ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮ : ১১ ফাল্গুন, ১৪২৪

ধর্ম প্রচারকদের হত্যা, জনগণ-সরকার মুখোমুখি করার অপচেষ্টা?

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ০৮, ২০১৫ ০৪:০৩
দেশে ধর্ম প্রচারকদের উপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।নির্মমভাবে করা হচ্ছে হত্যা।দুই বছরে দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেনে ছয়জন ধর্ম প্রচারক।একের পর এক ঘটা এসব ঘটনার একটিও কোন কূল-কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে ভুক্তভোগীদের পরিবারে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এধরণের কাজে জড়িতদের পরিবারে।

সবশেষ, এ ঘটনার শিকার হয়েছেন খিজির খান। দুর্বৃত্তরা তাকে নিজের বাসায় গলা কেটে হত্যা করে।তিনি পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।অবসরে যাওয়ার পরে উত্তরাধিকার সুত্রে পীর হিসেবে ধর্ম প্রচারক ছিলেন। এর আগে পাবনার ঈশ্বরদীর একটি গীর্জার ধর্মযাজককে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা।

একইসময়ে হত্যা করা হয়েছে আরো ছয়জন ব্লগারকে।সবমিলিয়ে মোট বারো জনকে প্রায় একই কায়দায় হত্যা করা হয়। ব্লগারদেরকে ইসলামের ‘দুশমন’ হিসেবে হত্যা করা হয়।হত্যাকান্ডের পর একথা স্বীকার করে নেয় জড়িতরা।প্রযুক্তিগত প্রচার মাধ্যমে এই দায় স্বীকার করা হয়।কিন্তু ধর্ম প্রচারদের কেন হত্যা করা হচ্ছে- এনিয়ে কোন ব্যাখ্যা দিচ্ছে না হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতরা।সবগুলো ঘটনাই জনসম্মুখে বা পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘটছে।উদ্দেশ্য হাসিল করে দুর্বৃত্তরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে।

ব্লগার হত্যার ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) অনুসারীরা জড়িত বলে তথ্য পাচ্ছে গোয়েন্দারা। দুটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ব্লগারদের সঙ্গে পীর ও ভিন্ন মতাদর্শীদের হত্যার ধরন মিলছে না।

গেল বছরের আগস্ট মাসের শেষে দিকে প্রাণ হারান শায়খ মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী। ভাড়া  নেওয়া নিজের বাসায় তাকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ছিলেন  তিনি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ সপ্তাহের শুরুতে খুন হন লুৎফর রহমান ফারুকসহ আরো ছয়জন। হত্যার সঙ্গে জড়িতরা মুরিদ সেজে লুৎফরের বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে।ফারুক নিজেকে পীর হিসিবে সবার কাছে পরিচয় দিতেন। একই বছরের আগস্ট মাসে খুলনার ধর্মীয় নেতা তৈয়েবুর রহমান ও তাঁর ছেলে নাজমুম মনিরকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনাও ঘটে রহমানের নিজের বাসায়। মুসলিম উম্মাহ প্রধান ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের পূর্বাচল এলাকায়  খাদেমসহ ফকির রহমত উল্লাহকে  গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে রহমতের নিজের আস্তানায়।

কেন, কারা হত্যা করছে? একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী ঘটনার সঙ্গে জড়িত।ভিন্ন মতাদর্শের কারণে হত্যা করা হতে পারে। প্রতিটি ঘটনার পর গদবাঁধা এই বক্তব্য দিচ্ছে ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা যাবে না- এভাবেই দায় সারছেন তারা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন,  বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ।দেশের মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে কৌশলে উস্কে দেওয়ার জন্য একটি গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে। এজন্য ধর্মের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর ভালবাসাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।বলছে, ধর্মপ্রচারকদের হত্যার ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকলে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না ইসলামিদলগুলো।নেমে আসবে রাজপথে। ধর্মীয় কারণে সাধারণ মুসলমানদের সমর্থন পাবে সহজেই। ফলে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের মতো বড়ধরণের জনবিস্ফোরণ ঘটা অস্বাভাবিক নয়।আর এধরণের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে বেশ বেগ পোহাতে হবে- মন্তব্য বিশ্লেষকদের। আরো বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার একটা অপচেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনো হচ্ছে এসব ঘটনা। কারণ হামলাকারী জানের ক্ষতি করলেও মালের কোন অনিষ্ট করছে না। হত্যাকান্ডের পর দৃশ্যত ভুক্তভোগীর সম্পদ দখলের চেষ্টাও করা হচ্ছে না। এসব কারণে হত্যাকান্ডগুলো  পরিকল্পিত। তাই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে জড়িতদের আইনের মুখোমুখি করার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে তাগাদা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এমআই



মন্তব্য