ঢাকা - সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ : ২ আশ্বিন, ১৪২৬

যুক্তরাষ্ট্রে তুর্কি পাইলটদের প্রশিক্ষণ স্থগিত

নিউজ ডেস্ক
জুন ১২, ২০১৯ ১২:৪১
৪৪ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় সর্বাধুনিক এফ-৩৫ বিমান চালনায় তুরস্কের পাইলটদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন সরকার। রাশিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার জন্য তুর্কি পাইলটদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইক অ্যান্ড্রু সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, তুর্কি পাইলটরা এখন আর অ্যারিজোনার বিমানঘাঁটিতে এফ-৩৫ বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না। তিনি আরো বলেন, তুরস্ক রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এ নীতি অনুসরণ করতে থাকবে।

তুর্কি সরকার রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার জন্য চুক্তি করার পর ওয়াশিংটনের সাথে আঙ্কারার টানাপড়েন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ১ এপ্রিল মার্কিন সরকার ঘোষণা করে, এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল না করায় তুরস্ককে এফ-৩৫ বিমান সরবরাহ করার চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সব কর্মসূচি স্থগিত রাখা হবে। জবাবে তুরস্ক বলেছে, রাশিয়া থেকে তারা এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল করবে না।

গত ২৯ মে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনলে তুরস্কের পাইলটদের এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান চালানোর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাতিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এফ-৩৫ বিমান তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত দু’জন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছিলেন। তবে তারা পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০০টি এফ-৩৫ বিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে এবং দেশটি এ বিমান তৈরির প্রক্রিয়ারও অংশীদার। বিমান কিনলে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা তুর্কি পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেবে- এটিও চুক্তির অংশ।

ওই দুই কর্মকর্তা জানান, পেন্টাগন এখনো তুরস্কের পাইলটদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরেই তুরস্ককে হুমকি দিয়ে আসছে যে, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল না করলে এফ-৩৫ বিমান বিক্রির চুক্তি বাতিল করা হবে। এমনকি তুরস্ককে ন্যাটো সামরিক জোট থেকেও বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলে আসছেন, এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল করা হবে না।

ন্যাটো ছাড়তে পারে তুরস্ক

এ দিকে তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম ইয়েনি সাফাক জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত দাবি ও অব্যাহত হুমকির মুখে তুরস্ক ন্যাটো ছাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন একজন বিশ্লেষক। স্টিফেন লেন্ডম্যান রোববার কানাডাভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন গ্লোবালাইজেশনে একটি আর্টিকেল লেখেন।

এতে তিনি বলেন, তুরস্কের সামরিক বাহিনী ন্যাটো বাহিনীতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ন্যাটো থেকে তুরস্কের বেরিয়ে যাওয়া জোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হবে। লেন্ডম্যান বলেন, যদি অপ্রত্যাশিত মার্কিন দাবি ও হুমকি অব্যাহত থাকে, তবে এটা অনিবার্য হতে পারে।

তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যখন তুরস্কের সাথে মার্কিন কৌশলগত ভবিষ্যৎ সম্পর্ক মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তুরস্ক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার কাছ থেকে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার চুক্তি করেছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্ত হুমকির মুখে পড়ে। এ সময় ওয়াশিংটন তুরস্ককে সতর্ক করে জানায়, তাদের বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কথা জানায়। এ দিকে এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে রেন্ড করপোরেশনের সিনিয়র রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্টিফেন ফ্লানাগান বলেন, তুরস্কের বর্তমান সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।

রয়টার্স  



মন্তব্য