ঢাকা - নভেম্বর ১৮, ২০১৯ : ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬

গলার ভেতর হিজাব পিন সম্পর্কে সতকর্তা কেন জরুরি?

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ০৪, ২০১৯ ১০:৩৬
২৩৪ বার পঠিত

তিনি বলেন, "এই ঘটনা যতই যন্ত্রণাদায়ক ও হৃদয়বিদারক হোক তারপরও মহল্লায় সৌহার্দ্য রক্ষা করতেই হবে।"

"পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধেও কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।"

পুরনো দিল্লির ফতেহপুরী শাহী মসজিদের প্রভাবশালী ইমাম মুফতি মুকাররম আহমেদ আবার জানাচ্ছেন, "প্রায় তিন দশক আগে লালকৃষ্ণ আদভানির রথযাত্রাও কিন্তু এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিল।"

"তখনও কিন্তু আমাদের মসজিদের ওপর ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়েছিল, ইমামসাহেবকে আঘাত করা হয়েছিল ত্রিশূল দিয়ে।"

"তবে আমরা ওই ঘটনায় তেমন কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে আপোস করেছিলাম - কোনও মামলা হয়নি, কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি।"

এবারেও মুসলিমরা প্রয়োজনে মন্দিরের পুনর্নিমাণে সাহায্য করবে বলে জানিয়ে এই মুফতি বিষয়টা আপোসে মিটিয়ে নেওয়ারই আবেদন জানাচ্ছেন।

ড: সুরেখা নাঈমের মতো এই স্থানীয় বাসিন্দারাও একবাক্যে জানাচ্ছেন, এলাকার সম্প্রীতির পরিবেশ যে কোনও মূল্যে রক্ষা করতে হবে।

"চাঁদনি চকের হিন্দু-মুসলিমরা যেভাবে একে অন্যের উৎসবে ও আনন্দে চিরকাল ভাগীদার হয়ে এসেছেন, সেই সংস্কৃতি তারা কিছুতেই নষ্ট হতে দেবেন না", বলছিলেন তিনি।

পাশ থেকে সুধীর ত্রিপাঠীও যোগ করেন, "খুব সম্ভবত বাইরের লোকরা এসেই এই ধরনের অসামাজিক কাজ করে গেছে।"

"কিন্তু আমাদের দুই সম্প্রদায়ের মুরুব্বিরাই একমত, তার জন্য নিজেদের মধ্যেকার এতদিনকার ভালবাসার সম্পর্ক নষ্ট করা চলবে না।"

হাউজ কাজি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোলেও এদিন সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশের প্রধানকে দিল্লির নর্থ ব্লকে মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে তলব করেন।

এর পর থেকেই এলাকায় নতুন করে নানা জল্পনা ও উত্তেজনা ছড়াতে থাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্রিফ করে আসার পর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পটনায়ক অবশ্য জানান, "পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।"

"আমরা এর মধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকিদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে", সংবাদমাধ্যমকে বলেন তিনি।

তবে দিল্লির ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চাঁদনি চকে বুধবারও সব দোকানপাট খোলেনি।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার রেশ সেখানে যে এখনও পরিস্থিতি থমথমে করে রেখেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

বিবিসি



মন্তব্য