ঢাকা - জুলাই ২১, ২০১৯ : ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬

কনে ছাড়াই বিয়ে!

নিউজ ডেস্ক
মে ১৬, ২০১৯ ১০:৪০
৮৮৩ বার পঠিত

আয়োজনে কোনও ত্রুটি নেই। বিয়ে বলে কথা। তাই জাঁকজমকে খামতি নেই কোনও। ঘোড়ায় চড়ে সোনালি শেরওয়ানি, গোলাপি পাগড়ি, গলায় মালা পরা বর, বরের পিছনে কমকরেও ২০০ জন বরযাত্রী। তার আগে সঙ্গীত, মেহেন্দি হয়েছে সবই, যা যা হওয়ার। সঙ্গে আত্মীয়, অতিথি অভ্যাগতরা। সবই ছিল। ছিল না কেবল পাত্রীই। কনেহীন এমন বিচিত্র বিয়ে হল গুজরাতের হিম্মতনগরে।

‘বাবা আমার কি বিয়ে হবে না!’ গ্রামে কারোর বিয়ে দেখলেই এই প্রশ্নটা বাবাকে প্রায়ই করত অজয়। আর প্রতি বারই বাবা তাকে সান্ত্বনা দিত শিগগিরই তার বিয়ে দেয়া হবে। ধুমধাম করে বিয়ে হওয়ার ‘অলীক স্বপ্ন’ ছেলেকে শোনাতেন। কিন্তু অজয়ের বাবা বিষ্ণু বারোত জানতেন, ছেলের কোনো দিন বিয়ে হবে না। বিরল রোগে আক্রান্ত সে। ছেলের বিয়ে দিয়ে আরো একটি মানুষের জীবন নষ্ট করতে চান না তিনি। লার্নিং ডিসএবিলিটির শিকার তার ছেলে। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো তার আচরণ নয়।

গুজরাটের হিম্মতনগরের বাসিন্দা অজয় তার গ্রামের কারোর বিয়ে হলেই পৌঁছে যান। নিমন্ত্রণের ধার ধারেন না। সেখানে গিয়ে কনে বা বর পক্ষের হয়ে উদ্দাম নেচে আসেন। তার পর বাড়ি ফেরেন বিষণ্ন মুখে। ২৭ বছর বয়সী অজয়ের সেই স্বপ্ন পূরণ হলো গত সোমবার। একেবারে বিয়ের সাজ! সোনালি শেরওয়ানি, মাথায় পাগড়ি, গলায় গোলাপের মালা পুরোদস্তুর বর সেজে ঘোড়ায় চড়ে গেলেন বিয়ে করতে। আয়োজনের কোনো ঘাটতি নেই। গান-বাজনা সবই ছিল। কিন্তু কনে কোথায়? উৎসুক অতিথিদের একটাই প্রশ্ন।

আসলে এ দিন কনে ছাড়াই বিয়ে হলো অজয়ের। গুজরাটি আচার-অনুষ্ঠান মেনেই বিয়ে হয়। আগের দিন সঙ্গীত ও মেহেদি অনুষ্ঠানও হয়। কমপক্ষে ৮০০ অতিথি আমন্ত্রিত ছিলেন। অজয়ের বাবা বলেন, ‘বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল ছেলের। তার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি এতেই আমরা খুশি। ওর জন্য মেয়ের জোগাড় করতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু অনুষ্ঠানে কোনো ত্রুটি রাখিনি।’

সূত্র: কলকাতা নিউজ



মন্তব্য