ঢাকা - ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ : ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

যেমন আছে গুরমিত ও হানিপ্রীত

নিউজ ডেস্ক
এপ্রিল ১৬, ২০১৮ ০৯:৪৪
২৩৯ বার পঠিত

পদবীতে দু’জনেই ইনসান। ধীরে হলেও কারাগার নাকি দু’জনকেই নামিয়ে আনছে সাধারণ ‘ইনসান’-এর স্তরে। ডেরা সাচ্চা সওদা’র প্রাক্তন প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিংহ ইনসান এবং তার পালিত কন্যা হানিপ্রীত। জেলে অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে গুরমিতের দৈনিক রোজগার এখন দিন প্রতি মাত্র কুড়ি রুপি। আর বাবার ‘প্রাণাধিক প্রিয়’ হানিপ্রীত? তিনি এখন নিজের পরিবারের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। আত্মীয়েরা দেখা করতে এলে নাকি হানিপ্রীতের খুশির সীমা থাকে না।

দুই সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন গুরমিত সিংয়ের। তাকে রাখা হয়েছে সুনারিয়া (রোহতক) জেলে। অন্য দিকে, গুরমিত সিংয়ের মামলার রায়দানের সময় সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে, হানিপ্রীতের বিরদ্ধে মামলা চলছে। আপাতত তার ঠাঁই আমবালা সেন্ট্রাল জেলে। শোনা যায়, জেলে আসার পর দু’জনেই অবসাদে ভুগতেন। কখনো দেখা দিত প্রবল অস্থিরতা। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা তারা করছেন। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষের কথা থেকে বেরিয়ে আসছে, দু’জনের মধ্যে বেশ খানিকটা এগিয়ে গুরমিত সিং। ‘‘এখন তিনি নিয়মনিষ্ঠ।ভদ্র। আগের গুরমিত সিং আর এখনকার গুরমিত সিংয়ের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত।’’

বাবার চেনা জেল্লা নাকি কেড়ে নিয়েছে কারাগারের বন্দি জীবন। তার দাড়ি এখন ধূসর। জেলের খামারে ফসল ফলানোর জন্য প্রতিদিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে আপত্তিও করেন না। রংচঙে জামাকাপড় ছাড়া যার চলত না, এখন তার পরনে কিনা সাদা কুর্তা এবং পায়জামা! তুলনায় জেল্লাদার পোশাকের নেশা ছাড়তে পারেননি হানিপ্রীত। জানা গেছে, গুরমিত সিংয়ের খাতে প্রতি মাসে ৫ হাজার রুপি জমা দেয়ার জন্য তার পরিবারকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেই টাকায় জেলের ক্যান্টিন থেকে মাঝে মধ্যেই শিঙাড়া কেনেন গুরমিত সিং। কেনেন ফল-মূল।

শোনা যায়, হানিপ্রীত নাকি প্রথম দিকে বাড়ি থেকে খাবার আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা বেশি দিন ভোগ করতে পারেননি। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হানিপ্রীত নিজেকে আধ্যাত্মিক হলে দাবি করেন। কিন্তু পুজোআর্চায় তার আগ্রহ নেই। এ ছাড়া তিনিও জেলে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।



মন্তব্য