ঢাকা - এপ্রিল ২৪, ২০১৯ : ১১ বৈশাখ, ১৪২৬

যেভাবে চরমপন্থায় রূপ নিল বাংলাদেশের উগ্র বাম আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক
এপ্রিল ০৯, ২০১৯ ১৮:৫৮
৫৫ বার পঠিত

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলো এক সময় বিভিন্ন চরমপন্থী গ্রুপের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৬০'র দশক থেকে ওই অঞ্চলে বিভিন্ন বামপন্থী দল তাদের তৎপরতা শুরু করে এবং তখন তাদের মূল ভিত্তি ছিল 'মার্কসবাদ' এবং 'মাওবাদী' আদর্শ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় এসব গ্রুপের তৎপরতা বাড়তে থাকে।

এসব সংগঠন গোঁড়া থেকেই অতি বাম আদর্শে বিশ্বাস করতো। তবে বামপন্থী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অপরাধ প্রবণতার সাথে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনগুলো।

আদর্শের দ্বন্দ্ব কিংবা আর্থিক ভাগাভাগি নিয়ে চরমপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্রমাগত বিভেদ এবং এর ফলাফল হিসেবে নানা উপদল সৃষ্টি হতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের প্রতিপক্ষকে অবলীলায় খুন করতেও দ্বিধা করতো না এসব চরমপন্থী গ্রুপের সদস্যরা।

দিনের আলোয় প্রকাশ্যে কাউকে হত্যা করা ছিল বিভিন্ন চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাজের অন্যতম ধরণ।

উগ্র বাম এসব সংগঠনের কর্মকাণ্ড ১৯৬০'র দশক থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।

অধ্যাপক হক বলেন, "বাংলাদেশ যখন প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দেয়। এই অবস্থার মধ্যে কয়েকটা মার্কসবাদী গ্রুপ আত্মপ্রকাশ করে। এর মধ্যে কিছু গ্রুপ ছিল যারা শত্রুদের গুপ্তহত্যার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করবে।"

চরমপন্থী গ্রুপগুলো শেষ পর্যন্ত জনসমর্থন পায়নি। তবে তাদের ভয়ে আতঙ্কিত থাকতো সাধারণ মানুষ।

আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, পুরনো কমিউনিস্ট নেতারা দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেওয়ার পর এসব চরমপন্থী সংগঠন কার্যত মনোনিবেশ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, যার মাধ্যমে তারা অর্থ উপার্জন করতে পারে।

"যারা এ ধরণের চরমপন্থী, তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শের কথা বলছে বটে, কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হলো। ... এইভাবে শত্রুদের হত্যা করার মাধ্যমে পৃথিবীর কোন দেশেই এ রকম শক্তি টিকতে পারেনি। জনগণ ভয় পেয়েছে। এই কর্মপদ্ধতিতে কেউ সফল হয়নি। এরা যদি ১০ জনকে মারে, পুলিশ তাদের ১০০ জনকে মারবে।"

বিবিসি



মন্তব্য