ঢাকা - এপ্রিল ২৩, ২০১৮ : ৯ বৈশাখ, ১৪২৫

সাঁড়াশি অভিযানে ১১ হাজার ৬৮৪ জন গ্রেফতার, টার্গেট কিলিং বন্ধে সমন্বিত মিশন

নিউজ ডেস্ক
জুন ১৫, ২০১৬ ০২:২৬

policeআইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। দারুণ উ‍ৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছে তারা। শহরে বা গ্রামে কোথাও নিরাপত্তা নেই। টার্গেট করে খুন করা হচ্ছে। ফলে মানুষ আজ আর শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। সামগ্রিকভাবে জননিরাপত্তার অভাব তীব্র হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব, পুলিশ এবং আনসার বাহিনী যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযানে নেমে পড়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, মাগুরা, রাজশাহি, যশোহর, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, বরিশাল, দিনাজপুর এবং রংপুরে সবচেয়ে বেশি ধরপাকড় চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। সাতক্ষীরা, নাটোর এবং ঝিনাইদহেও শুরু হয়েছে অভিযান। এছাড়া জেলায় জেলায় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলছে ।


সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, ব্লগার খুন, অধ্যাপক-শিক্ষকদের হত্যা-সহ যে সব কট্টরবাদী কার্যকলাপ অবিলম্বে রোখার ব্যবস্থা করতে দেশব্যাপী পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানের চতুর্থ দিন সোমবার ২৬ জঙ্গিসহ ৩ হাজার ১১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এনিয়ে চার দিনে ১১ হাজার ৬৮৪ জন গ্রেফতার হলো যাদের মধ্যে ১৪৫ জন জঙ্গি। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সোমবার গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ২ হাজার ৩৬৮ জন, মাদক মামলার ২৯৫ জন, অস্ত্র মামলার ৩৮ জন ও অন্যান্য মামলার ৩৮৮ জন আসামি রয়েছেন। এ নিয়ে শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ১১ হাজার ৬৮৪ জন গ্রেফতার হলো। এদের মধ্যে ১৪৫ জন জঙ্গি সদস্য রয়েছে ।


সাধারণ মানুষের কথা হচ্ছে, যেকোনো উপায়েই গুপ্তহত্যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার । বিএনপি দাবি করছে, সাঁড়াশি অভিযানের নামে আসলে বিএনপি-কে আক্রমণ করা হচ্ছে। বেছে বেছে বিএনপি নেতা ও কর্মীদের বাড়িতে যৌথ বাহিনী হানা দিচ্ছে এবং তল্লাশি চালাচ্ছে। পুলিশের দাবি, অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ মিলেছে যাদের বিরুদ্ধে, তাদেরই ধরপাকড় করা হচ্ছে। কোনও দলের কর্মীদের বেছে বেছে হেনস্থা করার অভিযোগ সত্য নয়।


জঙ্গিরা আসে গোপনে, চুপিসারে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে খুন করে পালায়। জঙ্গিদের খুনের মহোৎসব দেখা যাচ্ছে। ৫ জুন চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু (৩৫) নিহত হন। একই দিন নাটোরে দুর্বৃত্তরা খ্রিস্টান মুদি দোকানি সুনীল গোমেজকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যা করে। এর দুদিন পর ৭ জুন ঝিনাইদহে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এসব হত্যার রেশ না কাটতেই, পুলিশ সারাদেশে জঙ্গি বিরোধি সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দিতে না দিতেই শুক্রবার ভোরে পাবনার হেমায়েতপুরে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সেবক নিত্যরঞ্জন পাণ্ডেকে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইতোপূর্বেও বিশেষ কিছু ব্যক্তির ওপর হামলা হয়েছে। ব্লগার, লেখক, প্রকাশক থেকে শুরু করে রাজপথে পাহারারত পুলিশ, পুলিশের পরিবার, এমনকি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও বাদ যায়নি। আরও আছেন শিয়া সম্প্রদায় আর মাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও। এসব কিছুর মাঝে মোটেও সংশ্লিষ্ট নন, এমন দুজন বিদেশি নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন একই ধরনের হামলায়। ঘটনাগুলো পৃথক পৃথক স্থানে ও লক্ষ্যে। তবে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী। এ অবস্থায় ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এখন সিরিয়ার পরই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নানা আক্রমণের খবর।


নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আক্রমণাত্মক হতে হবে। সম্মিলিতভাবে অপারেশন চালাতে হবে। ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলার পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যেভাবে সর্বাত্মক অভিযান চালানো হয়েছিল, এখন সেভাবেই অভিযান চালাতে হবে। নইলে ওদের টার্গেট কিলিং বন্ধ করা যাবে না। উগ্রপন্থিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে না পারলে কোনো প্রতিরোধই কাজে আসবে না। আর জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে শুধু পুলিশই নয়, র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকেও একযোগে কাজ করতে হবে। শুধু পুলিশের একার পক্ষে পুরো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কঠিন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমে বলেছেন, “কয়েকদিনে কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। তবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি বিজিবিও নামানো হয়েছে। সমন্বিতভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানের ফলও শিগগিরই পাওয়া যাবে।” পুলিশ জানিয়েছে, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান। পুলিশ বসে নেই। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার কিছু নেই। সম্মিলিতভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আপনার পাশের কাউকে সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান। তাহলেই জঙ্গিরা-অপরাধীরা পিছু হটবে। দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযানের ফল কয়েক দিনের মধ্যেই মিলবে।”


বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এসএম



 


মন্তব্য