ঢাকা - মার্চ ২১, ২০১৯ : ৭ চৈত্র, ১৪২৫

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নাকচের পর বিলম্বিত করার ওপর ভোট

নিউজ ডেস্ক
মার্চ ১৫, ২০১৯ ০৯:৩৫
৪৩ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া গত মঙ্গলবার বাতিল করে দেয়ার পর কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও বুধবার নাকচ করেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। এই পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ফের ভোটাভুটিতে গেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরো সময় চাওয়া হবে কিনা, তার ওপরেই এই ভোটাভুটি।

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটার কথা। কিন্তু কিভাবে সেই বিচ্ছেদ ঘটবে তা নিয়ে ব্রিটিশ এমপিরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে পুরো ব্রিটেনকে ঘিরে ধরেছে গভীর অনিশ্চয়তা।

২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দেশটির চার দশকের সম্পর্কোচ্ছেদের রায় দেন ভোটাররা। গণভোটে পরাজয়ের পর রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে থেরেসা মে সেই দায়িত্ব নিয়ে বিচ্ছেদের পথরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই জোট থেকে কোন প্রক্রিয়ায় ব্রিটেন আলাদা হবে এবং এরপর ইইউভুক্ত বাকি ২৭টি রাষ্ট্রের সাথে ব্রিটেনের সম্পর্ক কেমন হবে, সেই পথ বের করার জন্য সময় নেয়া হয় ২১ মাস। আগামী ২৯ মার্চ সেই সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার আগে ব্রিটেনকে তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দীর্ঘ দর কষাকষির মাধ্যমে ব্রেক্সিট চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করেন থেরেসা মে। কিন্তু গত জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে তা বিপুল ভোটে বাতিল হয়ে যায়। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ফের আলোচনায় বসেন থেরেসা। তাদের সাথে আলোচনা করে চুক্তির খসড়ায় কিছু বিষয়ে তিনি পরিবর্তন আনেন। কিন্তু তার সেই প্রস্তাবও গত মঙ্গলবার বাতিল করে দেন ব্রিটিশ এমপিরা।

এই পরিস্থিতিতে যে বিকল্পগুলো ব্রিটেনের সামনে ছিল তার একটি হলো ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’। অর্থাৎ, ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন এমনিতেই বেরিয়ে যাবে, কোনো চুক্তি হবে না। সেক্ষেত্রে বিচ্ছেদ হবে হুট করেই, বিচ্ছেদ পরবর্তী সম্পর্ক কেমন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর কাঠামো কেমন হবে, কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরনই বা কি হবেÑ সেসব বিষয় অনির্ধারিতই থেকে যাবে।

বিবিসি ও রয়টার্স



মন্তব্য