ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ : ১২ ফাল্গুন, ১৪২৪

হাই তোলার সময় কানে কিছু শোনা যায় না কেন?

নিউজ ডেস্ক
জানুয়ারি ২৭, ২০১৬ ১৯:০৫

images (1) (1)


সারাদিনের কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে কিংবা অনেক ঘুম আসলে অনায়াসেই আমরা হাই তুলি, একজনকে হাই তুলতে দেখলে আশেপাশের মানুষজন ও হাই তুলতে শুরু করে। কখনও কি খেয়াল করে দেখেছেন যে হাই তোলার সময় কিছুক্ষণের জন্য কানে আপনি কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না? মনে হয় না যে কেও আপনার কানে হঠাত করে তুলা গুঁজে দিয়েছে?


আসলে আপনি কানের ভেতরের যে অংশ দিয়ে শব্দ শুনতে পান সেটাকে বলে ইয়ার ক্যনাল। ইয়ার ক্যনাল ঠিক ততটুকুই যতটা কানের মধ্যে আপনার আংগুল পৌঁছাতে পারে। এর শেষ প্রান্তে থাকে ইয়ার ড্রাম যেটা বিশেষ এক ধরনের টিস্যু দিয়ে তৈরী আর বাতাসের প্রভাবে এতে কম্পনের সৃষ্টি হয় যেটাকে আমরা সোজা কথায় শব্দ বলি।


এই কম্পন অর্থাৎ শব্দ, নরম এক ধরনের হাড় ‘ককলিয়া’ এর মাধ্যমে কানের ভেতরের অংশ অন্তঃকর্ণে পৌঁছায় এবং শব্দ তরংগ মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়। আপনার মস্তিষ্ক তখন শব্দ কম্পনের অর্থ উদ্ধার করে আর আপনাকে কেমন প্রতিক্রিয়া করতে হবে তার নির্দেশ দেয়।


এখন কথা হলো অন্তঃকর্ণে যে নরম অস্থির মাধ্যমে শব্দ প্রবেশ করে সেটি ইয়োস্টাকিয়ান টিউবের মাধ্যমে গলার পেছনের অংশে সংযুক্ত থাকে। এটি আসলে আপনার কানের ভেতরের বায়ুচাপ আর বাইরের চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।


যেমন ধরুন যখন কোন পর্বতারোহী পাহাড়ের চূড়ায় যায় তখন তাদের মাথার ভেতরে চারপাশের পরিবেশ থেকে অনেক বেশি বায়ুচাপ থাকে। আবার যারা ডুবুরীর কাজ করে পানির নিচে তাদের মাথার ভেতরের চাপ থেকে বাইরের পানির চাপ অনেক বেশি থাকে। তাই বাইরের এই চাপের সাথে ভেতরের চাপের ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই টিউবের প্রয়োজন হয়।


হাই তোলার সময় মুখের ভেতরে প্রচণ্ড পরিমাণ চাপের সৃষ্টি হয় যা ইয়োস্টাকিয়ান টিউবের মাধ্যমে পরিবাহিত হয় এবং ইয়ার ড্রামের ওপর বাইরের দিকে প্রচুর পরিমাণ চাপের সৃষ্টি করে। এই চাপ ইয়ার ড্রামের টিস্যুগুলো বাইরের কম্পনের প্রভাবে যেরকম আচরণ করতো তা কিছুক্ষণের জন্য পরিবর্তন করে দেয়। এই বহির্মুখী চাপের কারণে টিস্যুরা তাদের নমনীয়তা হারায় এবং যে কম্পন কোন শব্দ বা বাক্যের জন্ম দিতো তা চিরকালের জন্য হারিয়ে যায়। হাই তোলার সময় এজন্য কানের ভেতরে যে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয় তা কিছুক্ষণের জন্য বাইরের শব্দের প্রতি কানের প্রতিক্রিয়াকে ক্ষীণ করে দেয়। তাই হাই তোলার সময় হঠাত করে কানে শুনতে না পেলে চিন্তিত বা অবাক হবার কিছুই নেই। এখন তো আপনি জেনেই গেলেন এই আকস্মিক বধিরতার কারণ।


ফাহমিদা ফারজানা অনন্যা



মন্তব্য