ঢাকা - ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ : ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

বুলগেরিয়ার সাংবাদিক হত্যায় জার্মানিতে এক ব্যক্তি আটক

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ১১, ২০১৮ ১৬:১৪
১৩২ বার পঠিত

বুলগেরিয়ার সাংবাদিক ভিক্টোরিয়া মারিনোভাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জার্মানিতে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপ জানিয়েছে, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সে দেশের ২১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। বুলগেরিয়ার চিফ প্রসিকিউটর তার আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন।
শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে টেলিভিশনে টকশো প্রচারের কয়েক দিনের মধ্যেই ৬ অক্টোবর (শনিবার) সন্ধান মেলে সঞ্চালক ভিক্টোরিয়া মারিনোভার। ওই অনুসন্ধানী সাংবাদিককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে জানান বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ দিকে ওই টকশোতে অংশ নেয়ার পরপরই দুই অতিথি সাংবাদিককে আটক করা হয়। ইউরোপীয় দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর রুসের একটি পার্ক থেকে ৩০ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়ার লাশ উদ্ধারের পর শুরু হয় তদন্ত। বুলগেরিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেল সটির স্যাটস্যারভ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জার্মানিতে এক বুলগেরিয়ানকে আটক করা হয়েছে। তার নাম সেভেরিন ক্যাসিমিরভ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্লেডেন ম্যারিনোভ জানিয়েছেন, মারিনোভা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ক্যাসিমিরভের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
রুসের স্থানীয় ব্যক্তিমালীকানাধীন ছোট স্টেশন টিভিএন টেলিভিশনের প্রশাসনিক পরিচালক ছিলেন মারিনোভা। সম্প্রতি তিনি চলমান ঘটনা নিয়ে ‘ডিটেক্টর’ নামে একটি টকশো শুরু করেছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর টকশোটির সর্বশেষ পর্ব প্রচারিত হয়। সেই পর্বে বুলগেরিয়ার বিভোল ডট অর্গ ওয়েবসাইটের অনুসন্ধানী সাংবাদিক দিমিতার স্টোয়ানিয়ভ এবং রোমানিয়ার রাইজ প্রজেক্টের আটালিয়া বাইরোর সাক্ষাৎকার প্রচার হয়। সেই অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিলে দেশটির শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান নিয়ে সাক্ষাৎকার প্রচার হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠান প্রচারের পরপরই দুই অতিথিকে আটক করা হয়।

শনিবার রুসের একটি পার্কে লাশ পাওয়ার পর আনুষঙ্গিক সামগ্রীর মাধ্যমে ভিক্টোরিয়া মারিনোভাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। রুসের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর জর্জি জিওর্জিভ জানান, এখনো তার মোবাইল ফোন, গাড়ির চাবি, চশমা ও পোশাকের একটি অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধের কারণে মারা গেছেন ভিক্টোরিয়া মারিনোভা। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্লাদের মারিনভ নিশ্চিত করেন হত্যার আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এই সাংবাদিক। প্রধানমন্ত্রী বয়কো বসিরভ আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ পদক্ষেপ মধ্য দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব হবে। তবে শুরু থেকেই মারিনোভার খুনের সঙ্গে তার পেশাগত কাজের সম্পর্ক অস্বীকার করে আসছে কর্তৃপক্ষ।
এক বছরের মধ্যে বুলগেরিয়ায় খুন হওয়া তৃতীয় সাংবাদিক মারিনোভা। সেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

রয়টার্স



মন্তব্য