ঢাকা - মে ২০, ২০১৯ : ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬

পরমাণু চুক্তির কিছু প্রতিশ্রুতি স্থগিত করল ইরান

নিউজ ডেস্ক
মে ১৬, ২০১৯ ১১:০১
১৯৯ বার পঠিত

ছয় বিশ্বশক্তির সাথে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তিতে চার বছর আগে দেয়া কিছু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার এক কর্মকর্তা। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশ পাওয়ার পরপরই সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়, বুধবার ইরানি বার্তা সংস্থা ইসনাকে এমনটিই বলেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে তেহরান পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পাঁচ দেশ চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যকে ‘কিছু প্রতিশ্রুতি’ থেকে সরে আসার বিষয়টি জানিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়ার এক বছর পর ইরান এ পদক্ষেপ নিল।

পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী, ইরান সর্বোচ্চ ৩০০ কেজি কম-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারত; ভারী পানির মজুদ রাখতে পারত সর্বোচ্চ ১৩০ টন। নির্ধারিত সীমার বেশি উৎপাদন করলে তা দেশের বাইরে জমা রাখা বা বিক্রি করার সুযোগ থাকত। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় ইরানের এখন থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি উৎপাদনে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির আণবিক শক্তি সংস্থার ওই কর্মকর্তা। জেসিপিওএ’তে থাকা অন্য দেশগুলোকে ৬০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে তেহরান; ফ্রান্স, থযুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি ও চীন যদি এ সময়ের মধ্যে ইরানের অর্থনীতিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে রক্ষা না করে, তাহলে আলটিমেটাম শেষ হলে সর্বোচ্চ মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের কাজ শুরু করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মানি-ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের আলটিমেটামকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা এখনো পরমাণু চুক্তিটি বাঁচাতে বদ্ধপরিকর।

যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে সরে গেলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের পারদ চড়তে শুরু করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীকে ‘বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছে। তেহরানকে দমাতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী ও বি-৫২ বোমারু বিমানও পাঠানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠলেও দেশটির সাথে কোনো যুদ্ধ চান না বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনী প্রধান, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, প্রভাবশালী এমপি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, আমেরিকার সাথে ইরানের সঙ্ঘাত সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং আসলে কোনো যুদ্ধই হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবেলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ সঙ্ঘাতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হবে। আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমেরিকায় এখন যে সরকার ক্ষমতায় আছে তার সাথে আলোচনার অর্থ হবে বিষপান করা। আলোচনা মানে দরকষাকষি করা; কিন্তু আমেরিকা যেসব বিষয়ে দরকষাকষি করতে চায় সেগুলো আমাদের শক্তিমত্তার উৎস। আর ওয়াশিংটন এটাও জানে যে, ইরানের সাথে সঙ্ঘাতে জড়ালে তা মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে যাবে না।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধ চায় না। রাশিয়া সফররত পম্পেও বলেন, ইরানের কাছ থেকে ‘স্বাভাবিক দেশের’ আচরণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণœ হলে জবাব দেয়া হবে।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সাথে তেহরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখে ওয়াশিংটন। সেই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার আমিরাতের উপকূলে চারটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়। মার্কিন তদন্তকারীদের বিশ্বাসÑ ইরান অথবা তাদের সমর্থিত কোনো গ্রুপ এই বিস্ফোরণের সাথে জড়িত। তবে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর তেহরান বিস্ফোরণে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সোচি শহরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভের সাথে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সেখানে পম্পেও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘মৌলিকভাবে’ ইরানের সাথে কোনো সঙ্ঘাত চায় না। তিনি বলেন, আমরা ইরানিদের কাছে স্পষ্ট করতে চাই, যদি আমেরিকান স্বার্থের ওপর আক্রমণ করা হয় তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবে যথাযথ উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানাব।

আলজাজিরা ও রয়টার্স



মন্তব্য