ঢাকা - সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ : ৭ আশ্বিন, ১৪২৬

শিশুদের বাঁচাতে বানা আল আবেদের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
জুন ০১, ২০১৯ ০৯:২৩
১০৫ বার পঠিত

চলমান গৃহযুদ্ধের ফলে প্রাপ্তবয়স্করা বেশ ব্যস্ত, বিধ্বস্ত হয়ে গেছে জনপদ। এমতাবস্থায় যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে তার দেশের শিশুদের এবং সারা বিশ্বের শিশুদের বাঁচানোর জন্য ‘জরুরি ব্যবস্থা’ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন আলেপ্পোর ৯ বছর বয়সী সিরিয়ান বালিকা বানা আল আবেদ।
তিন বছর আগে যুদ্ধবিধ্বস্ত আলেপ্পো থেকে অব্যাহত টুইটের ফলে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন বানা। তার মা, পিতা ও দুই ছোট ভাইয়ের পাশাপাশি হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকারি বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ শহর থেকে উদ্ধারের পর তুর্কি নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছিল।
আনাদোলু এজেন্সি (এএ)-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বানা বলেন, ‘যুদ্ধের আগে সিরিয়ায় আমার জীবন ভালোভাবে কাটছিল। এটা খুবই শান্তিপূর্ণ ছিল; আমি পরিবারের সাথে অনেক আনন্দে ছিলাম।’ আলেপ্পোর পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারাবাহিক টুইটের জন্য বানা বিখ্যাত হয়ে উঠেন। সোস্যাল মিডিয়াতে ৩ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। ৯ বছর বয়সী সিরিয়ান এই বালিকা বাশার আল আসাদের শাসনের অধীনে ভোক্তভূগী নাগরিকদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে। বানা তার মা ও ইংরেজি শিক্ষকের কাছ থেকে ইংরেজি বলা শিখেছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হলে সবকিছু বদলে গেল। আমি ভীত ছিলাম যে, আমি অথবা আমার পরিবারের অন্য কোনো সদস্য মারা যাবে। ‘আমার বন্ধু ইয়াসমিনকে মেরে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু আমি আশা হারাইনি। আলেপ্পোতে অবরোধের সময় কোনো খাবার বা পানি না থাকার কথা আমি ভুলতে পারিনি।’ বানা বলেন, ‘সারা বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে অভিবাসী শিশুরা রয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়াতে বোমা হামলা ও সংঘর্ষের ফলে অনেক শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদেরকে তাদের দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করতে হবে, যাতে শরণার্থী শিশুরা তাদের বাড়িতে ফিরে আসতে পারে।’ বানা বলেন, ‘আমি এই পৃথিবীকে আরো ভালো জায়গা হিসেবে গড়ার স্বপ্ন দেখি। আমি অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে বলে আশা করি।’
গৃহযুদ্ধের চলমান সঙ্কট থেকে সিরিয়াকে বাঁচাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার কাজটি করছে তুরস্ক। সীমান্ত খুলে দেয়ার নীতি অনুসরণ করায় তুরস্কে সিরিয়ার উদ্বাস্তু নাগরিকদের মধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি সংখ্যক উদ্বাস্তু আশ্রয় পেয়েছে। সিরিয়ার উদ্বাস্তু জনসংখ্যার মধ্যে তুরস্কে প্রায় ১৬ লাখ শিশু রয়েছে এবং ২০১১ সাল থেকে প্রায় ৩ লাখ সিরিয়ান শিশু তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেছে। উদ্বাস্তুদের চাহিদা মেটাতে দেশটি নিজস্ব জাতীয় সম্পদ থেকে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।
আলেপ্পো থেকে তুরস্কে গমনের যাত্রা সম্পর্কে বানা বলেন : ‘এটা এত কঠিন ছিল যে, আমি মনে করতে পারি বাস্তুচ্যুত শিশুরা বাসে কাঁদতে ছিল।’ তিনি তুরস্কে পৌঁছানোর পরের প্রথম ঘণ্টা স্মরণ করে বলেন, ‘দুই দিনের বাস যাত্রার পর আমি ও অন্য শিশুরা ছিলাম অত্যন্ত ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত। পরদিন আমরা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে দেখা করি। আমি একই সময়ে সবাইকে খুশি, উত্তেজিত ও ভীত পেয়েছি।’ বানা বলেছিলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম সিরিয়ার শিশুদের কাছ থেকে আমার বার্তা প্রদান করার সময় আমাকে শান্ত থাকতে হবে, যাতে সব জায়গায় শিশুকে শান্তিতে থাকতে দেয়া হয়।’ তুরস্কের নতুন জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বানা জ্বলজ্বল চোখে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি তুরস্ককে অনেক ভালবাসি; এটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ। এখানে আমার স্কুল এবং অনেক বন্ধু রয়েছে। আমি এখন তুর্কি নাগরিক হতে পেরে খুশি।’ যা হোক তুরস্কে সুখী থাকা সত্ত্বেও বানা এখনো একদিন তার জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। বানা বলেন, ‘আমি সব সময় আমার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। খুব শিগগিরই বা দেরিতে হলেও আমরা দেশে ফিরে যাব।’

ডেইলি সাবাহ



মন্তব্য