ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯ : ৪ ফাল্গুন, ১৪২৫

‘দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতা মানুষকে বিজেতা করে তোলে’

নিউজ ডেস্ক
জানুয়ারি ০৫, ২০১৯ ০৯:৪৭
৫৯ বার পঠিত

ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। পড়াশুনা করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়ে (রুয়েট)। বর্তমানে জার্মানিরর বিখ্যাত একটি কোম্পানিতে ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে দেশের স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি কোম্পানিতে কাজ করেছেন। এসব কোম্পানিতে কাজ করার সময় পেশাগত জীবনে দারুণ সফলতার স্বাক্ষরও রেখেছেন। তার জবানিতে বর্ণিত তার এ সফলতার গল্পের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরছেন মো. বখতিয়ার হোসেন পল্লব, রুয়েট।

বায়ার্ন মিউনিখের উত্তেজনাকর ম্যাচে দর্শকদের মুহুর্মুহু চিৎকারের মাঝে বা বার্লিনের কোনো ব্যস্ত কফিশপে বসে আজও আমি মাঝে মাঝে ফিরে যাই রুয়েটের সেই স্মৃতিময় দিনগুলোতে। রুয়েটের ব্যস্ত খেলার মাঠ, সিভিলের শ্রেণিকক্ষ বা ক্যাম্পাসে স্বপ্নঘেরা কোনো চায়ের আড্ডায়।

ছোটবেলা থেকেই আমি বেশ অন্তর্মুখী স্বভাবের। কারো সাথে সহজে মিশতে পারতাম না। আশেপাশের বন্ধু-বান্ধবদের দেখতাম, খুব সহজেই মানুষের সাথে মিশতে পারছে। বিভিন্ন বিষয়ের অনেক কিছুই বলে যাচ্ছে হড়হড় করে। যেন তারা সব বিষয়ে ভালো জ্ঞান রাখে। আমি পারতাম না তাদের মতো করে কথা বলতে বা কারো সাথে মিশতে। আমার মনে হতো, তাদের তুলনায় আমি কত কম জানি। আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না। কারণ আমি তো তাদের মত হড়হড় করে কথা বলতে পারি না। কিংবা মিশতেও পারি না কারো সাথে। কিন্তু একটা সময় এসে উপলব্ধি করলাম, আসলে বেশি কথা বলা মানে বেশি জানা নয়, বেশি কিছু পারা নয়। সে সময়ের কথা মনে হলে আজও ভাবি, বড় কোনো উপলক্ষের জন্য হয়ত স্রষ্টা আমাকে চারপাশ থেকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন। নিজের অজান্তেই শিখে নিচ্ছিলাম সবকিছু।

সবে রুয়েটে ভর্তি হয়েছি। দু’একটা ক্লাস হয়েছে কেবল। চিন্তা করলাম, আর অন্তর্মুখি হয়ে থাকব না। সবার সাথে কথা বলব। সবার সাথে মিশব। এতদিনে যা কিছু শিখেছি তা প্রয়োগ করার মোক্ষম সময় এখন। নিজেকে মেলে ধরব সবার সামনে।

একদিন ক্লাসে একজন শিক্ষক বললেন, ক্লাস প্রতিনিধি নির্বাচন হবে; যারা আগ্রহী তারা দাঁড়াও। দেখলাম কেউই আগে দাঁড়াতে সাহস করছে না। আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। আজ সেদিনের ঘটনা মনে হলে আজও উপলব্ধি করি, এই ছোট ছোট কাজে দায়িত্ব নিতে পারার ব্যাপারগুলোই আজ আমাকে এখানে আসতে সাহায্য করেছে। আসলে দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতা মানুষকে বিজেতা করে তোলে।

অন্য একদিনের ঘটনা। বাসে করে ঢাকা যাচ্ছি। সহযাত্রী হিসেবে পাশের সিটে বসেছেন একজন অপরিচিত মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। পরিচিত হবার উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে কথা শুরু করলাম। তাঁর সাথে কথা বলে বেশ মুগ্ধ হলাম। আলাপচারিতায় জানতে পারলাম তিনি দেশের স্বনামধন্য এক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই সামান্য আলাপচারিতায় তাঁর সাথে এমন ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল যে, তিনি নিয়মিত আমার খোঁজ-খবর নিতেন। রাজশাহী এলে আমার সাথে দেখা করতেন। পাশ করার পরপরই তিনি তাঁর কোম্পানিতে চাকরি জন্য আমাকে অফার করলেন।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে মানুষের সাথে কথা বলার অভ্যাসটা গড়ে তুলেছিলাম। আমি অপরিচিত মানুষদের সাথে পরিচিত হতে চেষ্টা করতাম। আর সবসময় চিন্তা করতাম, যা করব সেটাতে যেন সবার সেরা হই।

কিছুদিন পর তার কোম্পানি থেকে চাকরিটা ছেড়ে দেই। সাবেক এক মন্ত্রীর কন্সট্রাকশন কোম্পানিতে চাকরি নেই। পূর্ণ মনোনিবেশ করে কাজ করতে থাকি। বেশ সুনামের সাথে কাজ করি। উল্লেখ্য এখানে আমার ব্যাচমেট, সিনিয়র, দেশের প্রায় সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। সবার আগে পদন্নতি হয় আমার। কোম্পানির গুরুত্বপূর্ন সভা, ব্যবসায়িক প্রস্তাবনায় ডাক পড়ত আমার। একবার এক বিদেশি ক্লায়েন্টের সাথে সভায় প্রতিনিধি পাঠানো হবে। ভাবতে পারিনি সেখানে আমাকে পাঠানো হচ্ছে। অফিস থেকে বের হয়ে দেখি আমার জন্যে বিলাসবহুল এক গাড়ি অপেক্ষা করছে।

এসবের মাঝে এক সময় মনে হলো, এখানে বসে থাকা চলবে না। আরও বড় কিছু করতে হবে, আরও ভালো কিছু। আমার স্বপ্ন ছিল আরো বড় কিছু করার। চলে আসি জার্মানিতে। এমএসসি সম্পন্ন করে জার্মানির একটি বহুজাতিক কোম্পানির ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত আছি।

বর্তমানদের জন্য যদি কিছু পরামর্শ রাখতে চাই তাহলে বলব, তোমরা প্রত্যেকেই একেক জন স্পেশাল পারসন। তোমার নিজের স্পেশালিটিকে খুঁজে বের করো। কাজ করো সেটার উপর। তোমার প্রচেষ্টাই একদিন তোমাকে সাফল্যমণ্ডিত করবে। নিয়ে যাবে তোমার স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে। সকল স্বপ্নচারীর জন্য রইলো অযুত শুভকামনা।



মন্তব্য