ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ : ১০ ফাল্গুন, ১৪২৪

উত্তাল দরিয়ায় ঢাকার চলচ্চিত্র, নাবিক জাজ মাল্টিমিডিয়া

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ২৩, ২০১৫ ২৩:৫০

jazz tvমোঃরিয়াজুল হোসেন ভূঁইয়া (জিকো):


ছোট বৌ-বড় বৌ’র মতো ফ্যামেলিতে ড্রামা, ধনীর দুলালীর সঙ্গে গরীরের প্রেম এই সব ম্যাড় ম্যাড়ে এক ঘেয়ামির গল্পের সিনেমাকে পেছনে ফেলে বর্তমানে কলকাতার সিনেমায় স্থান পেয়েছে ঝকঝকে তকতকে আধুনিক বৈচিত্র‌্যময় গল্পের সিনেমা। এক ঝাঁক তরুন উদীয়মান প্রতিভাবান পরিচালক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে টালিউডের চলচ্চিত্রকে। বাণিজ্যিক বা ভিন্নধারার প্যারালাল এই দুই ধারার সিনেমায় সমকালীন আধুনিক চিন্তা চেতনার ছাপ রাখতে পারছে কলকাতার সৃজিত মুখোপাধ্যয় বা রাজচক্রবর্তীর মতো মেধাবী প্রতিভাবান পরিচালকেরা।


চলচ্চিত্র বড় একটি গণমাধ্যম এবং একই সাথে শিল্পও বটে। চলচ্চিত্র নির্মানে বড় অংকের লগ্নি দরকার। সেই সঙ্গে দরকার লগ্নি ফেরত আসার পূর্ণ নিশ্চয়তা। লগ্নি ফেরত না আসলে অথবা লাভের মুখ না দেখলে ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে, মুখ ধুবড়ে পড়বে এই ব্যবসা। এটাই আধুনিক মুক্তবাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি সৃজনশীল কাজ হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লগ্নি ও লগ্নি ফেরত আসার ব্যাপার। লগ্নিকৃত অর্থ যদি ফেরত না আসে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রযোজকরা ব্যবসা গুটিয়ে অন্য ব্যবসায় চলে যাবে। তাই চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে প্রযোজকদের অস্তিত টিকিয়ে রাখার জন্য যেকোনো ইন্ড্রাস্টিকে কাজ করতে হয়। আর আধুনিক এই যুগে যেকোনো ব্যবসাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে পন্যের মার্কেটিং বা প্রমোশন। চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষেত্রেও প্রমোশন বড় ভূমিকা পালন করে।


ঢালিউড তথা বাংলাদেশের সিনেমা বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। শত চেষ্টার পরেও এ দেশের দর্শকদের কোনভাবেই হলমুখী করা যাচ্ছে না। একটা সময় বাংলাদেশে নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে টিকেটের জন্য হাহাকার করতে হত দর্শকদের। টিকেট না পেয়ে হলের সামনে মারামারিতে জড়াতে দেখা যেতো চলচ্চিত্র প্রেমীদের। ৯০ এর দশকে কলকাতার প্রসেন জিৎ, ঋতুপর্নার মতো অভিনয় শিল্পীরা কাজ করতে ছুটে আসতো বাংলাদেশে। তখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ছিল ব্যবসাসফল। সেই সময় একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছে সালমান, শাবনুর, মান্নার মতো শিল্পীরা।


এরপরই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হতে শুরু করে। একে একে ফ্লপের তালিকায় যোগ হতে থাকে সিনেমা।  বর্তমানে টালিগঞ্জ তার হারানো পথ খুঁজে পেয়েছে। একঝাঁক তরুন পরিচালক, অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে টালিউড সিনেমার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে শ্রী ভেংকটেশ বা এসকে মুভিজের মতো প্রযোজনা সংস্থাগুলো। এই কয়েক বছরে এই সব প্রযোজনা সংস্থা শুধু ব্যবসা সফল বা হিট সিনেমাই উপহার দেননি। কলকাতার চলচ্চিত্র বিকাশে নিয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। সরকারের দিকে না তাকিয়ে নিজ খরচে গড়ে তুলেছে সিনেমা হল, সেই সঙ্গে ২৪ ঘন্টা প্রচারণার জন্য চলচ্চিত্র চ্যানেল। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বিনোদন চ্যানেল বা নিউজ চ্যানেল গড়ে উঠলেও, এখন পর্যন্ত কোন চলচ্চিত্র চ্যানেল গড়ে উঠেনি। তবে চলচ্চিত্র প্রেমীদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের হারানো গৌরবকে ফিরিয়ে আনার জন্য চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া বাংলাদেশের প্রাইভেট চ্যানেলের কাতারে যুক্ত করছে চলচ্চিত্র চ্যানেল ‘জাজ টিভি’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রচার ও প্রসারে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যেগ নেবার জন্য জাজ মাল্টিমিডিয়া সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।


জাজ টিভিতে সারাদিন বাংলা সিনেমার গান, সিনেমার ট্রেইলার, খবর, শিল্পী কলাকুশলিদের আড্ডা, আলোচনা, ইন্টারর্ভিউ থাকবে। থাকবে আমাদের এফডিসি’র খবর। ২৪ ঘণ্টার এই চলচ্চিত্র চ্যানেলে থাকবে সাম্প্রতিক সিনেমার গান, ক্লিপ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এই চ্যানেল হবে শতভাগ চলচ্চিত্র বান্ধব চ্যানেল।


এই বছরের প্রথমদিকে চলচ্চিত্র চ্যানেলের কথা বললেও, বৃস্পতিবার ফেইসবুক পেইজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানায়, সিনেমা চ্যানেল শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি জাজ। এখন শুধু সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা। সরকারের অনুমোদন পেলেই শুরু হবে বাংলাদেশের একমাত্র বিনোদন চ্যানেল ‘জাজ টিভি’।


জাজের এই ঘোষনায় চলচ্চিত্র সংশিষ্ট বা চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে আনন্দের বন্যা বইছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। তাদের বিশ্বাস বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বমানের কাতারে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা রাখবে জাজ টিভি ।


বাংলাদেশ২৪অনলাইন/আরআই/এমআই



মন্তব্য