ঢাকা - জুলাই ২১, ২০১৯ : ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬

সুদানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে ঐকমত্য

নিউজ ডেস্ক
মে ১৬, ২০১৯ ১১:০১
৬৯ বার পঠিত

সুদানের সেনা শাসক ও বিক্ষোভকারীদের নেতারা পূর্ণ বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তিন বছর মেয়াদি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বুধবার ভোরে উভয়পক্ষ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়।

যদিও একটি নতুন স্বার্বভৌম পরিষদ গঠনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি দুইপক্ষ। সামরিক পরিষদের সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াসির আল-আত্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তিন বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপারে সম্মত হয়েছি।’ আত্তা বলেন, এক দিনের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের সংগঠন এলাইয়েন্স ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের সাথে যৌথভাবে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম পরিষদ গঠনসহ ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আত্তা আরো বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনগণের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী এই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আমরা অঙ্গীকার করছি।’

তিনি বলেন, তিন বছরের এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রথম ছয় মাসে দারফুর, বুনাইল ও দক্ষিণ কোর্দোফানের মতো গোলযোগপূর্ণ এলাকাগুলোর বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। সেনাকর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিক্ষোভরত নেতারা এই সরকারের মেয়াদ চার বছর রাখার দাবি জানায়।

প্রধান সমঝোতার বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে। দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান স্বাধীন সার্বভৌম পরিষদ নিয়ে সমঝোতা এখনো বাকি রয়েছে। সেনাকর্মকর্তারা তাদের নেতৃত্বেই এই পরিষদ গঠন করতে চান। কিন্তু বিক্ষোভরত নেতারা পরিষদে বেসামরিক ব্যক্তিদের প্রাধান্য দাবি করছেন। স্বাধীন স্বার্বভৌম পরিষদ গঠনের পর একটি নতুন বেসামরিক সরকার গঠন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদ শেষে এই বেসামরিক সরকারের অধীনেই দেশের প্রথম বশির পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত মাসে দেশটির দীর্ঘ দিনের শাসক ওমর আল-বশিরকে তীব্র আন্দোলনের মধ্যে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর বিরোধী দলগুলোর সাথে ব্যাপক আলোচনা হয় সেনাবাহিনীর নেতাদের। এরপর তারা একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিন বছর সময় নেয়। দেশটির সেনাবাহিনীর এক জেনারেল এ ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসানের পর বিক্ষোভকারীরা একটি বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু বশিরকে উচ্ছেদকারী সেনাকর্মকর্তারা ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে এই আলোচনার মধ্যেই খার্তুমে সেনা সদর দফতরের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালে বন্দুক হামলায় সেনাবাহিনীর এক মেজর ও পাঁচ বিক্ষোভকারী প্রাণ হারায়। অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা এ হামলা চালায়।

প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকালে বিক্ষোভকারীদের নিহতের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই বিবৃতির পরেই সর্বশেষ হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই হামলায় খার্তুমে সেনা সদর দফতরের বাইরে এক মেজর ও একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছে। এরা বাশারের উচ্ছেদের পর যেই সব সেনাকর্মকর্তারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের পদত্যাগ দাবি করছিল।

বিক্ষোভকারীদের সংগঠন অ্যালাইয়েন্স ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জ জানিয়েছে, সোমবারের সহিংসতাটি আমাদের সাথে সেনা কর্মকর্তাদের ‘সমঝোতাকে বাধাগ্রস্ত করার’ উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। তারা এই ভয়াবহ হামলার জন্য সাবেক সরকারের মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে। সোমবার ভোরে সেনাকর্মকর্তারা ও বিক্ষোভকারীদের নেতারা জানান, বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে তাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি তাহা ওসমান বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমরা সরকার কাঠামো ও তাদের ক্ষমতার ব্যাপারে সম্মত হয়েছি’। তিনি আরো বলেন, ‘সরকার স্বাধীন স্বার্বভৌম পরিষদ, মন্ত্রিপরিষদ ও আইন পরিষদকে মেনে চলবে।’ ওসমান বলেন, ‘ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ও সরকার কাঠামোর’ ব্যাপারে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সামরিক পরিষদ শর্তগুলোর ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরিষদের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসেদ্দিন কাবাশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তিন স্তর বিশিষ্ট অন্তর্বর্র্তীকালীন সরকার গঠনে সম্মত হয়েছি। স্বাধীন স্বার্বভৌম পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ ও আইন পরিষদ।’

তিনি আরো বলেন, ‘কাল আমরা সরকার কাঠামোতে অংশগ্রহণের হার ও ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাব।’ সেনাকর্মকর্তারা দুই বছর মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইছিলেন। তবে বিক্ষোভকারীরা এই মেয়াদ চার বছর চাইছিল। চিকিৎসক পরিষদ গত মাসে জানিয়েছে, ডিসেম্বরে শুরু হওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বশিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ সহিংসতায় ৯০ জন নিহত হয়েছে। সরকারিভাবে এই সংখ্যা ৬৫ বলা হয়েছে।

এএফপি ও আলজাজিরা



মন্তব্য