ঢাকা - আগস্ট ২৩, ২০১৯ : ৭ ভাদ্র, ১৪২৬

দূর করুন শিশুর মিথ্যা বলা

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮ ১৮:১১
৩৬৩ বার পঠিত

শিশুদের বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নিয়ে যে সমস্যাগুলি অভিভাবকরা মূলত সম্মুখীন হন, তার মধ্যে সন্তানের মিথ্যা বলা অন্যতম। মনোবিদদের মতে, বকুনির ভয়ে মিথ্যা বলা দিয়েই এই অভ্যাসের শুরু হয় শিশুদের।

কোনো কোনো সময় মা-বাবা এই স্বভাবকে অবহেলা করে গেলেও পরে তা বড় ধরনের সমস্যায় পরিণত হয়। শুধু তাই-ই নয়, কথায় কথায় মিথ্যা বলার এই স্বভাব শিশুর জীবনেও নানা ক্ষতি করে। ছোট থেকেই তা রুখে না দিলে এই অভ্যাস খুব বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।

তাছাড়া যেহেতু শিশুরা মিথ্যা না বলার গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝে না তাই এই সমস্যা নিয়ে প্রথম থেকেই সচেতন না হলে, ছোট-বড় সব বিষয়েই তাদের মিথ্যা বলার প্রবণতা বেড়ে যায়।

মনস্তত্ত্ববিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, শিশুরা অনেক সময় মনোযোগ আকর্ষণ করতে মিথ্যা বলে। কখনো বা কল্পনার আশ্রয় নিয়ে আবার কখনো বকুনির ভয়ে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয় তারা। অনেক সময় তার ছোটখাটো মিথ্যা অভিভাবকরা বিশেষ গুরুত্ব না দিলে সে মিথ্যে বলাটাকে আর অপরাধ মনে করে না। তবে শাসন বা মারধরে না গিয়েও এই স্বভাব বদলে দেয়া যেতে পারে।

মনোবিদদের মতে, শিশুকে প্রথম থেকেই গল্পের ছলে মনীষীদের জীবনী, ঈশপের নানা গল্প, নীতিকথা শেখান। বড় মানুষরা কেউ মিথ্যা পছন্দ করে না অথবা মিথ্যা বিষয়টা খুব খারাপ— সে ধারণা তার মনের মধ্যে ঢুকিয়ে ‍দিন।

শিশুদের সামনে মিথ্যা এড়িয়ে চলুন। তারা কিন্তু অভিভাবকদের থেকেই সবচেয়ে বেশি শেখে। তাই পারিবারিক নানা কারণে অতিকথন বা মিথ্যা এড়িয়ে চলুন।

মিথ্যা বলা কতটা খারাপ কিংবা বাড়ির সকল সদস্যরা এই মিথ্যা বলাকে কতটা ঘৃণা করে— সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিন।

স্কুল থেকে ফিরলে বা কোনো বন্ধুর সঙ্গে মিশলে, লক্ষ রাখুন তার চারপাশের বন্ধুরা কেমন। তাদের মধ্যে কারো মিথ্যা বলার প্রবণতা থাকলে তা যেন আপনার শিশুকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে যত্নবান হোন। দরকারে মিথ্যা বলা শিশুটির অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলুন।

কোনো কারণে আপনার শিশু কি নিজের উপর আস্থা হারাচ্ছে বা অবহেলিত হচ্ছে কোথাও, সে দিকে নজর রাখুন। এ সব কারণ ঘটলেও শিশুরা মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

শাসনের বাড়াবাড়ি নয়, দরকারে কথা বলুন শিশুর সঙ্গে। কোনো ভাবেই মিথ্যা রুখতে না পারলে মনোবিদের সঙ্গে কথা বলুন।



মন্তব্য