ঢাকা - জুন ১৯, ২০১৮ : ৪ আষাঢ়, ১৪২৫

৩০ বিঘা জমির মালিক হয়েও রোহিঙ্গা শিবিরে অসহায় জীবনযাপন

নিউজ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮ ১০:৫৬
৯১ বার পঠিত

মিয়ানমারের কুমারখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন জাফর ইসলাম। নিজের এলাকায় ৩০ বিঘা জমি, বাড়ি ঘর সব মিলিয়ে বেশ নাম ডাক ছিল জাফর ইসলামের।

কয়েক গ্রামের মানুষ তাকে এক নামে চিনতো। কিন্তু সেই ব্যক্তি, জীবন বাঁচাতে একেবারে এক কাপড়ে পালিয়ে এসেছেন পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে। আর এখন পলিথিনের শেড দেয়া ঘরে দিনের পর দিন পার করছেন তিনি এবং তার পরিবার।

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার টেংখালি ক্যাম্পে এখন বাস জাফর ইসলামের। গত ছয় মাস ধরে ওপরে পলিথিন এবং চারপাশে বেড়া দিয়ে ঘেরা ছাপড়ার মত দুটি ঘরে স্ত্রী হাসিনা বেগম এবং ছয় সন্তানকে নিয়ে কোনমতে জীবন ধারণ করছেন তিনি। আসবাব বলতে কিছু নেই। মাটিতে বিছানা পেতে শোবার স্থান করা।

এই জাফর ইসলামের বাড়ী ছিল কাঠের তৈরি দোতলা বাড়ী। যেটা মিয়ানমারের গ্রাম-অঞ্চলে শুধুমাত্র বিত্তবানদের থাকে। ঐতিহ্যবাহী এসব বাড়ী অনেক পুরনো, এবং বংশের ঐতিহ্য ধারণ করে। সেই বাড়ী ছেড়ে পলিথিনের ছাপড়ায় দিন কাটছে তাদের এখন।

হাসিনা বেগম বলছিলেন, ‘এক কাপড়ে রাতের অন্ধকারে নৌকায় করে পালিয়ে এসেছি। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা সব বন্ধ। কবে আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারবে তার কোন ঠিক নেই।’

‘যখন আসি তখন এক মাস চলার মত অর্থ আমার হাতে ছিল। কিন্তু আট জনের খরচ চালাতে কিছু দিনের মধ্যেই সেই অর্থ শেষ হয়ে যায়। এখন দিন চলছে বিভিন্ন সংস্থা আর মানুষের সাহায্যে, যেটা আমি কোন দিন কল্পনা করিনি।‘ বলছিলেন জাফর ইসলাম।

এক সময় তাদের জমি-জমাতে অনেক কৃষক কাজ করতো। প্রতিদিন অনেক মানুষের খাবার ব্যবস্থা করতেন তারা। কিন্তু এখন তাদেরকে অন্যের ওপর ভরসা করে চলতে হচ্ছে।

এখনকার জীবন নিয়ে তারা বললেন, এখানে অনেক সমস্যা কিন্তু জীবনের নিশ্চয়তা আছে। কিন্তু মিয়ানমারে তাদের সবকিছু ছিল থাকলেও জীবনের কোন নিশ্চয়তা ছিল না।

জাফর ইসলাম বলছিলেন, তিনি শুনেছেন যে তার জমি মিয়ানমারের আর্মি দখল করে ফ্যাক্টরি বানানোর কাজ করছে।

সুত্রঃ বিবিসি



মন্তব্য