ঢাকা - এপ্রিল ২৬, ২০১৯ : ১২ বৈশাখ, ১৪২৬

কেন পড়ব অপরাধ বিজ্ঞান?

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৮ ১৩:০৪
১৭১ বার পঠিত

মো. হাসানুল বাসার

পরিবর্তনশীল সমাজের নতুন কাঠামোতে প্রতিনিয়ত উত্থান ঘটছে নতুন নতুন অপরাধের। অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি পরিবর্তন হবার ফলে এ সমন্ধে জানা এবং নতুন অপরাধ মোকাবিলার জন্য দরকার অপরাধ ও অপরাধী সম্বন্ধে পর্যাপ্ত জ্ঞান। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ, সাইবার ক্রাইম, ওয়াইট কালার ক্রাইম ও রাজনৈতিক অপরাধের বিরাট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জনগণের তুলনায় অপ্রতুল আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সামগ্রিক অপরাধ মোকাবিলায় বহুসংখ্যক সীমাবদ্ধতার স্বীকার হচ্ছে। সে দিক বিবেচনায় দক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে অপরাধ সমন্ধে বিজ্ঞানসম্মত ও অনুসন্ধানমূলক জ্ঞানার্জন এবং অতীতের জ্ঞান সংশোধন বা একাঙ্গীকরণ করার প্রয়োজন অনুভূত হয়।

ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়াতে যাত্রা শুরু করে ২০০৩ সালে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডিপার্টমেন্টের স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক ড. ইউসুফ শরিফ আহমদ খানের ইচ্ছা ছিল এই বিভাগের মাধ্যমে অপরাধ মোকাবিলার ইউরোপীয় কিংবা আমেরিকান স্টাইলে এদেশে শিক্ষাদান এবং তা বাস্তবায়ণ করে সমাজের অপরাধ নির্মূল করা। তার অকাল প্রয়াণে ডিপার্টমেন্ট এর ভবিষ্যৎ কিছুটা অনিশ্চিত মনে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী ভাইস চ্যান্সেলর এবং এ বিভাগের প্রধানদের অক্লান্ত অবিরাম পরিশ্রমে বিভাগটি এখন বাংলাদেশের একটি অনন্য পড়ার বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাধ বিজ্ঞানের এই বিষয়টি পড়ানো হচ্ছে।

বিভাগটির মূল বিষয় অপরাধ এবং পুলিশ বিজ্ঞান হলেও দেশের বিভিন্ন আইন, সমসাময়িক ইস্যু, ভিকটিমলজি, হিউম্যান রাইটস, সাইকোলোজি, ইনভেস্টিগেশন, ফরেন্সিক সায়েন্স, সিকিউরিটি ইত্যাদি পড়ানো হয়। বিভিন্ন দেশের সাথে তুলনা করে অপরাধের প্রকৃতি এবং তা দমনের বিভিন্ন মডেল, অপরাধী এবং ভিকটিমের বিভিন্ন অধিকার, তাদের সমস্যা এবং তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করে। পুলিশের সূচনা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন দেশের পুলিশিং সম্বন্ধে জানার মাধ্যমে দেশের পুলিশিং সিস্টেমে বিভিন্ন সমস্যা এবং তার প্রতিকারে বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলে ক্রিমিনোলজি এ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স।

পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবে কাজে লাগানোর জন্য ফিল্ড ট্রিপের মাধ্যমে সমাজ এবং অপরাধের সামগ্রিক চিত্র বাস্তবিকভাবে জানার চেষ্টা করা হয়। ফরেন্সিক ল্যাব, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, পুলিশ থানা, জেলখানা, কিশোর/কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র, কোষ্টগার্ডসহ, অপরাধ এবং পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনে এই ফিল্ড ট্রিপ জানার আগ্রহী শিক্ষার্থীর পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পরিধি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় । তাছাড়া অপরাধ এবং পুলিশের উপর টার্মপেপার, মনোগ্রাফ, সেমিনার পেপার, থিসিসসহ বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় গবেষণা সমাজ ও অপরাধের বাস্তব চিত্র জানতে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করে। বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত এসব রিসার্স আর্টিকেল দেশের আইন প্রয়োগ ও অপরাধ দমনে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখে চলেছে।

অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে এই বিভাগের সুসম্পর্ক থাকার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এখানে এসে অপরাধ সমন্ধে তাদের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন। যার ফলে বিভাগে পঠিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সুযোগ থাকে তাদের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে চিন্তাভাবনার বিনিময় করার। দেশি-বিদেশি অপরাধবিজ্ঞানী কিংবা পুলিশ ও জেলখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও একাডেমিক ক্লাস বিভাগের পরিবেশকে করে তোলে জ্ঞানাঙ্কুর। তাছাড়া বিভাগের বিজ্ঞ এবং আন্তরিক শিক্ষকগণের সাথে শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক শিক্ষার্থীর জানার আগ্রহ পূরণে সমর্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জাতীয়, সামাজিক,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা খেলাধুলায় বিভাগটি তাদের সুনাম বজায় রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই।

শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠন করার ক্ষেত্রে এই বিভাগটি রাখতে পারে অনন্য অবদান। পুলিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা পেতে পারে প্রাধান্য। সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, জেলখানার জেলার, দুর্নীতি ও অপরাধ দমন কমিশন, আইন ও মানবাধিকার সংস্থা, উন্নয়ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারে খুব সহজে। অপরাধ ও মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থায় গবেষণা এবং কাজ করার সুযোগ আছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠা ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা কাজ করছে কৃতিত্বের সাথে। উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাহিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিভাগ রাখতে পারে অনন্য ভূমিকা।

লেখক: বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই), (নিরস্ত্র) ৩৭ তম ব্যাচ (সুপারিশপ্রাপ্ত)।



মন্তব্য