ঢাকা - সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ : ২ আশ্বিন, ১৪২৬

শিঙ্গাড়া বেচেই কোটিপতি

নিউজ ডেস্ক
জুন ২৬, ২০১৯ ০৯:৪২
১৩২ বার পঠিত

ভারতের আলিগড়ে ঘিঞ্জি গলির এক শিঙ্গাড়া বিক্রেতার দোকানে অভিযান চালিয়েছে দেশটির আয়কর অধিদফতর। অভিযোগ বছরে কোটি টাকার ওপরে শিঙ্গাড়া বিক্রি করেন এই দোকানের মালিক। কিন্তু কোনো ধরনের আয়কর দেন না।

ভারতীয় একটি দৈনিক বলছে, আলিগড়ের মুকেশ কচুরিওয়ালাকে এক নামে সবাই চেনেন। সিমা সিনেমা হলের কাছে গলির ভেতরে ছোট্ট দোকান। সকাল থেকেই তেলের ছোঁক ছোঁক আওয়াজের সাথেই উপচে পড়ে ভিড়। গরম তেলে কচুরি ও শিঙ্গাড়া ছেড়ে ক্রেতাদের সাথে খোশ গল্পে মাতেন মুকেশ। দিনভর চলে বিক্রি। সেই মুকেশ কচুরির দোকানে কর কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়েছেন।

আয়কর দফতর বলছে, দিনভর কচুরি-শিঙ্গাড়া বেচেই মুকেশের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকা। তবে উৎসব-পার্বণে এই আয় কোটিও ছাড়িয়ে যায়। অথচ এক টাকাও আয়কর দেন না তিনি। জিএসটি রেজিস্ট্রেশনও নেই তার। ছোট্ট দোকানের বিপুল বিক্রির এমন নজির দেখে চোখ রীতিমতো কপালে উঠেছে স্টেট ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর (এসবিআই) কর্মকর্তাদের। ঘিঞ্জি গলির ছোট দোকান থেকে বিপুল আয়ের কথা স্বীকারও করেছেন মুকেশ। তবে এতকিছুর মাঝে নির্বিকার তিনি। কারণ জিএসটি, আয়করের নাম নাকি তিনি শোনেননি কখনো। মুকেশ বলেন, ‘১২ বছর ধরে আমার এই কচুরির দোকান। জিএসটি, আয়কর এসবও যে দিতে হয় সেটা জানতাম না।’

বছরে আয় কত? এসবিআই কর্মকর্তাদের এমন প্রশ্নের মুখে গড়গড় করেই সব খরচপাতি বলে দিয়েছেন মুকেশ। খুঁটিনাটি কিছুই লুকাননি তিনি। বলেছেন, বছরে ৭০ লাখ টাকা আয় একেবারে ধরাবাঁধা। কোনো কোনো সময় সেটি ছাড়িয়ে কোটিতে পৌঁছায়।

আয়কর দফতরের (আলিগড় রেঞ্জ) ডেপুটি কমিশনার রবীন্দ্র পাল সিং বলেন, ৪০ লাখের ওপর আয় হলেই জিএসটি রেজিস্ট্রেশন জরুরি। পাশাপাশি খাবারের ওপর ৫ শতাংশ ট্যাক্স। তার কিছুই দিতেন না মুকেশ। এ দিকে মুকেশ কচুরিওয়ালার মতোই আলিগড়ে আরো ৬০০ দোকান রয়েছে। আয়কর দফতরের কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রত্যেকটি দোকানের মালিকই লাখপতি। অথচ আয়কর দেন না কেউই।



মন্তব্য