ঢাকা - জুলাই ২১, ২০১৯ : ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় কোনো পক্ষ নেবে না পাকিস্তান: কোরেশি

নিউজ ডেস্ক
মে ১৬, ২০১৯ ১১:০১
১০৯ বার পঠিত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে পাকিস্তান। তবে কোনো সঙ্ঘাত বাধলে ইসলামাবাদ কারো পক্ষে যোগ দেবে না। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আলাপকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে পাকিস্তান উদ্বিগ্ন। যেকোন সঙ্ঘাত পাকিস্তানসহ গোটা অঞ্চলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট কৌশল থাকতে হবে। এ সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনায় পাকিস্তান কোনো পক্ষে থাকবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন তিনি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সঙ্ঘাত বাধার আশঙ্কার মধ্যে কোরেশির কাছ থেকে এ বক্তব্য আসে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানের কাছ থেকে হুমকির ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য পাওয়া গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী ও বোম্বার টাস্কফোর্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ওই অঞ্চলের তেলবাহী জাহাজ চলাচলকে টার্গেট করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরই মার্কিন মিত্র সৌদি আরব দাবি করে রহস্যজনক হামলায় তাদের দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরান সমর্থিত হাউছিদের দায়ী করেছে সৌদি আরব। পর্যবেক্ষকদের ধারণা অবস্থা যেভাবে আগাচ্ছে তাতে মার্কিন মিত্রদের সাথে ইরানের একটি যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সঙ্ঘাত বাধলে তা হবে পাকিস্তানের কূটনীতির জন্য পরীক্ষা। ইরানের প্রধান শত্রু সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। অন্য দিকে প্রতিবেশীকেও ক্ষুব্ধ করতে চায় না পাকিস্তান। আরব-ইরান শত্রুতার কথা উল্লেখ না করেই কোরেশি বলেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সাথে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা আমাদের সম্পর্কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখেই পাকিস্তান তার কৌশল প্রণয়ন করবে। এজন্য পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সাথে পরামর্শ করবে সরকার। এই কাউন্সিলে প্রবীণ কূটনীতিকরা রয়েছেন। তিনি বলেন, এটা খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। আমরা পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছি। পরিস্থিতি বিকাশের সাথে সাথে আমরা এমন একটি কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা করছি যেন আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং এই অঞ্চল অস্থিতিশীল না হয়ে পড়ে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন



মন্তব্য