ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ : ১২ ফাল্গুন, ১৪২৪

সড়কে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করুন  

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ২৫, ২০১৫ ২৩:১৪
দেশের একটি অন্যতম ব্যাধি পথ দুর্ঘটনা। প্রতিদিনই ঘটছে, প্রতিনিয়ত হচ্ছে। পিচঢালা কালো পথ হচ্ছে রঞ্জিত। বছর নয়, দিন পরম্পরায় ঘটছে এ ঘটনা। লম্বা হচ্ছে হতাহতের তালিকা। এভাবে আর কতদিন? এ থেকে পরিত্রাণের পথগুলো কি বন্ধ হয়ে গেছে?

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর থেকে প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনার খবর জানা যাচ্ছে। বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই ঘটছে গাফিলতির কারণে। হতাহত হচ্ছে শত শত। আশ্চর্য বিষয়- এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আপাত দৃষ্টিতে দেশে আইন আছে বলে মনে হয় না। থাকলে, এই হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? হত্যার নেপথ্যে যারা থাকেন তারাই বা পার পেয়ে যাচ্ছেন কিভাবে- তা বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন’র একটি প্রতিবেদনে এবিষয়ে যে খবর দিচ্ছে- তা আঁতকে উঠার মতো। প্রায় সত্ত্বরভাগ দুর্ঘটনার জন্য চালক দায়ী। বাঁকি দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে সড়কের প্রশস্ততা কমসহ অন্যান্য কারণে। প্রতিবছর ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। দিন হিসেব করলে দাঁড়ায় ৪১ জন। এই সংখ্যা নেহাত কম নয়। শুধুই খামখেয়ালিপনায় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এদের জীবন। এসব জীবন আর স্বপ্নের কি কোনই মুল্য নেই? সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাহলে এইসব হত্যার দায়ভার কার উপর বর্তাবে?

আজব এই দেশে কোন নিয়ম লাগে না! সংশ্লিষ্টদের ‘খুশি’ করে সড়কে নামানো হয় অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন।চলে অবৈধ যানবাহনও।একাডেমিক প্রশিক্ষন ছাড়াই ওস্তাদের আস্তাভাজন শাগরেদ হচ্ছে যানবাহনের চালক। এজন্য জানতে হয় না ট্রাফিক আইন, দরকার পরে না বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। মালিকও কম টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে এদের হাতে তুলে দিচ্ছেন যানবাহনটি। ফলে দুর্ঘটনার নামে কথিত চালকরা সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। আর এই হত্যার নেপথ্যে থাকছে যানবাহনের মালিকরা।দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পর বীমার কারণে মালিকরা আর্থিক ক্ষতিপুরন পাচ্ছে।কিন্তু যাদের জীবন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তাদের পরিবারের এই ক্ষতিপুরণ দেওয়া কি সম্ভব? বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথিরিটি থেকে সহসাই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক কারণে যে কেউই পাচ্ছেন এই লাইসেন্স। এর সঙ্গে সংস্থার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। কোন পরীক্ষা-নিরিক্ষা ছাড়াই তাদের হাতে এই লাইসেন্স তুলে দেওয়া হচ্ছে। হত্যার দায়ভার তাদের ঘাড়েরও কিছুটা বর্তায় বৈকি।

সড়কে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে সরকারকেই। এজন্য নিতে হবে যুগপোৎযোগী সিদ্ধান্ত। সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত আইনের আমুল পরিবর্তন আনতে হবে। এই ধরণের বিচারে দ্রুত ট্রাইবুনালে করার ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বাচ্চে শাস্তি মৃত্যুদন্ড রাখতে হবে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথিরিটিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে। অর্থের বিনিময়ে যাতে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স না পায় সেদিকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। দুর্ঘটনা প্রবণ সড়কগুলোতে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কমতে পারে এই হত্যাযজ্ঞ।



মন্তব্য