ঢাকা - মে ২২, ২০১৮ : ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

মন্ত্রণালয় কর্তাকে পাজেরো 'উপহার' না দেয়ায় প্রত্যাশিত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি‍ঃ চসিক মেয়র

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১১, ২০১৬ ১৫:৩৯
০ বার পঠিত
প্রকল্প অনুমোদনে এবং বরাদ্দ পেতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘুষ চান। ঘুষ না দেয়ায় তার দায়িত্বের প্রথম বছর তথা প্রথম অর্থবছরে প্রত্যাশিত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আন্তরিকতা ও দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে অনেক আমলার মধ্যে। সবাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে। সিস্টেমের কোথাও গলদ হলে কাজ হবে না। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে 'স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শহর' শীর্ষক নগর সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এমন অভিযোগ করেন।

মেয়র বলেন, কিছুদিন আগে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন। তিনি একটি নতুন পাজেরো জিপ চান। সেটি দিলে নাকি চসিকের প্রকল্প অনুমোদন বা পাসে কোনো সমস্যা হবে না। আমি কোথা থেকে জিপ দেব? কেন দেব? জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটি একনেকে পাস হওয়ার পরও বরাদ্দ ছাড় করাতে নানা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। বরাদ্দের ৫ শতাংশ দিয়ে দিলে নাকি যত বরাদ্দ চাইব পাব। আমি কোথা থেকে দেব, কোন খাতে দেখাব জানতে চাইলে বলা হয়, ঠিকাদারের কাছ থেকে ম্যানেজ করতে। এ কথার কোনো যুক্তি আছে? আমি চোর হয়ে আপনার পকেট ভারি করব? গত অর্থবছরে সাধারণভাবে আমরা পেলাম ৮০ কোটি টাকা। ৫ শতাংশ 'ঘুষ' দিলে পাওয়া যেত তিনশ' কোটি টাকা থেকে সাড়ে তিনশ' কোটি টাকা। এখন যেন এটাই হল বাস্তবতা।

নাছির বলেন, বারইপাড়া থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে কতদিন আগে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভাটি হয়। এখন অর্থছাড়ে নানা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। অথচ ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড় না দিলে কিছুই করার নেই। তখন হয়তো আবার পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হবে। সেখানে আমাকে পছন্দ না করলে টেনে আনা হবে। ব্যর্থতার দায় চাপানো হবে। সব অভিযোগের তীর আমাদের দিকে। জবাবদিহি আমাদের। হাত-পা বেঁধে বলে সাঁতার কাটো। মন্ত্রণালয় যদি প্রকল্প অনুমোদন না করে, সিদ্ধান্ত ওকে না করে, বরাদ্দ না দেয় তবে কিছুই করা যাবে না। প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম দৌড়ঝাঁপ করা সম্ভব নয়। কেউ করতে পারলে সেটি ব্যতিক্রম। তেল মেরে হাজিরা দিয়ে কাজ আদায় করতে হবে। মেয়রের দায়িত্বের মধ্যে কি সেটি লেখা আছে?

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এসএম


মন্তব্য