ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮ : ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে আগ্রহ হারাচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো

নিউজ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ ০৯:০১

বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের জন খাদ্য সহায়তা দিতে আস্তে আস্তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে দাতা সংস্থাগুলো। ইতালি সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হোটেল স্যুটে সোমবার রাতে তার সঙ্গে সাক্ষাত করে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে এ কথা জানিয়েছেন। সরকারী বর্তা সংস্থা বাসস এ খবর দিয়েছে।

ওই বৈঠকের পর ডেভিড বিসলে-কে উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক সাংবাদিকদেরকে জানান, রোহিঙ্গাদের খাওয়ানোর ব্যাপারে জাতিসংঘের ব্যবস্থার আওতায় দাতা সংস্থার মধ্যে আগ্রহটা ধরে রাখা ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে দাতা সংস্থাগুলোর আগ্রহ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মানবিক সংস্থাটি বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে খাদ্য সরবরাহ করার ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা রাখছে ডব্লিউএফপি। এ সংস্থাটি গত ছয় মাসে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮ কোটি ডলার সমমূল্যের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে । সংস্থাটির হিসাব মতে, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সরবরাহের জন্য প্রতি মাসে প্রয়োজন দুই থেকে আড়াই কোটি ডলার।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিংগাদের খাদ্য সহায়তার ব্যাপারে দাতা সংস্থার অনাগ্রহ প্রসংগে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্জাতিক বিভাগের অধ্যাপক ড: আকমল হোসেন রেডিও তেহরানকে বলেন, এ অবস্থায় এ বিরাট বোঝা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব হবে কী না সেটাই এখন প্রশ্ন।

ডব্লিউএফপি’র নির্বাহী পরিচালকের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যাতে মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সে ব্যাপারে চাপ অব্যাহত রাখার জন্য।

এ ছাড়া, ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সমস্যার মূলে রয়েছে মিয়ানমার, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকে। তাই এ নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও মিয়ানমারের কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি। রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয় মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।



মন্তব্য