ঢাকা - ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ : ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

ট্রাম্প-মেলানিয়ার সাহায্য কামনা খাশোগি-বাগদত্তার

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ১১, ২০১৮ ১৭:১৪
২০৬ বার পঠিত

নিখোঁজ সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন খাশোগির বাগদত্তা হ্যাতিস সেনগিজ। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক প্রবন্ধে হ্যাতিস ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলেনিয়া ট্রাম্পের প্রতি এ আহ্বান জানান। খাশোগির অন্তর্ধানের ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে তাদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। সৌদি রাজতন্ত্রের কঠোর সমালোচক খাশোগি ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।
বিয়ের জন্য জরুরি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ২ অক্টোবর তিনি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তুরস্কের সূত্রগুলো বলছে, তাদের বিশ্বাস খাশোগি কনস্যুলেটের মধ্যেই নিহত হয়েছেন। কিন্তু সৌদি আরব এই দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। হেতিস সেনগিজ তার প্রবন্ধে বলেন, বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও খাশোগি ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবার সৌদি কনস্যুলেটে যান। আশঙ্কার পাশাপাশি তিনি এ-ও মনে করতেন, অন্তত তুরস্কের মাটিতে খারাপ কিছু হবে না। খাশোগি বলতেন, কূটনৈতিক মিশনের মধ্যে কারো কোনো ক্ষতি করা, গ্রেফতার করা বা আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তুরস্কের ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবার প্রবেশের সময় খাশোগির সাথে কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা বেশ ভালো আচরণ করেন। এ কারণে ২ অক্টোবর দ্বিতীয়বার কনস্যুলেটে যাওয়ার ব্যাপারে নিরুদ্বিগ্ন ছিলেন খাশোগি। সেনগিজ তার প্রবন্ধে লিখেন, এটাই সত্য যে, তিনি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তার বের হয়ে আসার কোনো প্রমাণ নেই।
সেনগিজ খাশোগির অপেক্ষায় তিন ঘণ্টা কনস্যুলেট ভবনের বাইরে বসে ছিলেন এবং তিনি এর মধ্যে কোনো কিছুই শুনতে পাননি। তখন খাশোগির ব্যাপারে শঙ্কা তৈরি হলে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে বিষয়টি জানান। এরপর তিনি ওই ভবনে গিয়ে জামাল খাশোগি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে জবাব দেয়া হয়, তিনি ইতোমধ্যেই চলে গেছেন।

সেনগিজ লিখেন, এ অবস্থায় খাশোগির অন্তর্ধানের ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্পের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি সৌদি আরব বিশেষ করে বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতিও একই ধরনের আহ্বান জানাচ্ছি এবং কনস্যুলেটের সিসিটিভি ফুটেজগুলো মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
রহস্যময় ১৫ জনের দল
সেনগিজের আহ্বানের আগেই অবশ্য তুরস্ক সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নেয়। তুর্কি সংবাদপত্র হুরিয়াতের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ২ অক্টোবর খাশোগি হেটে কনস্যুলেটে ঢুকছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্টে বলেছে, খাশোগির অপেক্ষায় সে সময় ১৫ জনের একটি ঘাতক বাহিনী অপেক্ষা করছিল। তাদের মধ্যে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞও উপস্থিত ছিল, যে খাশোগির শরীর বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি বোন স’ বা হাড়কাটা করাত নিয়ে এসেছিল।
তুরস্কের পুলিশ আগে থেকেই বলে আসছিল, ১৫ জনের সৌদি নাগরিকের একটি দলকে ইস্তাম্বুল পাঠানো হয়েছিল যারা খাশোগির কনস্যুলেটে অবস্থানের সময় একই ভবনে উপস্থিত ছিল। তুরস্কের নিরাপত্তা বিভাগ এখন সেই ১৫ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। ডেইলি সাবাহর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দলটি দুইটি প্রাইভেট প্লেনে ইস্তাম্বুল পৌঁছায়। একটি মঙ্গলবার রাত ৩টা এবং দ্বিতীয়টি খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর সন্ধ্যা ৫টায় অবতরণ করে। তারা কনস্যুলেটের নিকটবর্তী একটি হোটেলে অবস্থান করে। দুটি প্লেনই পরে রিয়াদে ফিরে যায়। পুলিশ এসব তথ্য দেয়ার পাশাপাশি এ সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে যে, খাশোগিকে অপহরণ করা হয়েছে কি না।
মার্কিন গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, সৌদি কর্মকর্তারা খাশোগিকে অপহরণ করারই পরিকল্পনা করেছিলেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, রিয়াদ কর্তৃপক্ষ খাশোগিকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য প্রলোভন দিচ্ছিল। তবে এটি এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয় যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ আসলে কী করতে চেয়েছিল- গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ নাকি অপহরণ। খাশোগি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতায় উত্থানের বিষয়টিকে সমালোচনা করে কলাম লিখতেন। পরে যুবরাজের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে থাকেন। এমনকি সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
সেনগিজ তার প্রবন্ধে লিখেন, যদিও প্রতিটি দিন পার হওয়ার সাথে সাথে আমার আশাও ফিকে হয়ে আসছে, তার পরও আমি নিশ্চিত জামাল এখনো বেঁচে আছে। হয়তো এই ধারণার মাধ্যমে আমি এ সত্যটিকে গোপন করার চেষ্টা করছি, আমি একজন ভালো মানুষকে হারিয়েছি, যার ভালোবাসা আমি অর্জন করেছিলাম।

আলজাজিরা ও আনাদোলু



মন্তব্য