ঢাকা - মে ২০, ২০১৯ : ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬

কিম পুতিন প্রথম শীর্ষ বৈঠক; উত্তর কোরিয়ার দরকার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা

নিউজ ডেস্ক
এপ্রিল ২৬, ২০১৯ ০৯:২২
৭২ বার পঠিত

প্রথমবারের মতো শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টে ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের বন্দর শহর ভ্লাদিস্তকের কাছে রাস্কি দ্বীপে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুতিন বলেছেন, তাদের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠকের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট এবং তিনি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ ফলাফল নিয়ে কথা বলবেন।

রুশ নেতা বলেন, আমি ও আমার সহকর্মীরা আলোচনার ফলাফলে সন্তুষ্ট। চেয়ারম্যান কিম জং উন একজন খোলামনের মানুষ। তিনি সব বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। কিম কি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, পিয়ংইয়ং তার জাতীয় স্বার্থের আলোকে কাজ করবে। তবে তিনি বলেন, আলোচনা করা ছাড়া আমরা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারি না। পুতিন পরবর্তীতে বেইজিং সফরে যাবেন। সে সময় তিনি এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। পুতিন বলেন কিম নিজেই তার অবস্থানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করতে তাকে অনুরোধ করেছেন। কিম জং উন বলেছেন, তিনি রাশিয়ার সাথে তার দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চান। দুই নেতার মধ্যে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব ও ইতিহাস রয়েছে। বৈঠকটি আমাদের সম্পর্ককে আরো স্থিতিশীল ও জোরদার করবে। কিম বলেন, কোরীয় উপদ্বীপ নিয়ে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত অর্থবহ আলোচনা হয়েছে।

দুই নেতা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এর আগে চলতি বছরের প্রথম দিকে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে শীর্ষ বৈঠক করেছিলেন কিম। কিন্তু তাদের বৈঠক কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগেই ভেঙে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর কিম এখন রাশিয়ার সমর্থন চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শীর্ষ বৈঠক শুরুর আগে পুতিনও দুই দেশের দীর্ঘ দিনের মৈত্রী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং দুইপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। রুশ প্রেসিডেন্ট কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করারও প্রতিশ্রুতি দেন। কিম বুধবার ট্রেনে চেপে ভøাদিস্তকের কোয়ায়সাইড স্টেশনে এসে পৌঁছলে রুশ কর্মকর্তারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

বৈঠকের পর পুতিন আরো বলেছেন, উত্তর কোরীয় নেতার পরমাণু কর্মসূচি অবসানের জন্য কিম জং উনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার গ্যারান্টির দরকার। আর আন্তর্জাতিক কাঠামোর আওতায় ওই নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। তিনি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপকে তিনি পুরোপুরি পরমাণু মুক্ত দেখতে চান। তবে আন্তর্জাতিক আইন মানার মাধ্যমেই কেবল তা অর্জিত হতে পারে। কিমও এই শীর্ষ বৈঠককে তাদের মধ্যকার দুইপক্ষীয় আলোচনাকে অত্যন্ত অর্থবহ বলে প্রশংসা করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি রাশিয়ারও অস্বস্তি আছে। বৈঠকের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ২০০৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ছয় জাতির আলোচনাকেই কোরীয় উপদ্বীপের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে সমাধান খোঁজার সবচেয়ে কার্যকর উপায় মনে করে ক্রেমলিন। বুধবার পেসকভ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, দুই কোরিয়া, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার ওই আলোচনা আপাতত বন্ধ আছে। এ মুহূর্তে এর (ছয় জাতি বৈঠক) বাইরে কার্যকর আর কোনো আন্তর্জাতিক কর্মকৌশল নেই। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈঠক ভেঙে যাওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার প্রতি এখনো যে মিত্রদের শক্তিশালী সমর্থন আছে, কিমের এবারের সফর তা দেখানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কিমের দুইটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন না আসায় পুতিনের সাথে বৈঠক করলেন তিনি। এতে করে বিদেশী সমর্থন আরো শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন তিনি। একদিন আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাখোভ বলেন, এই বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচিই থাকবে পরমাণু ইস্যু। তিনি বলেন, ‘বিগত মাসগুলোতে কোরীয় উপদ্বীপে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এ জন্য উত্তর কোরিয়াকে ধন্যবাদ দিতে হয়। কারণ, তারা পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ করেছে।

ফেব্রুয়ারির ওই হ্যানয় বৈঠক সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে দায় দিয়েছে পিয়ংইয়ং। সাবেক এ সিআইএ প্রধানকে ভবিষ্যৎ উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বাইরে রাখার দাবিও জানিয়েছে তারা। পিয়ংইয়ং যে তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে না, পুতিন-কিম বৈঠকে তা দেখানোরও সুযোগ করে দিয়েছে।

দুই দফা ট্রাম্প-কিম সম্মেলনে মস্কোর অবস্থান ছিল সাইডলাইনে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়া ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম মিত্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েতের ভাঙনের পর পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সঙ্কুচিত হলে উত্তর কোরিয়াকে চীনের দিকে ঝুঁকতে দেখা যায়। পুতিনের হাত ধরে অর্থনৈতিক খাত অনেকাংশে পুনরুদ্ধারের পর ২০১৪ সালে রাশিয়া ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের’ নিদর্শন স্বরূপ উত্তর কোরিয়ার সোভিয়েত আমলের ঋণের বেশির ভাগই মাফ করে দেন।

এএফপি, বিবিসি ও রয়টার্স



মন্তব্য