ঢাকা - জুন ১৯, ২০১৮ : ৪ আষাঢ়, ১৪২৫

বেতন নিয়ে মাথা ঘামালে খেলায় ব্যাঘাত ঘটবে: জাহানারা আলম

নিউজ ডেস্ক
জুন ১৩, ২০১৮ ১২:৫২
৫০ বার পঠিত

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হবার পর জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের বেতন-ভাতার বৈষম্য।

পূর্বেও এবিষয়ে আলোচনা হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এশিয়া কাপ জয়ের পর নারী ক্রিকেট দলকে ২ কোটি টাকা পুরষ্কার ও প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরষ্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ আছেন ১৭ জন নারী ক্রিকেটার। তাদের বেতন সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা। ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বনিম্ন বেতন লাখের কাছাকাছি।

ছেলেদের জাতীয় লিগে প্রথম স্তরে ম্যাচ ফি ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্তরে ২০ হাজার। বিসিএলে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার টাকা।

মেয়েদের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ ফি ৬০০ টাকা মাত্র। যদিও পরবর্তীতে ম্যাচ ফি ৪'শ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

ফাইনাল ম্যাচে শেষভাগে জয়ের ক্ষেত্রে স্নায়ুচাপ সামলে বড় ভূমিকা রেখেছেন জাহানারা আলম। তার কাছে এই জয় বিশেষ কিছু।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, নারী ক্রিকেট দল তাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে জয় পেয়েছে। এখানে কোনো ছাড় দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পুরষ্কার ঘোষণায় কতটা সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন জাহানারা আলম?

"দেখুন, এখানে খুশি বা অখুশি হবার কিছু নেই, আমরা আমাদের কাজটা পূরণ করেছি। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল। যেটা আমরা বহুদিন করে আসতে পারিনি। আমাদের ভালো ফলাফল দিয়ে বাংলাদেশের মানুষদের খুশি করতে পেরেছি এটাই বড় ব্যাপার, এখন বোর্ড যাই করবে সেটা বোনাস।"

বেতনের ব্যাপারটাও বোর্ডের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এটা ভাবার জন্য বোর্ডের কর্মকর্তারা আছেন। এটা নিয়ে মাথা ঘামালে ক্রিকেট খেলায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

সালমা খাতুন ২ বছর পর অধিনায়কত্ব পেয়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা পেয়েছেন। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের পরিচিত এই মুখ বলেন, "আগে কিংবা পরে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যে সাহায্য ছিল না তেমন নয়, হয়তো একটু কম ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় সংবর্ধনায় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বলেছেন সবসময় তাদের সাথে থাকবেন।"

এই জয়টাকে একটা মঞ্চ মনে করেন সালমা খাতুন। তার মতে, আকরাম খান বা খালেদ মাহমুদ সুজনরা যখন খেলেছেন তখন বর্তমান পুরুষ দলের মতো সুবিধা পাননি। এখন যে নারী দল খেলছে তারা সেই মঞ্চ তৈরি করে দিবেন, যাতে ভবিষ্যৎ নারী ক্রিকেটাররা আরো ভাল সুযোগ সুবিধা পান।

ফাইনালে ভারত ও গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভাল ব্যাট করেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। বাংলাদেশের শেরপুর জেলা থেকে উঠে আসা এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বলেন, মেয়েদের ক্রিকেট ছেলেদের থেকে একটু অবহেলিত। মিডিয়ার ফোকাসটা নেই। অনেক খেলা সরাসরি দেখানো হয়না, তার মধ্যেও এই জয়টা অনেক বড় বার্তা দেবে।

খুব রাতারাতি পরিবর্তনের আশা করছেন না জ্যোতি। তার বিশ্বাস, এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেই গুরুত্ব অর্জন করা সম্ভব হবে।

সূত্রঃ বিবিসি



মন্তব্য