ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ : ১২ ফাল্গুন, ১৪২৪

এ লজ্জা ঢাকার দায়িত্ব কার?

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ৩১, ২০১৫ ২২:৩৬

resize_1379741574ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাস অনুপযোগী শহর বলে ঘোষনা করা হয়েছে। ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের গবেষনামুলক প্রতিবেদনে এই ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষনা অবশ্যই আমাদের জন্য লজ্জার। এই লজ্জা থেকে ১৬কোটি বাঙ্গালীর মুখ রক্ষা করার কি কেউ নেই? বাংলাদেশ২৪অনলাইন’র পরিবেশত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি আমাদের হতাশ করে।


অপরাধ সংঘটনের মাত্রা, সংঘর্ষের তীব্রতা এবং ভয়াবহতা, চিকিৎসার সহজলভ্যতা, সেন্সরশীপ, তাপমাত্রা, স্কুল এবং যানবাহনের সামগ্রিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে চালানো জরিপে এই কলঙ্ক দেওয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গবেষণামুলক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তার প্রতিবাদ করার কি কোন সুযোগ সংশ্লিষ্টদের আছে?


প্রতিদিনই চোখে পড়ছে, খবর পাওয়া যাচ্ছে- রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনের ভয়াবহতা। ছিঁচকে চুরি থেকে শুরু করে এমন কোন হেন অপরাধ নেই, যা ঢাকায় হচ্ছে না। খুন, রাহাজানি, ধর্ষন, দেহব্যবসা, অপহরণ, গুম, চাঁদাবাজি- সবই ঘটছে অবলীলায়। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক  সেন্টার। নাম সর্বস্ব চিকিৎসকরা যেনতেন ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। এজন্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। বিভিন্ন ধরণের টেস্ট-ফেস্টের নামে চলছে চিকিৎসার গলাকাটা বাণিজ্য। ‘সেন্সরশীপ’ নথিবদ্ধ হয়ে আছে আলমিরায়।


প্রয়োজনীয উদ্ভিদের অভাবে শীতের দিনেও ঢাকায় লেপ-কাঁথা গায়ে জড়াতে হয় না। ক্লিনিকের ফটোকপি যেন কিন্ডারগার্ডেনসহ ব্যক্তিমালিকাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চাহিদা মতো টাকা দিলেই মিলছে শিক্ষাসনদ। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক- এ যেন অভিভাবকহীন এক শহর। যাচ্ছেতাই করা যায়। বাঁধা দেওয়ার কেউ নেই, নেই ব্যবস্থা নেয়ারও কেউ। দৃশ্যপটের পরিপ্রেক্ষিতে বলাটা অমুলক হবে না- ঢাকা একটা মগের মুল্লুক। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? পরিত্রাণের সব পথ কি রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?


কেন ঢাকা সেরা বসবাসের অনুপযোগী হযেছে উঠছে, তা ভাবার সময় এসেছে। কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধার উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদেরকেই। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি আর দায়িত্বহীনতার দায় গোটা জাতি বহন করবে কেন? বিষয়টি ভাবতে হবে সরকার প্রধানকে।অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। শাস্তি নিশ্চিতের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্বল অভিযোগপত্র ও তদন্তে গাফিলতি করা উচিত হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা ক্লিনিক ও ‘কথিত’ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য গঠণ করতে হবে মনিটরিং কমিটি। মনিটরিং কমিটির মাসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যানজট দূরকরণে নগরপিতাকে উদ্যোগী হতে হবে। নির্মানাধীণ ফ্লাইওভারগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে ডিজিটাল সিস্টেম কার্যকর নিশ্চিত করতে হবে। সময় বেধে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের সুচী নির্ধারণ করলে যানজট অনেকটাই কমে যেতে পারে। কলঙ্ক মোছনের জন্য যত দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া যাবে, ততই মঙ্গল দেশ  ও জাতির জন্য।



মন্তব্য