ঢাকা - নভেম্বর ২০, ২০১৮ : ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

ইরানের পাশে দাঁড়ালো তুরস্ক

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ০৮, ২০১৮ ০৮:৪৭
১০৩ বার পঠিত

ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির পর এবার তুরস্কও ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, আমরা এ নিষেধাজ্ঞা মানব না।

মঙ্গলবার আঙ্কারায় পার্লামেন্টারি গ্রুপের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এরদোয়ান বলেন, আমরা একটি সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বে বসবাস করতে চাই না। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালের দিকে জাপান সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাসুভোগলু ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরানকে একঘরে করে ফেলার চেষ্টা হঠকারী ও ‘ভয়ঙ্কর’।

ছয় মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া এক ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবারের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের তেল রপ্তানি ও বহিঃর্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের ব্যাংক লেনদেনকে টার্গেট করা হয়েছে।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার ভিত্তিতে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল। গত মে মাসে ট্রাম্প ওই সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ওয়াশিংটন এর আগে হুমকি দিয়েছিল, ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চায় তারা। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার দুই দিন আগে মার্কিন সরকার তুরস্কের পাশাপাশি চীন, ভারত, ইতালি, গ্রিস, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানকে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার জাপান সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী টোকিওতে বলেছেন, আমি খোলাখুলি বলতে চাই, ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলার প্রচেষ্টা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয় এবং এ পদক্ষেপ অত্যন্ত ‘ভয়ঙ্কর’। মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের জনগণকে শাস্তি দিচ্ছে; যা সম্পূর্ণ অনুচিত।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর বিরোধিতা করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির অংশীদার এই তিন দেশ। দেশ তিনটি এখনো ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ওই চুক্তি মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তারা মানবে এবং ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে তারা ইউরোপীয় কম্পানিগুলোকে সাহায্য করবে। ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জন্য এই তিনটি ইউরোপীয় দেশ স্পেশাল পারপাজ ভেহিকেলট বা এসভিপি নামে বিকল্প একটি লেনদেন ব্যবস্থা চালু করেছে।



মন্তব্য