ঢাকা - জুন ২৫, ২০১৯ : ১০ আষাঢ়, ১৪২৬

নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আজ আসামে আবার ধর্মঘট

নিউজ ডেস্ক
জানুয়ারি ১১, ২০১৯ ১০:১৬
১০৪ বার পঠিত

ভারতীয় নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আসামে আজ শুক্রবার আবার ধর্মঘট ডেকেছে নৃতাত্ত্বিক সংগঠনগুলোর যৌথ মঞ্চ। তারা অবিলম্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

আসামে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্য থেকে মুসলিমদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাগরিকত্ব দেয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আন্দোলন চলছেই। গত মঙ্গলবার এ নিয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়েছে। এরপর একই ইস্যুতে আজ আবার সর্বাত্মক ধর্মঘট ডাকা হলো। আসামের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ, বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

গত মঙ্গলবার ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় প্রবল বিরোধিতার মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বাদে প্রায় সব দলই বিলটির বিরোধিতা করে। পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় গত বুধবার বিলটি পাস হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য এক দিন সভার মেয়াদও বাড়ানো হয়। কিন্তু দিনভর আলোচনার পর আর্থিকভাবে দুর্বলদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হয়। নাগরিকত্ব বিলটি গৃহীত হয়নি।

বিজেপি বলছে, ৩১ জানুয়ারি বাজেট শুরু হলে সরকার বিলটি পাস করার জন্য উদ্যোগ নেবে। রাজ্যসভায় বিজেপি এমনিতেই সংখ্যালঘু। শরিকেরাও বিলটির বিরোধী। তাই পাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ২৪৫ সদস্যের রাজ্যসভায় বিজেপির নিজস্ব সদস্যের সংখ্যা ৭৩। তবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর এখনো ৮৮ জন সদস্য আছেন রাজ্যসভায়।

কংগ্রেসের নিজের সদস্য ৫০ হলেও ইউপিএর সদস্যসংখ্যা ৫৭। এর সাথে বিজেপিবিরোধী তৃণমূল, সিপিএম, আরজেডিসহ অন্যান্য দল যোগ করলে বিজেপি শিবিরের ৮৮-এর বদলে বিরোধী শিবিরের এই মুহূর্তে সদস্যসংখ্যা ১৫৬। তাই বিলটির ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

তবু আসাম থেকে শুরু করে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল অশান্ত। সহিংস ঘটনাও ঘটছে। বিজেপির জোট শরিক অসম গণপরিষদের তিন মন্ত্রী রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে বুধবারেই সারা আসাম ছাত্র সংস্থা বা আসু নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। আসুই আসাম আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে আছে। রাজ্যসভার বিবেচনাধীন নাগরিকত্ব সংশোধন বিলটিতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অমুসলিমদের শর্তসাপেক্ষে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে। তাই এ নিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়েছে। আসামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসও বয়কট করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে দিল্লি, বেঙ্গালুরু প্রভৃতি শহরেও।

শিলং টাইমস



মন্তব্য