ঢাকা - আগস্ট ২৩, ২০১৯ : ৭ ভাদ্র, ১৪২৬

রাশিয়ার দ্বীপে শ্বেত ভালুকের উপদ্রব : জরুরি অবস্থা জারি

নিউজ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ ১৮:৫৬
১৩৯ বার পঠিত

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আরখানগেলস্কের উত্তর মহাসাগরে অবস্থিত নোভায়া জেমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে বেশ কয়েকটি শ্বেত ভালুক জনবসতিতে হানা দিয়েছে। ফলে কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। আরখানগেলস্কের গভর্নর ও আঞ্চলিক সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশনের সভায় ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নোভায়া জেমলেই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, আবাসিক এলাকায় বেশ কয়েকটি শ্বেত ভালুক হানা দেয়ায় এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

নোভায়া জেমলিয়া প্রশাসনের উপপ্রধান আলেক্সান্ডার মিনাইয়েভ বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বেশ কয়েকটি শ্বেত ভালুক জনবসতির কাছে জড়ো হয়। এ সময় হিংস্র পশুগুলো মানুষের ওপর হামলা চালায় এবং আবাসিক ভবন ও অফিসে ঢুকে পড়ে। ছয় থেকে ১০টি শ্বেত ভালুক জনবসতিতে অবস্থান করছে। বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা তাদের নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে। মানুষ আতঙ্কে আছে। তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে দৈনন্দিক কার্যক্রম চালাতে ভয় পাচ্ছে। বাবা মা তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিন্ডারগার্টেনগুলোর চারপাশে অতিরিক্ত বেড়া লাগানো হয়েছে। সেনাসদস্য ও চাকরীজীবীদের বিশেষ যানবাহনে করে কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেনাসদস্যরা ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ভালুকদের গুলি করার অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তারা নোভায়া জিমলিয়ায় একটি কমিশন পাঠাবে। তবে পর্যালোচনার পর নির্বাচিত ভালুকদের গুলি করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় মেরু ভালুকরা স্থলে বেশি সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

এখানে খাবারের জন্য নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে হচ্ছে তাদের। তাদের বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করে শিকার নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে পাঠানো এক রিপোর্টে নোভায়া জিমলিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের উপপ্রধান কর্মকর্তা আলেক্সান্দার মিনায়েভ জানিয়েছেন, ডিসেম্বর থেকে ৫২টি মেরু ভালুক দ্বীপপুঞ্জের প্রধান জনবসতি মেলুশিয়া গুবায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করছে, এদের মধ্যে কিছু ভালুক আক্রমণাত্মক আচরণ দেখিয়েছে। এসব আচরণের মধ্যে লোকজনকে আক্রমণ, মানুষের বাড়ি ও সরকারি ভবনগুলোতে প্রবেশের মতো ঘটনা আছে বলে জানিয়েছেন মিনায়েভ।

মেরু ভালুকের সংখ্যা নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা জিগানশা মুসিন। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো আবেদনে তিনি বলেছেন, আমি ১৯৮৩ থেকে নোভায়া জিমলিয়াতে আছি, কখনো এত মেরু ভালুকের আনাগোনা দেখিনি। নোভায়া জিমলিয়ায় রাশিয়ার একটি বিমান ও সেনাঘাঁটি আছে। মেরু ভালুকরা আড্ডা গাড়ায় নোভায়া জিমলিয়ায় সামরিক বাহিনীর অব্যবহৃত কয়েকশ’ ভবন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে জানুয়ারিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।

তাস ও এনডিটিভি



মন্তব্য