রধান নির্বাহী এবং দুই সন্তানের পিতা উইল কারমাইকেল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, "আগে পকেট মানি একটি পাত্রে জমা হতো এবং ঘরেই থাকতো। আমরা নিয়মিত কয়েন ফেলে সেটাকে বাড়তে দেখতাম। আর একদিন মিষ্টির দোকানে নিয়ে সেগুলো খরচ করতাম। তবে সেদিন আর নেই।"

"এখন এই পকেট খরচ দিয়ে কেউ চাইলে ভিডিও গেম খেলতে পারে। কিংবা কোন অনলাইন শপ থেকে তার পছন্দের দ্রব্য বা সেবা নিতে পারে।"

"পকেট খরচকে আমরা অনলাইনে নিয়ে এসেছি এবং একে আরো বেশি ব্যবহার উপযোগী করছি," তিনি বলেন।

একটি অনলাইন রিওয়ার্ড চার্টের মাধ্যমে এই অ্যাপটি চার বছর বয়স থেকে শুরু করে কিশোররাও ব্যবহার করতে পারবে। এটা ব্যবহারকারীদের অর্থ জমানোর লক্ষ্য ঠিক করে দেয়। অ্যাপটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে লেগো, ফোন কিংবা অবসর যাপনের খরচ জমানোর লক্ষ্য।

একইভাবে, এর সাহায্যে প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে খরচ করারও সুযোগ রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এই পকেট খরচের অর্থের একটা বড় অংশ ব্যয় হয় মিষ্টি এবং বই কেনায়। এছাড়া এর ব্যবহারকারীরা চাইলে দাতব্য প্রতিষ্ঠানেও অর্থ দান করতে পারেন।

প্রাথমিক ব্যাংকিং

এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হচ্ছে ব্যাংকে হিসাব খোলা। সাত বছর বয়স থেকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ১১ বছর বয়স থেকে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে।

"শিশুদের ব্যাংকিং দুনিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার একটি বড় উপায় এটি। যার মাধ্যমে এটিএম বুথ ব্যবহার করে নগদ উত্তোলন করার প্রক্রিয়াও শিখতে পারে তারা।"

"এছাড়া চুক্তিপত্র ছাড়া পেমেন্ট, কিংবা স্মার্ট ফোন থাকলে মোবাইল পেমেন্ট করাও শেখার সুযোগ পাবে তারা," বলেন ডিফ্যাকটোর ডেটা বিশ্লেষক ব্রিয়ান ব্রাউন।

তিনি বলেন, "এরফলে শিশুদের অর্থ দেয়া আরো সহজ হয়। কিছু কিছু অ্যাকাউন্ট আবার সুদও দিয়ে থাকে। যদিও খুব কম হারে। যার কারণে ছোট বয়স থেকেই সঞ্চয়ের প্রতি ঝুঁকে শিশু-কিশোররা।"

বিবিসি



মন্তব্য