ঢাকা - ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ : ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

যুবরাজই খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দেন বলে মনে করেন সিনেটররা

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮ ২১:১০
৮৯ বার পঠিত

সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র সিনেটররা। এই ঘটনায় যুবরাজের জড়িত না থাকার সম্ভাবনা ‘শূন্য’ বলে মনে করছেন এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইএ’র রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া এই সিনেটররা।

ইতোমধ্যে সৌদি কনসুলেটের ভেতর খাশোগি হত্যার অডিও রেকর্ড শুনেছেন সিআইএ প্রধান গিনা হ্যাসপেল। মঙ্গলবার তার এ সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর বব মেনেনদেজ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার মতামত আগে যা ছিল, এখন তা আরো জোরালো হয়েছে।

ইতঃপূর্বে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বব মেনেনদেজ। ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসন বন্ধেও মার্কিন পদেক্ষেপের পক্ষপাতী তিনি। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি যুবরাজের লোকজনই সমন্বিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এমন উপসংহারে পৌঁছতে না চাইলে আপনাকে জেনে শুনে অন্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, দৃশ্যত ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সম্পৃক্ততার প্রমাণের বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না। সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর বব করকার। তিনি বলেন, যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানই যে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এটি পর্যবেণ করেছেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বব করকার বলেন, বিচারের মুখোমুখি হলে ৩০ মিনিটের মধ্যে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব।

এ বিষয়ে আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন তারা। গিনা হ্যাসপেলের সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ‘এই কাজটি এমবিএসের (মুহাম্মদ বিন সালমান) কমান্ড ও তার অধীনে থাকা লোকজনের পরিকল্পনায় সংঘটিত হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে না আসার জন্য আপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ধ হয়ে থাকতে হবে।’

ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদের নিন্দা করতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হয়তো অভিযুক্ত করার মতো কোনো ‘ধূমায়িত বন্দুক’ সেখানে ছিল না; কিন্তু ‘ধূমায়িত করাত’ তো ছিল। এ মন্তব্যের মাধ্যমে গ্রাহাম একটি হাড় কাটার করাতের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যেটি খাশোগির লাশ টুকরা টুকরা করতে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এ পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে কঠোর কিছু অভিযোগ তুলে ধরে, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, উভয় দলের সিনেটররা জানিয়েছেন, তারা এখনো এমন একটি প্রস্তাব পাস করতে চান যাতে ‘যুক্তরাষ্ট্র খাশোগি হত্যার নিন্দা করে’ সৌদি আরবকে একটি বার্তা দিতে পারে।

৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন তিনি।

গার্ডিয়ান, আলজাজিরা ও সিএনএন



মন্তব্য