ঢাকা - জুলাই ২১, ২০১৮ : ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫

খালেদা জিয়াকে কোনো সুযোগ-সুবিধাই দেয়া হচ্ছে না: মওদুদ আহমেদ

নিউজ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮ ১১:১২
২৪৯ বার পঠিত

কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া দলীয় নেতাদের বলেছেন, যেভাবে তাকে জেলখানায় রাখা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কষ্টকর আর কিছু হতে পারে না।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ সহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং আইনজীবী শনিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান।

মওদুদ আহমেদ জানান, "খালেদা জিয়াকে কোনো সুযোগ-সুবিধাই দেয়া হচ্ছে না। তার মনোবল খুব শক্ত আছে। কিন্তু তিনি সেখানে আছেন একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে। কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা নাই। তিনি আছেন একটা সলিটারি কনফাইনমেন্টে, নির্জন কারাগারে। কোন জনমানব কেউ নেই। যেন একটা পরিত্যক্ত বাড়ি।"

গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে থাকতে না দেয়ার কারণেই খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় আছেন বলে উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, "উনার তো ৭২ বছর বয়স। অনেক শারীরিক সমস্যা আছে। উনার দুটি হাঁটুই রিপ্লেস করা। হাঁটতে অসুবিধা হয়। ফাতেমা বলে তার যে গৃহসেবিকা, তিনি গত বিশ বছর ধরে তার দেখাশোনা করতেন। উনি বললেন, এর চেয়ে বেশি কষ্টকর আমার জন্য আর কিছু নয়। ফাতেমাকে তারা আমার সঙ্গে থাকতে দিল না। তাকে জেলগেট থেকে বিদায় করে দিয়েছে।"

খালেদা জিয়াকে এখনো পর্যন্ত রাজবন্দীর মর্যাদা দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, "২০০৬ সালের সংশোধিত জেল কোডে নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে কারা কারা অটোমেটিক্যালি ডিভিশন পাবে। অথচ উনাকে কোন ডিভিশন দেয়া হয়নি। উনি সাধারণ কয়েদি হিসেবে আছেন।"

"আমি নিজেই তো এই সরকারের আমলে দুবার জেলে গেছি। আমাদের ডিভিশন পাওয়ার জন্য তো কোন আদালতের অর্ডার লাগেনি। কারণ আইনের মধ্যেই আছে আমি সেটা পাব। অথচ বেগম জিয়াকে আজ তিনদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কোন ভিডিশনাল ফ্যাসিলিটি দেয়া হয়নি।"

সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জন্য সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নানা সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তাকেও মিথ্যে বলে জানান মওদুদ আহমেদ।

"খবরের কাগজে লিখেছে এসি দিয়েছে। মোটেই এসি দেয়নি। এটা একেবারে মিথ্যে কথা। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাইরে বলা হচ্ছে আপনাকে সব সুযোগ সুবিধা দিয়েছে, ফাতেমাকে দিয়েছে। উনি সম্পূর্ণভাবে ডিনাই করেছেন। সেখানে জেলের কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই উনি এসব কথা বলেছেন।"

বিএনপি নেতাদের এই দলটি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মূলত তার আপিল আবেদনের ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে। এ নিয়ে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে তারা কথা বলেছেন।

"আমরা ভেবেছিলাম বৃহস্পতিবারই আমরা রায়ের সত্যায়িত কপি পাব। আপিল করার আগে সেটা দরকার। জাজমেন্টের কপি ছাড়া কোন আপিল ফাইল করা যায়না। যদি আগামিকাল রোববার আমরা এটা পাই, তাহলে সোমবার বা মঙ্গলবার আমরা এটা ফাইল করবো। সাথে সাথে তার জামিনের আবেদনও আমরা করবো।"

মওদুদ আহমেদ বলেন, জেলখানায় এই সাক্ষাতের সময় তাদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। তবে দল কীভাবে চালাতে হবে সেই নির্দেশনা তিনি আগেই দিয়ে গেছেন।

"আমাদের গঠনতন্ত্রেই আছে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান, তারেক রহমান উনিই দায়িত্বে থাকবেন। তিনি আমাদের বলেছেন, সুশৃঙ্খল থাকতে, কোন হঠকারিতা না করার জন্য এবং সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণভাবে হয়। এই ব্যাপারে যেন আমরা বাড়াবাড়ি কিছু না করি। যাতে করে দেশের মানুষ বোঝে যে আমরা সংযম দেখিয়েছি।"

মওদুদ আহমেদ বলেন, দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মেনে তারা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

সুত্রঃ বিবিসি



মন্তব্য