ঢাকা - অক্টোবর ২০, ২০১৮ : ৫ কার্তিক, ১৪২৫

ইসরাইলের হামলার পর নতুন করে প্রস্তুত হচ্ছে হামাস

নিউজ ডেস্ক
মে ১৬, ২০১৮ ১৫:১৫
১৪৪ বার পঠিত

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে লক্ষ্য করে ১১টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ট্যাংক দিয়ে চালানো হয়েছে আরো দুটি হামলা। তবে কোনো হতাহতের খবর এখনো জানা যায়নি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ থামাতে মঙ্গলবার হামাসের স্থাপনায় হামলা চালায় তারা।

এর আগে সোমবার দখলদারিত্ব ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ চলাকালে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। গাজায় ফিলিস্তিনের জাতিমুক্তি আন্দোলনের সংগঠনের হামাসের ৫টি স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজা সীমান্তে আন্দোলনকারীরা ১০টি বোমা ছুঁড়েছে। ইসরাইলি সেনাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। সীমান্তে কোনো আঘাত না থাকলেও তাদের দাবি, অনেকে ইসরাইলে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের রাষ্ট্র। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা।

কর্মসূচির শেষ দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা‘নাকবা’ বা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। গ্রেট রিটার্ন মার্চ খ্যাত এবারের কর্মসূচিতে সোমবারের আগ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৪ জন ফিলিস্তিনি। আর সোমবার একদিনেই নিহত হয়েছেন আরো ৫৯ জন।

ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পরের দিনই ফিলিস্তিন জুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার নাকবা বা বিপর্যয় দিবসে ৭০তম বার্ষিকী পালন করে ফিলিস্তিনিরা। ১৯৪৮ সালের এইদিনে ফিলিস্তিনের হাজার হাজার মানুষকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই প্রেক্ষাপটে গ্রেট রিটার্ন মার্চ কর্মসূচির শেষ দিনটি পালিত হবে আজ। পাশাপাশি এদিন সোমবার নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এই বাস্তবতায় গাজা উপত্যকা আজ বিক্ষোভে আরো উত্তাল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরাইল বলেছে, সোমবার গাজায় ইসরাইলি সীমান্তের ১৩টি স্থানে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি ‘সহিংস দাঙ্গা’য় অংশ নেয়। ইসরাইলি বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও মারণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করলে ফিলিস্তিনিরা পাথর ও আগ্নেয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ’র একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বিক্ষোভকারী নয়, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল তাদের ওপর গুলি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের কাঁদানে গ্যাসসহ সাধারণ উপায় ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনদিনের শোক ঘোষণা করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, আজ আবারো আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ বজায় রাখা হয়েছে।



মন্তব্য