ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ : ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪

মূল্যবোধহীনের হাতে প্রযুক্তি নিরাপদ নয়- নুরুল ইসলাম নাহিদ

নিউজ ডেস্ক
এপ্রিল ০১, ২০১৬ ১৪:৫০
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মকে নৈতিক গুণাবলি ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত করে তুলতে চাই। কারণ মূল্যবোধহীন মানুষের হাতে উচ্চমানের প্রযুক্তি, জ্ঞান ও দক্ষতা কখনও নিরাপদ নয়।’ বৃহস্পতিবার ঢাকার মোহাম্মদপুর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে দেশব্যাপী আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা- ২০১৬ এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে এ তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মুক্ত আকাশসংস্কৃতির প্রভাবে দেশে দেশে কর্মসংস্থানে মেধাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেধাবী দক্ষ জনশক্তির বিশ্বব্যাপী পরিভ্রমণ বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশগুলোর জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাই বিশ্বমানের জ্ঞান ও দক্ষতা। কারণ, বিশ্বায়নের এ যুগে মেধাবীরাই সমাজকে নেতৃত্ব দেবে। আর তাই বর্তমান সরকার সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে মেধার বিকাশে সকল বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে।’ শিক্ষা বিস্তারে বর্তমান সরকার গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘লেখাপড়ার সুযোগ কেবল সম্পদশালীদের জন্য-বর্তমান সরকারের দরিদ্র শিক্ষার্থীমুখি বিভিন্ন কর্মসূচি সে ধারনা ভেঙ্গে দিয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়ে এখন স্কুল, কলেজে পড়াশুনা করছে। এসব দরিদ্র শিক্ষার্থীকে স্কুলে ধরে রাখতে সরকার তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তি, বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক, স্কুলের বেতন মওকুফ সুবিধা, স্কুলে দুপুরের খাবার, প্রভৃতি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএস মাহমুদের সভাপতিত্বে দেশব্যাপী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শামছুল হুদা এবং ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.আবদুল হান্নান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, অংক, বিজ্ঞানে ভীতি দূর করতে সারা দেশে আর্থিকভাবে দুর্বল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি বেতনে অস্থায়ীভিত্তিতে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষক নিয়মিত ক্লাশ নেয়ার পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের চাহিদা মতো সহায়তা প্রদান করছেন।’

তিনি বলেন, ‘মেধা এখন আর শ্রেণি বৈষম্যের বিষয় নয়, মেধা ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ফলাফলে মেধার এ সর্ববিচরণ আমরা লক্ষ্য করি। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এখন অনেক ভালো করছে। সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে বিগত সব ক’টি প্রতিযোগিতায়ও জাতীয় পর্যায়ে অধিকাংশ বিজয়ীই ঢাকার বাইরে থেকে। সহায়তা পেলে, সমর্থন পেলে অতি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও যে অতি অসাধারণ মেধাবী হয়ে উঠতে পারে।’ মেধা অন্বেষণের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসাধারণ প্রতিভাবানদের অন্বেষণ করা এবং তাদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অগ্রবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা।’ দেশে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে দেশব্যাপী আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দিনব্যাপী এ চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় দেশের আটটি বিভাগ ও ঢাকা মহানগর থেকে মোট ১০৮ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে এ ১০৮ জন প্রতিযোগী জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

বিকেল ৪টায় পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।


মন্তব্য