ঢাকা - সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ : ৬ আশ্বিন, ১৪২৬

এক মসজিদে দৈনিক ৩৫ হাজার জনের ইফতার

নিউজ ডেস্ক
মে ২০, ২০১৯ ০৯:১৬
২৩৬ বার পঠিত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদেও বিনামূল্যে ইফতার করানো হয়ে থাকে। তবে এই মসজিদে প্রতিদিন ৩৫ হাজার মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। খবর খালিজ টাইমসের।

শেখ জায়েদ মসজিদেই আমিরাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইফতারের আয়োজন করা হয়। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের নামে করা আধুনিক স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শনযুক্ত এ মসজিদটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত বিশাল এই মসজিদে একসঙ্গে ৪২ হাজার মুসল্লির নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে।

ইফতারের সময় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে থেকেই রোজাদারদের মসজিদে আগমন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মসজিদ প্রাঙ্গণ। মসজিদের বাগানে স্থাপিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১১টি বিশেষ তাঁবুতে সবাই ইফতার করার জন্য বসেন। ইফতার বিতরণ করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত রেড ক্রিসেন্টের এক হাজার ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন।

রমজান মাসে এই মসজিদে প্রতিদিনের ইফতারিতে ব্যবহার করা হয়- সাত হাজার কেজি চাল, সাত হাজার কেজি সবজি, ১০ হাজার কেজি মুরগির মাংস ও ছয় হাজার কেজি ভেড়ার মাংস এবং অন্য দ্রব্যাদি। খাবারের পরিমাণ দেখেই বোঝা যাচ্ছে আয়োজন কত বিশাল।

আর এতো বড় আয়োজনে শেফ ও রান্নার সহকর্মীদের তালিকাও অনেক দীর্ঘ। ইফতার আয়োজনটি সফল করার জন্য প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করেন দেশটির আর্মড ফোর্সেস অফিসার ক্লাব এবং হোটেলের প্রায় এক হাজার কর্মী। এ ইফতার প্রস্তুতকারী দলের মধ্যে রয়েছেন ৩৫০ জন শেফ, ১৬০ জন স্টুয়ার্ড এবং ৪৫০ জন সেবাদানকারী কর্মী। তারা দেশের স্বাস্থ্যবিধি মেনে একত্রিত হয়ে প্রতিদিন ইফতার তৈরি করে আসছেন মসজিদটির জন্য।

আবুধাবির সশস্ত্র বাহিনী কর্মকর্তা ক্লাব ও হোটেলের নির্বাহী শেফ কারস্টেন গটসচাক বলেন, ইফতারের এক ঘণ্টা আগে থেকে রোজাদারদের সামনে আমরা খাবারের বাক্স বিতরণ করি প্রতিদিনই। আমরা খাবারের মান উন্নত করেছি। পাশাপাশি বাক্সসহ রান্নাঘরের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার পরিবেশন করছি।

তিনি আরও বলেন, ইফতারের মূল খাবারের সঙ্গে আরও একটি প্যাকেটে থাকে; যেটিতে থাকে- আপেল, পানি, খেজুর, লাবান ও ফলের রস।

আবুধাবিতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা বাংলাদেশের ওমর আবদুল করিম বলেন, আমার কর্মস্থল শেখ জায়েদ মসজিদের কাছে। তাই রোজা এলে প্রায় প্রতিদিনই দেশের সবচেয়ে বড় এ ইফতার আয়োজনটিতে অংশ নিয়ে থাকি। খোলা আকাশে এখানকার খাবার অনেক ভালো লাগে। তাছাড়া খাবার দেয়ার প্রক্রিয়াও অনেক সুন্দর। বিগত তিন বছর ধরে তিনি এই মসজিদে ইফতার করে আসছেন বলেও জানান।



মন্তব্য