ঢাকা - এপ্রিল ২৩, ২০১৮ : ৯ বৈশাখ, ১৪২৫

আট বছর পর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল মিথিলা

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ২৭, ২০১৫ ২৩:২৮

islamia-eye-hospital-online-dhaka-comস্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) তার সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতালকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। মো: সানোয়ার হোসেন ও সেলিনা বেগম পারিবারিক জীবনে একটি নতুন উপহার পেয়েছেন। আট বছর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী থাকার পর, তাদের বড় মেয়ে মিথিলা আক্তার সম্পূর্ণরূপে সুস্থতা লাভ করেছে। সে এখন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছে। ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সার্জারি করে আরোগ্য লাভ করতে পারায় তারা অনেক খুশি। তাদের বড় কন্যার এই আরোগ্য লাভ দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছে। গত মাসে একটি ছানি অপারেশনের জন্য হাসপাতালে তাদের দ্বিতীয় কন্যা তানজিলা আক্তারকেও নিয়ে এসেছে।


অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তানজিলার পাশে বসা হোসেন বলেন, "আমরা সত্যিই আনন্দিত যে, মিথিলা এখন পড়তে এবং নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকতে পারবে।" তার পক্ষে রঙ বেরঙে আঁকানো পশু, পাখি, শিশু এবং মীনা কার্টুন এর চিত্রাংকনগুলো এসসিবি এর সহায়তার কারণে  দেখা সম্ভব হয়েছে। এসসিবি তার কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ইস্পাহানি হাসপাতালে দৃষ্টিশক্তিহীনদের দৃষ্টিশক্তি ফেরৎ দেয়ার এই উদ্দেশ্যটি ৭১টি দেশে সম্প্রসারিত হয়েছে।


বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ অন্ধত্বে ভোগছে। সরকার দ্বারা প্রণীত ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান অনুযায়ী, ছানি পরার কারণে এদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ক্ষীণদৃষ্টিতে ভুগছেন। উপরন্তু, প্রায় ৪০ হাজার শিশু অন্ধ এবং ১২ হাজার ছানি পরার কারণে অনেকটাই অন্ধ। স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ এবং চোখের যত্ন পরিষেবা প্রদানকারী বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের ছানি এবং ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা নিরাময়যোগ্য। যদিও উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি অভাব রয়ে গেছে। প্রতি বছর প্রায় দেড় লাখ মানুষ ছানি পরার কারণে অন্ধ হয়ে যাবার ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র অর্ধেক এই সংকট নিরসন করতে পারে।


২০০৩ সাল থেকে ইস্পাহানী যে উদ্যোগ নিয়েছিল, ব্যাংকটি যৌথভাবে কাজ শুরু করায় তা নতুন গতি পেয়েছে। উন্নত সেবা এবং আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, শিশুদের উন্নত ওয়ার্ড, প্রসারিত হাসপাতাল- গড়ার ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলছে। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকের সমর্থনে হাসপাতালটি বিনামূল্যে ১৮০০ রোগীর ছানি অপারেশন পরিচালনা করেছে। ছানি অপারেশনে এমন সফলতা ডাক্তারদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে। ডাক্তারগণ এখানে তাদের প্রতিভা দেখিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিও সাফল্যের সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।


এসসিবি এবং অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় হাসপাতালটি গত ১৫ বছরে বহির্বিভাগের সেবা বৃদ্ধি করেছে। হাসপাতালটিতে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬.৬২ লাখ বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছে। ৩০০-৪০০ শিশু দিনে চিকিৎসার জন্য আসে, কিন্তু হাসপাতালে দিনে মাত্র ২০০ জনকে সেবা দেয়া যায়।


এসসিবি তার ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নত করণ এবং মানুষের জন্য ভাল কিছু করার একটি উদ্দেশ্য পূরণে সিএসআর কে কাজে লাগাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে এমন কিছু কাজ করা। অন্ধত্ব চিকিৎসার অভাব দূর করা। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করা। চোখের যত্ন ইউনিট এবং চোখের যত্ন নিতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ করা। এসসিবি ব্যাংকের ইস্পাহানী হাসপাতালে ২০০৩ সালে যে উদ্যোগ গৃহীত হয় এটি আজ একটি গ্লোবাল প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। এটিকে আরো সামনে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক ও তৎপর রয়েছে।


বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এআর/এমআই



মন্তব্য