ঢাকা - ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮ : ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

বিস্ময়কর সামরিক স্থাপনা রুদখান কেল্লা

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১০, ২০১৮ ১৪:৪৮
২৪৭ বার পঠিত

ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে সালজুকি শাসনামলের একটি ঐতিহাসিক কেল্লার নাম হলো রুদখান। রুদখান এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থানের ফলে কেল্লাটিকে ঘিরে চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিরাজমান। রুদখান কেল্লায় যাবার জন্যে ফুমান শহর থেকে কয়েকটি গ্রাম পেরিয়ে পাঁচ কিলোমিটারের মতো পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়।

পাহাড়-জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পাথর এবং সিমেন্ট দিয়ে তৈরি সাপের মতো আঁকাবাঁকা পথ ধরে প্রায় আট শ` টি সিড়িঁ পেরিয়ে যেতে হয়। সিড়িঁর শুরুতে একটি সাইনবোর্ড আছে। তার ওপরে লেখা হয়েছে- ‘রুদখান কেল্লা: ইরানের বিস্ময়কর একটি সামরিক স্থাপনা’।

আকাশচুম্বি জঙ্গলের মাঝে বিশাল এই স্থাপনাটির অবস্থান প্রমাণ করে স্বদেশভূমি রক্ষার জন্যে গিলানের জনগণ কতটা সচেষ্ট ছিলেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা সাত শ` মিটারেরও বেশি। এর দুই দিক দিয়ে বয়ে গেছে দুটি নদী।

কেল্লাটির নির্মাণকাল একাদশ কিংবা দ্বাদশ শতাব্দী অর্থাৎ সেলজুকি শাসনামল। মূল গেইটের ওপরে লেখা হয়েছে সংস্কারকাল ১৫২৩ খ্রিস্টব্দ। নদীর তীরে এই কেল্লাটি নির্মিত হয়েছে। রুদখান শব্দটি রুদ্‌খনেরই সংক্ষিপ্ত আঞ্চলিক রূপ যার অর্থ হলো নদী। এর অবশ্য অন্য নামও রয়েছে যেমন: কাল্লে হেজর ফেল্লে বা সহস্র সিঁড়ি কেল্লা কিংবা হেসামি কেল্লা। ইতিহাসে এই নামটিকে সর্বপ্রথম যিনি উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন পোল্যান্ডের বিখ্যাত গবেষক আলেক্সান্ডার শাবদেজকভ। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই কেল্লাটিকে গিলান প্রদেশের বৃহৎ কেল্লা বলে উল্লেখ করেছিলেন।

ভূ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে রুদখান কেল্লাটি এমন এক এলাকায় অবস্থিত যেখানে ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় বহু ধ্বংসলীলা ঘটেছে। তাছাড়া এলাকাটি সঞ্চিত লোহার জন্যে বেশ সমৃদ্ধ। প্রাচীন অনেক খনিও রয়েছে এখানে।

পুরো কেল্লাটি পূর্ব ও পশ্চিম-এই দুটি অংশে বিভক্ত। সমগ্র কেল্লাটির আয়তন ৬ দশমিক ২ হেক্টর। কেল্লার পশ্চিম অংশে রয়েছে মূল প্রবেশদ্বার। আরো রয়েছে ঝর্না, পুকুর, জলাধার, হাম্মাম, শাহের বাসস্থান এবং আরো কটি বাসা। আর পূর্ব অংশে রয়েছে বেশিরভাগই সেনাবাহিনীর স্থাপনা। এই অংশেও একটি পৃথক দ্বার রয়েছে, রয়েছে দুটি টাওয়ার, কারাগার, কয়েকটি আবাসিক ভবন এবং জরুরী বহির্গমনের ব্যবস্থা।

কেল্লার দেয়ালগুলোর উচ্চতা সর্বত্র এক সমান নয়। যেদিক দিয়ে শত্রুদের প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হয়েছিল সেদিকটা একটু বেশি উঁচু। মোটামুটি ৩ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার তারতম্য রয়েছে কেল্লার প্রাচীরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এবং ঐতিহাসিকতার কারণে সারা বছর জুড়েই কৌতূহলী দর্শক এবং পর্যটকগণ এই কেল্লা পরিদর্শনে আসেন।



মন্তব্য